বিখ্যাতদের জীবনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিখ্যাতদের জীবনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দ)


জগদীশচন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দ)

১৯০৯ সালের শেষের দিকে ইতালির গুগ্লিয়েল্‌মো মার্কনি আর জার্মানির কার্ল ফার্ডিন্যান্ড ব্রোনকে যখন পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার দেয়া হলো – সারাবিশ্ব জানলো যে বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা আবিষ্কৃত হয়েছে। অথচ বাঙালি বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও প্রায় একই সময়ে বেতার তরঙ্গ নিয়ে মৌলিক গবেষণা শুরু করেন এবং ১৮৯৫ সালে বিশ্বে সর্বপ্রথম কৃত্রিম মাইক্রোওয়েভ উৎপাদনে সাফল্য লাভ করেন। উদ্ভিদও যে উদ্দীপনায় সাড়া দেয় – এ তথ্য জগদীশ বসুর আগে কেউ উপলব্ধি করেন নি, প্রমাণ করতে পারেন নি। পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশ বসুর অনেক মৌলিক অবদান থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষামূলক পদার্থবিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু আমাদের কাছে উদ্ভিদ-বিজ্ঞানী হিসেবেই বেশি পরিচিত।

জগদীশ বসুর জন্ম ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর, ময়মনসিংহে। তাঁদের আদি নিবাস ছিল ঢাকা জেলার রাঢ়িখালে। তাঁর বাবা ভগবানচন্দ্র বসু ছিলেন ডেপুটি কালেক্টর। টাকা পয়সার অভাব ছিল না তাঁর। কিন্তু তখন ফরিদপুরের সেই গ্রামে কোন স্কুল ছিল না। ছেলেকে কোথায় পড়াবেন ভাবতে ভাবতে ভগবানচন্দ্র মায়ের নামে একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করলেন। জগদীশচন্দ্রের পড়াশোনা শুরু হয় সেই স্কুলে। পরে তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৭৫ সালে ষোল বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন এবং শিক্ষাবৃত্তি লাভ করেন।

সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষা শুরু হলো জগদীশ বসুর। সে সময় ফাদার লাঁফো ছিলেন সেন্ট জেভিয়ার্সের নামকরা ফিজিক্স প্রফেসর। প্রবীণ এই অধ্যাপকের আকর্ষণীয় ক্লাস জগদীশ বসুকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। তিনি ক্রমশঃ পদার্থবিদ্যার প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করতে শুরু করেন। ১৮৭৭ সালে জগদীশ চন্দ্র এফ-এ পাশ করেন এবং ১৮৮০ সালে বি-এ। উভয় পরীক্ষাতেই পদার্থবিদ্যার পাশাপাশি ল্যাটিন ভাষা ছিল তাঁর অন্যতম বিষয়। শুরুতে লক্ষ্য ছিল ডাক্তারী পড়বেন। কিন্তু ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাঁর স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে গেলো। বিলেতে গিয়ে ডাক্তারীতে ভর্তি হয়েও স্বাস্থ্যগত কারণে পড়া হলো না। ন্যাচারাল সায়েন্সে উচ্চতর শিক্ষার জন্য ভর্তি হলেন কেমব্রিজে। ১৮৮২ সালে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি থেকে ফিজিক্সে অনার্স সহ বি-এ পাশ করেন এবং ১৮৮৪ সালে লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে বি-এসসি পাশ করেন।

লন্ডন থেকে ফিরে সেই বছরেই প্রেসিডেন্সি কলেজে ফিজিক্সের প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন তিনি। জগদীশ চন্দ্র বসুর ছাত্রাবস্থাতেই ১৮৭৬ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘ইন্ডিয়ান এসোসিয়েশান ফর দ্যা কালটিভেশান অব সায়েন্স”। ভারতীয় জনসমাজকে বিজ্ঞানের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্যে ডাক্তার মহেন্দ্র লাল সরকার এই এসোসিয়েশান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাঙালিদের মধ্যে বিজ্ঞানচেতনা জাগানোর পক্ষে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই সময়ের বাঙালি বিজ্ঞানী হিসেবে যারা স্বীকৃতি লাভ করেছেন তাঁদের অনেকেই এই এসোসিয়েশানের সঙ্গে কোন না কোন সময়ে যুক্ত ছিলেন। ১৮৮৫ সালে জগদীশ বসু এই এসোসিয়েশানে এক্সপেরিমেন্টাল ফিজিক্সের ক্লাস নিতে শুরু করলেন। এখান থেকেই তাঁর পদার্থবিদ্যার মৌলিক গবেষণা শুরু হয়।

