শেখ সাদীর গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শেখ সাদীর গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৪. শেখ সাদী (রহঃ) এর কয়েক টি বিখ্যাত উপদেশ ১ম অংশ

১. অজ্ঞের পক্ষে নীরবতাই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম পন্থা। এটা যদি সবাই জানত তাহলে কেউ অজ্ঞ হত না।

২. অকৃতজ্ঞ মানুষের চেয়ে কৃতজ্ঞ কুকুর শ্রেয়।

৩. আমি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশী ভয় পাই, তার পরেই ভয় পাই সেই মানুষকে যে আল্লাহকে মোটেই ভয় পায় না।

৪.এমনভাবে জীবনযাপন করে যেন কখনো মরতে হবে না, আবার এমনভাবে মরে যায় যেন কখনো বেচেই ছিল না।

৫. হিংস্র বাঘের উপর দয়া করা নীরিহ হরিনের উপর জুলুম করার নামান্তর।

৬. যে সৎ, নিন্দা তার কোন অনিষ্ট করতে পারে না।

৭. প্রতাপশালী লোককে সবাই ভয় পায় কিন্তু শ্রদ্ধা করে না।

৮. দেয়ালের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় সতর্ক হয়ে কথা বলো, কারন তুমি জান না দেয়ালের পেছনে কে কান পেতে দাঁড়িয়ে আছে।

৯. মুখের কথা হচ্ছে থুথুর মত, যা একবার মুখ থেকে ফেলে দিলে আর ভিতরে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই কথা বলার সময় খুব চিন্তা করে

বলা উচিত।

১০. মন্দ লোকের সঙ্গে যার উঠা বসা, সে কখনো কল্যানের মুখ দেখবে না।

১১. দুই শত্রুর মধ্যে এমন ভাবে কথাবার্তা বল, তারা পরস্পরে মিলে গেলেও যেন তোমাকে লজ্জিত হতে না হয়।

১২. বাঘ না খেয়ে মরলেও কুকুরের মতো উচ্ছিষ্ট মুখে তুলে না।

১৩. ইহ- পরকালে যাহা আবশ্যক তাহা যৌবনে সংগ্রহ করিও|

১৪. কোন কাজেই প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করিও না|

১৫. তিন জনের নিকট কখনো গোপন কথা বলিও না- (ক) স্ত্রী লোক. (খ) জ্ঞানহীন মূর্খ. (গ) শত্রু।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রাসেল

পারস্যের মহাকবি শেখ সাদীর উপদেশ ও বিখ্যাত বানী সমূহ ..!!

| | ✮ অজ্ঞের পক্ষে নীরবতাই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম পন্থা।এটা যদি সবাই জানত তাহলে কেউ অজ্ঞ হত না।

| ✮ অকৃতজ্ঞ মানুষের চেয়ে কৃতজ্ঞ কুকুর শ্রেয়।

. ✮ আমি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশী ভয় পাই, তার পরেই ভয় পাই সেই মানুষকে যে আল্লাহকে মোটেই ভয় পায় না।

| ✮ এমনভাবে জীবনযাপন করে যেন কখনো মরতে হবেনা,আবার এমনভাবে মরে যায় যেন কখনো বেচেই ছিলনা।

| ✮ হিংস্র বাঘের উপর দয়া করা নীরিহ হরিনের উপর জুলুম করার নামান্তর।

| ✮ যে সৎ, নিন্দা তার কোন অনিষ্ট করতে পারেনা।

| ✮ প্রতাপশালী লোককে সবাই ভয় পায় কিন্তু শ্রদ্ধা করে না।

| ✮ দেয়ালের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় সতর্কহয়ে কথা বলো, কারন তুমি জান না দেয়ালের পেছনে কে কান পেতে দাঁড়িয়ে আছে।

| ✮ মুখের কথা হচ্ছে থুথুর মত, যা একবার মুখ থেকে ফেলেদিলে আর ভিতরে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই কথা বলার সময়খুব চিন্তা করে বলা উচিত।

| ✮ মন্দ লোকের সঙ্গে যার উঠা বসা, সে কখনো কল্যানের মুখ দেখবে না।

| ✮ দুই শত্রুর মধ্যে এমন ভাবে কথাবার্তা বল, তারা পরস্পরে মিলে গেলেও যেন তোমাকে লজ্জিত হতে না হয়।

| ✮ বাঘ না খেয়ে মরলেও কুকুরের উচ্ছিষ্ট মুখে তুলে না।

| ✮ অযোগ্য লোককে দায়িত্ব দেওয়া চরম দায়িত্ব হীনতা । | ✮ ইহ- পরকালে যাহা আবশ্যক তাহা যৌবনে সংগ্রহ করিও

| ✮ কোন কাজেই প্রমাণ ছাড়া বিশ্বাস করিও না

| ✮ তিন জনের নিকট কখনো গোপন কথা বলিও না-

(ক) স্ত্রী লোক. (খ) জ্ঞানহীন মূর্খ. (গ) শত্রু

| ✮ না শিখিয়া ওস্তাদি করিও না

| ✮ পথের সম্বল অন্যের হাতে রাখিও না

| ✮ পরিক্ষা ভিন্ন কিছু বিশ্বাস করিও না

| ✮ বল অপেক্ষা কৌশল শ্রেষ্ঠ ও কার্যকারী

| ✮ বানরকে স্নেহ করিলে মাথায় উঠে

| ✮ বিড়ালকে স্নেহ করিলে কোলে উঠে

| ✮ মিথ্যাবাদীর স্বরণশক্তি অধিক|

| ✮ সকল কাজেই মধ্যপন্থা অবলম্বন করিও|

| ✮ স্ত্রী লোককে বেশী বিশ্বাস করিও না|

| ✮ একজন ঘুমন্ত ব্যক্তি আর একজন ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগ্রত করতে পারে না ।

| ✮ বিদ্যা এমন সম্পদ যা বিতরনে বাড়ে ।

| ✮ ভদ্র লোক সেই, যে সত্যের উপাসক ।

| ✮ যে সৎ, নিষ্ঠা তার কোন অনিষ্ঠ করতে পারেনা

| ✮ প্রতিশ্রুতি খুব কম দিও । দয়া করবার আগে ন্যায়বান হও ।

| ✮ নিজের হাতের উপার্জিত একটি রুটি,অন্যের দয়ায় দেওয়া খোরমা পোলাওয়ের চাইতে ও উত্তম।

| ✮ এক জনের জুতো নেই। এই নিয়ে তার আক্ষেপ।তার আক্ষেপ ঘুচল। কেননা সে দেখল এক জনের পা-ই নেই।

২৩. পোষাকের গুন- শেখ সাদির গল্প

শেখ সাদি সম্রাটের কাছ থেকে দাওয়াত পেল। সে তখন রওনা হলো। যেতে যেতে রাত হলো। শেখ সাদি তখন একজনকে বললেন, ভাই রাত হয়ে গেছে আমাকে রাতে থাকার জন্য অনুমতি দিবেন। তারা তখন একটি ছোট্ট ঘর ও কিছু খাবার দিয়ে বললেন আজ রাতে এখানেই থাকুন।

পরের দিন শেখ সাদি বিদায় নিয়ে রওনা হলেন। সম্রাটের কাছে পৌছে গেলে তিনি। সম্রাট শেখ সাদির সাথে গল্প-উপন্যস-কবিতা নিয়ে আলোচনা করে খুব খুশি হলেন। শেষ সাদির বিদায় বেলায় তাকে সম্রাট বেশ দামি জিনিষ পত্র উপহার দিলে। সেই সাথে একটি খুব সুন্দর ও দামি একটি পোষাকও উপহার দিলেন। শেখ সাদি সেই পোষকা পরে এবং উপরহার নিয়ে বিদায় নিলেন।

ফিরার পথে সেই স্থানেই আবার রাত হলো। সে ঠিক সেই ভাবেই অনুরোধ করলেন রাত থাকার জন্য। সেই বাড়ির লোকেরা তাকে দেখে সন্মানের সহিত তাদের সোবার ঘরে ঘুমানো ব্যবস্থা সহ খুব বড় ধরনের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করলেন। শেখ সাদি সকলের সাথে থেতে বসলেন। কিন্তু তিনি না খেয়ে তার পোষাকের পকেটে খাবার গুলো ভোরতে লাগলেন। তা দেখে বাড়ির একজন কৌতুহল ধরে না রাখতে পেরে তাঁকে জ্ঞিগাসা করলেন, আচ্ছা আপনি না খেয়ে খাবার গুলোকে পোষাকের পকেটে কেন রাখছেন।

শেখ সাদি বললেন : আমি যখন ক’দিন আগে এ বাড়িতে রাত্রি যাপন করেছিলাম তখন আমার অবস্থা এমন ছিল না। খুব সাধারন ছিলাম আমি। তাই আমার সমাদরও ছিল খুব সাধারন। আজ আবার যখন এবারিতে আসলাম রাত্রি যাপন করার জন্য তখন আমার অবস্থা খুব উচ্চ অবস্থায়। এসব এই পোষাকের গুনেই হয়েছে। তাই খাবার গুরো তারই প্রাপ্য। তাই আমি না খেয়ে পোষাকে তা খাওয়াচ্ছি।

একথা শুনে তাদের খুব লজ্জা হলো এবং এরকম ব্যবহারের জন্য তারা শেখ সাদির কাছে খমা চাইলেন।

(ইহা শুধু একটি গল্পই না। আমাদের জীবনের খুব বড় ধরনের বাস্তব ঘটনা।)

২২. কৃতজ্ঞতা- শেখ সাদির গল্প

শেখ শাদী (র) সাধারনত খুবই সাদাসিদে জীবনযাপন করতেন। একবার এক দাওয়াতে তিনি ছেড়া ও নোংরা কাপড় চোপড় পড়ে চলে গেলেন। তাই মেজবান তাকে চিনতে না পেরে ফকির ভেবে অপেক্ষাকৃত কম ও অনুন্নত খাবার দিলেন। শেখ শাদী বিষয়টি বুঝতে পারলেন। তিনি ঐ কম ও অনুন্নত খাবার খেয়ে ফিরে এলেন এবং কিছুক্ষন পর আবার ভালো ও শাহেনশাহী কাপড় চোপড় পড়ে ঐ বাড়িতে গেলেন। এবার তার সামনে সকল উন্নত খাবার দাবার ও যথাযত সম্মান দেখানো হলো। তিনি খাবার খেতে বসে কিছু খেলেন এবং কিছু খাবার তার পরনে পরা জামার পকেটে ঢুকালেন ।

এই অবস্হা দেখে মেজবান প্রশ্ন করলেন, জনাব এটা কি করছেন ?

জবাবে শেখ শাদী (র) বললেন, একটু আগে আমি এসেছিলাম, আমার শরীরে ছিলো ছেড়া ও নোংরা কাপড়। তাই আপনি আমাকে যেভাবে সম্মান দেখালেন এখন আমার বেশভুসার কারনে আমাকে তার ছেয়ে অনেক বেশি সম্মান দেখিয়েছেন। তাই ভাবলাম এই সম্মান ও খাবার দাবার আমার প্রাপ্য নয়, ওগুলো সব ঐ বেশভুসার।

সেই মহান ব্যাক্তিকে একদিন একজন প্রশ্ন করলেন, জনাব আপনি এত আদব কিভাবে শিখলেন ?

তিনি জবাব দিলেন, দুনিয়ার সকল বেয়াদবদের দেখে দেখে আমি আদব শিখেছি।

কিভাবে ? আবার প্রশ্ন ।

তিনি জবাব দিলেন, যখন বেয়াদবরা তাদের বেয়াদবি আচরন করে আর দুনিয়ার মানুষ সেটাকে ঘৃনা করে তখন বুঝে নেই এই আচরনটা আমার করা উচিৎ নয়। এভাবেই আমি বেয়াদবদের কাছ থেকে আদব শিখি।

এক প্রভাবশালী ।সম্রাট এক অভিজ্ঞ শিক্ষাকের হাতে রাজকুমারের শিক্ষার ভার দিয়ে বললেনঃ শুনুন ওস্তাদজী! এ ছেলে আপনার নিজের সন্তান মনে করে শিক্ষা দেবেন।। কোন রকম ত্রুটি করবেন না। ওস্তাদজী সবিনয়ে বললেনঃ জো হুকুম জাঁহাপানা। বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি প্রাণপন প্রচেষ্টা চালালেন। কিন্তু যুবরাজকে তিনি বিদ্যাবুদ্ধি কিছু শিখাতে পারলেন। পক্ষান্তরে তার নিজের ছেলেরা জ্ঞানে গুণে শীর্ষস্থান অধিকার করল।। এই সংবাদ শুনে সম্রাট ভীষণ রেগে গেলেন এবং ওস্তাদকে গ্রেফতার করে এনে খুব রকম তিরষ্কার করে বললেনঃ আপনি আমার সা্থে কর্তব্য ও ওয়াদা খিলাফ করেছেন।। । সিংহাসন চুম্বন করে শিক্ষক সাহেব করজোর নিবেদন করলেনঃ হে রাজাধিরাজ! আপনার মত জ্ঞানী সম্রাটের এ কথা অজানা থাকার কথা নয় যে, শিক্ষকরা সকল শিক্ষার্থীকে সমান শিক্ষাই দিয়ে থাকেন, কিন্তু শিক্ষা গ্রহনের যোগ্যতা সকল ছাত্রের সমান থাকে না। শোনেন নি? “স্বর্ণ ও রৌপ্য পয়দা পাথরেই হয় তা বলে পাথর সব স্বর্ণ রোপ্য নয়… সূর্য। সর্বত্র দেয় কিরণ সমান; কোথা বা আগাছা জন্মে কোথা গুলিস্থান।।” শিক্ষাঃ গর্বি ছাত্রদের স্মরণ শক্তি কম, সে রাজার ছেলে হোক আর প্রজার ছলেই হোক, এলেম ধরে রাখতে পারে না। যিনি ওস্তাদ তিনি সকল ছাত্রকে সমান নজরেই দেখেন, যথাসাধ্য জ্ঞান বিতরণ করেন। কোন ছাত্র উক্ত জ্ঞান ধরে রাখতে পারে, আবার কেউ ধরে রাখতে পারে না। সকলের যোগ্যতা সমান নয়।

শেখ শাদী (র) সাধারনত খুবই সাদাসিদে জীবনযাপন করতেন। একবার এক দাওয়াতে তিনি ছেড়া ও নোংরা কাপড় চোপড় পড়ে চলে গেলেন। তাই মেজবান তাকে চিনতে না পেরে ফকির ভেবে অপেক্ষাকৃত কম ও অনুন্নত খাবার দিলেন। শেখ শাদী বিষয়টি বুঝতে পারলেন। তিনি ঐ কম ও অনুন্নত খাবার খেয়ে ফিরে এলেন এবং কিছুক্ষন পর আবার ভালো ও শাহেনশাহী কাপড় চোপড় পড়ে ঐ বাড়িতে গেলেন। এবার তার সামনে সকল উন্নত খাবার দাবার ও যথাযত সম্মান দেখানো হলো। তিনি খাবার খেতে বসে কিছু খেলেন এবং কিছু খাবার তার পরনে পরা জামার পকেটে ঢুকালেন ।

এই অবস্হা দেখে মেজবান প্রশ্ন করলেন, জনাব এটা কি করছেন ?

জবাবে শেখ শাদী (র) বললেন, একটু আগে আমি এসেছিলাম, আমার শরীরে ছিলো ছেড়া ও নোংরা কাপড়। তাই আপনি আমাকে যেভাবে সম্মান দেখালেন এখন আমার বেশভুসার কারনে আমাকে তার ছেয়ে অনেক বেশি সম্মান দেখিয়েছেন। তাই ভাবলাম এই সম্মান ও খাবার দাবার আমার প্রাপ্য নয়, ওগুলো সব ঐ বেশভুসার।

সেই মহান ব্যাক্তিকে একদিন একজন প্রশ্ন করলেন, জনাব আপনি এত আদব কিভাবে শিখলেন ?

তিনি জবাব দিলেন, দুনিয়ার সকল বেয়াদবদের দেখে দেখে আমি আদব শিখেছি।

কিভাবে ? আবার প্রশ্ন ।

তিনি জবাব দিলেন, যখন বেয়াদবরা তাদের বেয়াদবি আচরন করে আর দুনিয়ার মানুষ সেটাকে ঘৃনা করে তখন বুঝে নেই এই আচরনটা আমার করা উচিৎ নয়। এভাবেই আমি বেয়াদবদের কাছ থেকে আদব শিখি।

20. ন্যায়পরায়ন শিক্ষক- শেখ সাদির গল্প

এক প্রভাবশালী ।সম্রাট এক অভিজ্ঞ শিক্ষাকের হাতে রাজকুমারের শিক্ষার ভার দিয়ে বললেনঃ শুনুন ওস্তাদজী! এ ছেলে আপনার নিজের সন্তান মনে করে শিক্ষা দেবেন।। কোন রকম ত্রুটি করবেন না।

ওস্তাদজী সবিনয়ে বললেনঃ জো হুকুম জাঁহাপানা।

বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি প্রাণপন প্রচেষ্টা চালালেন। কিন্তু যুবরাজকে তিনি বিদ্যাবুদ্ধি কিছু শিখাতে পারলেন। পক্ষান্তরে তার নিজের ছেলেরা জ্ঞানে গুণে শীর্ষস্থান অধিকার করল।। এই সংবাদ শুনে সম্রাট ভীষণ রেগে গেলেন এবং ওস্তাদকে গ্রেফতার করে এনে খুব রকম তিরষ্কার করে বললেনঃ আপনি আমার সা্থে কর্তব্য ও ওয়াদা খিলাফ করেছেন।। ।

সিংহাসন চুম্বন করে শিক্ষক সাহেব করজোর নিবেদন করলেনঃ হে রাজাধিরাজ! আপনার মত জ্ঞানী সম্রাটের এ কথা অজানা থাকার কথা নয় যে, শিক্ষকরা সকল শিক্ষার্থীকে সমান শিক্ষাই দিয়ে থাকেন, কিন্তু শিক্ষা গ্রহনের যোগ্যতা সকল ছাত্রের সমান থাকে না। শোনেন নি?

“স্বর্ণ ও রৌপ্য পয়দা পাথরেই হয়

তা বলে পাথর সব স্বর্ণ রোপ্য নয়…

সূর্য। সর্বত্র দেয় কিরণ সমান;

কোথা বা আগাছা জন্মে কোথা গুলিস্থান।।”

শিক্ষাঃ গর্বি ছাত্রদের স্মরণ শক্তি কম, সে রাজার ছেলে হোক আর প্রজার ছলেই হোক, এলেম ধরে রাখতে পারে না। যিনি ওস্তাদ তিনি সকল ছাত্রকে সমান নজরেই দেখেন, যথাসাধ্য জ্ঞান বিতরণ করেন। কোন ছাত্র উক্ত জ্ঞান ধরে রাখতে পারে, আবার কেউ ধরে রাখতে পারে না। সকলের যোগ্যতা সমান নয়।

১৯. সত্যিকার মানুষ-শেখ সাদীর গল্প

শত্রুদের ওপর রাজা বাদশাদের এত বেশি ক্রোধ চালান উচিত না। যেন বন্ধুরা তাদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলে। ক্রোধের আগুনে শত্রু জ্বলুক বা না জ্বলুক ক্রোধান্বিত ব্যক্তির অবশ্য জ্বলতে হয়। মাটির তৈরী মানুষের মনে বিন্দুমাত্র অহংকার বা আত্নাভিমান থাকা উচিত নয়।

তোমার মাঝে যদি এসব থাকে, তাহলে মনে করব, তুমি মাটির তৈরি নও; বরং আগুনের তৈরি। এক সাধকের সাথে ইরানে গিয়েছিলাম। তাকে বললামঃ হুজুর আমার অজ্ঞতা দূর হয় এমন উপদেশ দিন।

তিনি বললেনঃ মাটির মতো নও। না হয় জ্ঞানের বই পুস্তক যা যা পড়েছ তা সব মাটির নিচে পুতে রাখ।

শিক্ষাঃ হিংসা ও ক্রোধের আগুন শুত্রুর ক্ষতি হোক বা না হোক হিংসুক ও ক্রোধান্বিত ব্যক্তির ক্ষতি হবেই; কারণ, ওই আগুন দ্বারা নিজের অন্তরকেই দগ্ধ করা হয়। মাটির মানুষ মাটির মতো হওয়াই উচিত।মাটির মতো হতে না পারলে জ্ঞান অর্জন করে কোন লাভ নেই। জ্ঞানী ব্যক্তিরাই মাটির মতো হতে পারেন।

১৮. মানির মান মানিরাই জানে- শেখ সাদির গল্প

দ্বিগ্বিজয়ী মহামতি আলেকজান্ডারকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলঃ মাশরেক থেকে মাগরিব পর্যন্ত এত দেশ আপনি কি করে জয় করেছেন? তখনকার দিনের রাজা বাদশাহদের হায়াত, ধনরত্ন ও সৈন্য সামন্ত আপনার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। এতদেশ জয় করা আর কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি।

তিনি উত্তর দিয়ে বললেনঃ খোদার অশেষ অনুগ্রহে এটা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে, তবে যে দেশ আমি অধিকার করেছি, তার অধিবাসীদেরকে কখনও কষ্ট দেইনি এবং সে দেশের পূর্বপুরুষদের ভালো ভালো প্রথা পদ্ধতিগুলো বাতিল করিনি। আর বিজিত দেশের রাজা বাদশাদের নাম সসম্মানে উচ্চারণ করছি। অবজ্ঞা করে তুচ্ছভাবে লইনি।

“সম্মানীর নাম যেবা তুচ্ছভাবে লয়,

জ্ঞানী লোকে তারে কভু সম্মানী না কয়।

এই দুনিয়ায় স্থায়ী কিছু নয়,

সব কিছু চলে যায় বাড়ি, গাড়ি, ধন, রাজসিংহাসন কিছু নাহি বাকি রয়।

চলে গেছে যারা সুনাম তাদের করিতে না হয় বিমমিন।

তোমার সুনামও রবে দুনিয়ায়,

অম্লান চির দিন।”

শিক্ষাঃ যিনি জ্ঞানী ও সম্মানীত ব্যক্তিদেরকে সম্মান প্রদর্শন করেন, তিনি উচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তিতে পরিনত হন। সমাজে যিনি মর্যাদাবান ব্যক্তি, তাকে ইজ্জত দিলে সে সমাজে প্রত্যাগত (আগন্তুক) ব্যক্তি প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেন।

১৭. নাস্তিকের সাথে বাহাছ

একবার এক খোদাদ্রোহী নাস্তিকের সাথে একজন নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞ আলেমের বাহাছ হয়েছিল। নাস্তিকের সাথে তর্কযুদ্ধে না পেরে আলেম সাহেব পরাজয় স্বীকার করেন এবং পিছপা হয়ে ফিরে আসেন।

এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করলঃ হুজুর! আপনি এদেশের অদ্বিতীয় আলেম। কুরআন,

হাদিস, মানতিক, ইলমে কালাম প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে এত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও একজন ধর্মদ্রোহীর সাথে যুক্তিতর্কে হেরে গেলেন। কারণ কি?

তিনি উত্তর দিলেনঃ বাবা আমার ইলম কুরআন, হাদীস এবং বুযুর্গানে দ্বীনদের সিদ্ধান্ত থেকে হাসিল করেছি। এ সবের কোনটাই সে বিশ্বাস করে না এবং মানেও না। সে যখন ধর্মের মূল্যবান মন্তব্য মন দিয়ে শোনে না, তখন তার বাজে বক্তব্য শুনে আমার কি লাভ।

“কুরআন-হাদিসে নাই বিশ্বাস যার,

উত্তর না দেওয়াটাই উত্তম তার।”

শিক্ষাঃ নির্ভরযোগ্য কোন বিজ্ঞ আলেমের উচিত নয় মূর্খ ও নাস্তিকের সাথে বাহাছ করা। যারা কুরআন ও হাদিস বুঝে না তাদের সাথে অযথা কথা কাটাকাটি করে লাভ নেই।

১৬. অপরিণামদর্শী ছেলে- শেখ সাদির গল

এক দরিদ্র দরবেশের পুত্র তার পিতৃব্যদের উত্তরাধিকার সূত্রে বিস্তার ধনরত্নের মালিক হয়েছিল। আনন্দে আত্নহারা হয়ে সে অসংখ্য অন্যায় অপকর্মে লিপ্ত হলো এবং অর্থের অপব্যয় শুরু করে দিল। মোটকথা এমন কোন অন্যায় কাজ রইল না, যা সে না করল এবং এমন কোন নেশার জিনিস ছিল না, যা সে পান না করল।

একদা উপদেশস্বরূপ তাকে সস্নেহে বললামঃ বাবা! আয় রোজগার স্রোতের পানির পত এবং ব্যয় আবর্তিত পাথর নুড়ির মত। স্রোতের বেগের অনুপাতে নুড়ি গড়ায়। অর্থাত অপরিমিত ব্যয় ওই ব্যক্তি করতে পারে, যার আয়ও নদীর পানির মত নিয়মিত। তোমার নিয়মিত অর্থ আয়ের যখন ব্যবস্থা নেই, তখন অর্থ ব্যয় একটু কমাও। বিবেক বুদ্ধি কাজে লাগাও, অযথা আমোদ-প্রমোদ ছেড়ে মিতব্যয়ী হও। আয়হীন সীমিত ধন-ভান্ডার একদিন ফুরিয়ে যায়। তখন অর্থাভাবে কষ্ট পাবে এবং লোক সমাজে লজ্জিত হবে। সময় থাকতে সতর্ক হও।

আমোদ-প্রমোদের মোহে মত্ত ছেলেটা আমার কথায় কর্নপাত করল না। বরং প্রতিবাদ করে বললঃ অনাগত দুঃখের কথা ভেবে আশু আনন্দ নষ্ট করা যুক্তি বিরুদ্ধ। তাছাড়া দান, ধ্যান, ও দয়া দাক্ষিণ্যে বর্তমানে আমি সমাজে মানবতার শীর্ষ স্থানে অধিষ্ঠিত। দেশের আপামর জনসাধারণের মুখে সর্বত্র আমার সুনাম,সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় কি করে আমি আমার উদার নীতির পরিবর্তন করতে পারি।

দেখলাম আমার নরম নসীহত তার মোহান্ধ গরম হৃদয়ে প্রবেশ করল না; বরং আবেগের বন্যায় আমার যুক্তির বাধ তৃণের ন্যায় ভেসে গেল। অগত্যা বৃথা উপদেশ বর্ষণ থেকে বিরত রইলাম এবং বিরক্তির সাথে তার সংশ্রব ত্যাগ করলাম।

জ্ঞানী মনিষীরা বলে গেছেন, উচিত কথা বলা উচিত, তাই বল।

মানলে ভাল, না মনলে তোমার কোন ক্ষতি হবে না।

এরপর আমি যা ধারণা করেছিলাম, কার্যত তাই হলো। অল্পদিন পরেই সেই অদুরদর্শী যুবক অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ল। তার সুদিনের বন্ধুরা একে একে সরে পড়ল। অগ্যতা সে ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করতে বাধ্য হলো।

একদিন দেখলামঃ তালি দেয়া পুরানো পোশাকে সে দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করছে। তার দুঃখ-দুর্দশা দেখে মনে বড় দুঃখ হলো। কিন্তু মানবতার খাতিরে তিরষ্কার করে কাটা ঘায়ে নুনের ছিলা দেয়া সংগত মনে করলাম না।

শিক্ষাঃ ছোট লোকের ছেলে বড় হলে পেছনের কথা ভুলে যায়, সম্পদ হাতে আসলে হিসাব না করেই খরচ করে। পরিণাম কি হবে চিন্তা করে না। জ্ঞানী লোকের উপদেশ বানের পানির মত ভেসে যায়। পরিশেষে তারা হীন অবস্থায় পতিত হয়।

১৫. যেমন ছাত্র তেমন শিক্ষক-শেখ সাদির গল্প

পাশ্চাত্য পরিভ্রমণকালে এক মক্তবে একজন শিক্ষক দেখেছিলাম। ওই ধরনের শিক্ষক আমি আর দেখিনি। লোকটা ছিল বেজায় বদমেজাজী, কর্কশভাষী, নির্দয়, অসামাজিক, কঠোর প্রকৃতির একটা ভয়াবহ মূর্তি। তার মুখের দিকে তাকালে মন বিরক্তিতে ভরে ওঠে, আলাপ করার আগ্রহ থাকে না। আর তার কুরআন শরীফ পড়ানো শুনলে মুসলমানের মনেও ভক্তির পরিবর্তে বিতৃষ্ণা জন্মে। একপাল কোমলমতি নিষ্পাপ ছাত্র-ছাত্রী তার নির্মম নির্যাতনের ভয়ে সদা সন্ত্রস্ত্র। কারো দিকে চেয়ে কেউ একটু মুচকি হাসবে বা একটা শব্দ করবে, তার জো নেই। তার মুখে তর্জন-গর্জন লেগেই আছে, আর তার বলিষ্ঠ নির্দয় হাত দুটো কারো কোমল মুখে চড়, কারো পিঠে বেত্রাঘাত অথবা কারো কান ধরে সজোরে মুচড়ে দেয়া প্রভৃতি শাসন কার্যে ব্যস্ত। সারা মক্তব গৃহটা যেন একটা বিভীষিকার কারাগার। এমন দৃশ্য আমার কঠিনমনে বড় বেদনাদায়ক মালুম হলো।

কিছু দিন পর শুনলাম, কি একটা অন্যায় অপরাধে, সেই শিক্ষককে উত্তম মাধ্যম দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তার স্থলে আর একজন ভাল শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়েছে। বলাবাহুল্য, শুনে স্বভাবতই ভারী খুশি হলাম। নবাগত শিক্ষকটি ছিলেন পূর্বতন শিক্ষকের সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের। ইনি ছিলেন সরল স্বভাব, স্পষ্টভাষী, মধুর ব্যবহার, বিনয়ী ও মিশুক প্রকৃতির। বেহুদা কথা বলেন না কারো মনে ব্যথা পায় এমন কাজও করেন না। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পুত্রবত স্নেহ করেন।

অল্পদিনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মন থেকে শিক্ষক ভীতি উধাও হয়ে গেল। এবং ওস্তাদিনের ফেরশতা স্বাভাবের সুযোগে ছাত্রদের মধ্যে দৈত্যসুলভ স্বভাব দেখা দিতে লাগল। একদল খেলাধুলায় মেতে উঠল আর একদল অপরের মাথায় শ্লেট ভেঙ্গে কুরুক্ষেত্র শুরু করে দিল। ওস্তাদজীর সীমাহীন ধৈর্য থাকার শাসন ক্ষমতা ছিল শিথিল। ফলে শিক্ষার্থীরা নতুন পড়ালেখা তো ছেড়েই দিল। অধিকন্তু পুরনো পড়া যা ছিল, তাও বেমালুম ভূলে গেল। অবশেষে অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়াল যে, বিদ্যালয় আর বিদ্যালয় রইল না। মারামারি ও খেলার আড্ডায় পরিণত হল।

“যে শিক্ষম স্নেহবসে ছাড়িবে শাসন তার হাতে মাটি হবে ছাত্রের জীবন।”

সপ্তাহ দুই পরে আবার সেই পথ দিয়ে যাচ্ছি-দেখি সেই সাবেক শিক্ষক আবার সগৌরবে তার সাবেক আসন দখল করে জেঁকে বসেছেন। তার দুর্দান্ত প্রতাপে মক্তব গৃহ নিরব, নিস্তব্ধ। ভয়ে ভয়ে সবাই নিজ সবক ইয়াদে ব্যস্ত। ক্ষোভ ও বিরক্তিতে মনটা ভরে উঠল। মুখে বললামঃ আবার কেন ইবলিশকে ফেরশতাদের ওস্তাদ বানান হয়েছে। একজন বিজ্ঞ বহুদর্শী বৃদ্ধ আমার কথা শুনে হেসে দিয়ে বললেনঃ মা-বাবার স্নেহ চুম্বনের চেয়ে ওস্তাদের বেত্রাঘাত উত্তম। শোনেন নি?

“এক রাজা দিয়েছিল পুত্রকে স্কুলে

সোনার প্লেট কিনে দিল তার কোলে

সোনার হরফে লেখা ছিল পাশে তার

পিতৃ স্নেহ হতে, ভাল গুরুর অত্যাচার।”

শিক্ষাঃ যেমন ছাত্র তেমন শিক্ষা গুরু না হলে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায় না। ছাত্র যদি বেয়াদব বা দুষ্টু প্রকৃতির হয় তবে কড়া নজরের শিক্ষক প্রয়োজন। দুষ্টু ছেলেদের গরম মেজাজের শিক্ষক না হলে লেখাপড়া হয় না। ভদ্র, নরম প্রকৃতির ওস্তাদের কাছে দুষ্টু ছেলেদের লেখাপড়া হয় না। তাদের ভদ্রতা ও ধৈর্য্যের কাছে তারা হয়ে উঠে বেয়াদব ও উচ্ছৃঙ্খল।

১৪. আজব জন্ম-শেখ সাদির গল্প

জ্ঞানী মনীষীরা তাদের গ্রন্থে লিখেছেন যে, অন্যান্য কীট- পতঙ্গের মত বিছার ভূমিষ্ট হবার নির্দিষ্ট সময় নেই। ওগুলো নিজেদের মায়ের উদরের গোশত খেয়ে যখন পেট ফেটে যায়, তখন মা মারা যায় এবং বাচ্চারা বেরিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বিছার গর্তে যে খোলস দেখতে পাওয়া যায়, এগুলো সেই মৃত মায়ের দেহাবশেষ।

এই তত্ত্ব একজন বুজুর্গ লোকের সামনে বর্ণনা করছিলাম। তিনি বললেনঃ এ কথার সত্যতা সম্পর্কে আমার বিবেকও সায় দেয়। এ রকম হওয়াটাই স্বাভাবিক। কেননা, বিছার শৈশবে তাদের মায়ের সাথে নির্দয় ব্যবহার করে বলেই বড় হয়ে মানুষের এত প্রিয় হয়ে থাকে।

“পিতা বলেছিল তার পুত্রকে একদা,

মোর এই উপদেশ মনে রেখ সদা।

যে করে স্বজন সাথে শত্র ব্যবহার

হবে না কারো বন্ধু জগত মাঝার।”

বিছাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তুমি শীতকালে বাইরে বেরোওনা কেন?

সে উত্তরে বলেছিলঃ গ্রীষ্মকালে বেরিয়ে লোকের কাছে যে সম্মান পাই, তার ওপর আবার শীতকালেও বেরোব?

শিক্ষাঃ যেমন কর্ম তেমন ফল। মা-এর সাথে যেরকম ব্যবহার করা হয়, সমাজে ছড়িয়ে পড়লে সেই রকম ব্যবহার পাওয়া যায় আল্লাহ পাকের সৃষ্টির রহস্যের মধ্যে বিছার সৃষ্টি রহস্য আজব ও বৈচিত্র্যময়।

১৩. ভিক্ষা চাইনে কুকুর ঠেকাও

এক স্থুল বুদ্ধি কবি এক অপরিচিত গ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সে একটা বিরাট বাড়ি দেখে মনে করল, এটা নিশ্চয় কোন আমীর ওমরাহের বাড়ি হবে। কিছু বকশিশ পাওয়ার আশায় সে বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ল। বাড়িটা ছিল সে অঞ্চলের কুখ্যাত দস্যুদলের সর্দারের। বাড়িওয়ালার সামনে গিয়েই কবি তার প্রশংসাসূচক কবিতা তৈরি করে সুললিত কণ্ঠে আবৃতি শুরু করে দিল।

ডাকাত কবিতার মর্ম কি করে বুঝবে? বিরক্ত হয়ে সে তার সাঙ্গপাঙ্গকে হুকুম দিল, বেটার জামা কাপড় কেড়ে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দাও।

সাথে-সাথে নির্দয়ভাবে তাই করা হলো। বেচারা আর কি করবে। উলংগ অবস্থায় সে পথে নামতে বাধ্য হলো। প্রচণ্ড শীতের সকাল। দারুণ ঠান্ডায় রাস্তাঘাট বরফে আচ্ছান্ন। বেচারা কবি বিবস্ত্র অবস্থায় পথে পা দিতেই ন্যাংটা মানুষ দেখে কুকুরের দল ঘেউ ঘেউ করে তাকে ঘিরে ধরল। একেতো শীতে ঠকঠক করে কাঁপছে, তার ওপর চারদিকে আক্রমণোদ্যত কুকুরের পাল। নিরুপায় কবি কুকুর তাড়াবার উদ্দেশ্যে ঢিল ছুঁড়তে চাইল। কিন্তু সর্বত্র বরফে ঢাকা। ঢিল কোথায় পাবে? কঠিন বরফ সরিয়ে সে ঢিল সংগ্রহ করতে পারল না। নিরুপায় হয়ে সে চিতকার করে কেঁদে বলতে লাগলোঃ এ কোন হারামযাদাদের পাল্লায় পড়েছি। দুষ্টুরা কুকুরগুলোকে ছেড়ে দিয়ে আমার পেছনে লাগিয়ে দিয়েছে। আর ঢিলগুলো বরফ দিয়ে বেঁধে দিয়েছে।

দস্যু সরদার বালাখানার জানালা দিয়ে এই দৃশ্য দেখছিল। কবির এই কথা শুনে সে না হেসে থাকতে পারলো না। তার দুর্দশা দেখে একটু দয়াও হলো। কবিকে ডেকে সে বললঃ ওহে সুধী! আমার কাছে কী সাহায্য চাও?

কবি করজোড় নিবেদন করল, দয়া করে আমার কাপড় জামা ফেরত দিলেই বেঁচে যাই। আর সাহায্যের দরকার নাই, ভিক্ষা চাই না কুকুর ঠেকাও।

কবির কাতরোক্তি শুনে নিষ্ঠুর দস্যুর মনেও দয়ায় উদ্রেক হলো এবং তার কাপড়-চোপড় ফেরত দিয়ে দিল। সঙ্গে আর এই প্রস্থ ভাল কাপড় এবং কিছু টাকা পয়সা দিয়ে কবিকে বিদায় করে দিল।

শিক্ষাঃ হিসাব করে কাজ করা উচিত। আমীর-ওমরা অথবা চোর ডাকাতের বাড়ি সাহায্যের জন্য যাওয়া উচিত নয়। তাদের নির্মম হৃদয়ের মধ্যে করুণা নেই। মানুষকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়। রিক্ত হস্তে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে চলে যেতে হয়।