জগদীশ বসুর বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে প্রধানত তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। বিদ্যুৎ তরঙ্গ সম্পর্কীত পদার্থবিদা, জড় ও জীবের সাড়ার ঐক্য, এবং উদ্ভিদের শারীরবৃত্ত সম্পর্কিত গবেষণায় পদার্থবিদ্যার প্রয়োগ। ১৮৯৫ সালে উইলহেল্‌ম রন্টগেনের এক্স-রে আবিষ্কারের পর পদার্থিবিজ্ঞানে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের পথ খুলে যায়। পরমাণু বিজ্ঞান, বেতারে বার্তা পরিবহন, তেজষ্ক্রিয়তা, এটমিক নিউক্লিয়াস সম্পর্কিত যুগান্তকারী আবিষ্কার এসময় বৈজ্ঞানিক মহলে বিরাট প্রভাব ফেলে। এ সময় জগদীশ বসু অদৃশ্য বিদ্যুৎ-তরঙ্গের মাধ্যমে সংকেত বার্তা প্রেরণের গবেষণায় বেশ সাফল্য লাভ করেন। হেন্‌রিখ হার্ট্‌জ, ও গুগ্লিয়েল্‌মো মার্কনির সমসাময়িক জগদীশ বসুই হলেন বিশ্বের প্রথম বৈজ্ঞানিক যিনি ১৮৯৫ সালে সর্বপ্রথম সাফল্যের সাথে মাইক্রোওয়েভ উৎপাদন করেন এবং তার ধর্মাবলীও নির্ধারণ করেন। রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেমের রিমোট সেন্সিং সর্বপ্রথম প্রদর্শন করেন আমাদের জগদীশ চন্দ্র বসু ১৮৯৫ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজে। এর ক’দিন পরে জগদীশ বসু কলকাতার টাউন হলে ৭৫ ফুট দূরে রাখা বারুদের স্তুপে আগুন জ্বালাতে সমর্থ হন নিজের উদ্ভাবিত মাইক্রোওয়েভ কমিউনিকেশানের সাহায্যে।

একই বছর ইতালির গুগ্লিয়েল্‌মো মার্কনি দুই কিলোমিটার দূর থেকে বেতার তরঙ্গ রিসিভ করতে সমর্থ হন। মার্কনির আবিষ্কারের কথা যতটা প্রচার পায় – একই রকম আবিষ্কার হলেও জগদীশ বসুর আবিষ্কারের কথা তদানীন্তন ভারতের বাইরে তেমন একটা প্রচারিত হয় না। এর পেছনে তদানীন্তন ভারতের ইংরেজ শাসকদের একটা প্রকাশ্য ভূমিকা ছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে (১৯৩৫) রেডার আবিষ্কারের পর ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘের বেতার তরঙ্গের নানামুখী প্রয়োগের দিকে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। জগদীশ চন্দ্রের আবিষ্কার একটা নতুন মাত্রা লাভ করে। কিন্তু এর অনেক আগেই জগদীশ বসুর গবেষণা অন্যদিকে মোড় নেয়। পদার্থবিদ্যা থেকে উদ্ভিদের প্রাণ ও সংবেদনশীলতা নিয়ে কাজ শুরু করেন জগদীশ বসু।

অবশ্য এর আগে সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে এবং দেশীয় উপাদানে তৈরি যন্ত্রপাতি দিয়ে জগদীশ বসু একটা বৈদ্যুতিক সংবেনশীল যন্ত্রের মডেল তৈরি করেন যা অনেকটা কম্পিউটারের সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটের মত। উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও সংবেদনশীলতা মাপার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে এই যন্ত্র।

জগদীশ বসু ছিলেন পৃথিবীর প্রথম বায়োফিজিসিস্ট। তিনি উদ্ভিদের শারীরবৃত্ত সম্পর্কে গবেষণা করেছেন পদার্থবিদ্যার প্রয়োগ ঘটিয়ে। এই পদ্ধতির বিস্তৃত প্রয়োগে উদ্ভিদের প্রাণচক্র ও শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ আমরা জগদীশ বসুকে চিনলাম উদ্ভিদবিজ্ঞানী হিসেবে।

বিজ্ঞানে একটা কথা আছে – পাবলিশ অর পেরিশ। বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ছাড়া বিজ্ঞানের জগতে টিকে থাকার আর কোন রাস্তা নেই। একই গবেষণা হয়তো পৃথিবীর নানা দেশের নানা ল্যাবোরেটরিতে আলাদা আলাদা ভাবে অনেকেই করছে। যার ফলাফল আগে প্রকাশিত হচ্ছে আবিষ্কারের স্বীকৃতি জুটছে তার। আবিষ্কারের স্বত্ব বা প্যাটেন্ট পাবার জন্যও কত রকমের সংগ্রাম করতে হয়। এ একটা বিরাট প্রতিযোগিতা এবং এই প্রতিযোগিতা সবসময় যে সুস্থ প্রতিযোগিতা তা বলার সুযোগ নেই। জগদীশ বসু যে বেতার তরঙ্গ আবিষ্কারের স্বীকৃতি পাননি তার একটা কারণ হলো তিনি তাঁর গবেষণার ফল নির্দিষ্ট জায়গায় যথাসময়ে প্রকাশ করতে পারেন নি বা তাঁর ইচ্ছেও ছিল না। তবে এটাও ঠিক যে পরাধীন ভারতে ইংরেজদের সাহায্য ব্যতীত শুধুমাত্র নিজেদের চেষ্টায় বেশি কিছু করার উপায় ছিল না। তাঁর গবেষণার প্রচার যৎসামান্য যা হয়েছে এবং স্বীকৃতি যতটুকু মিলেছে – তার জন্য সহযোগিতা করেছিলেন তাঁর শিক্ষক ফাদার লাঁফো আর বিজ্ঞানী লর্ড রেইলে।

১৮৯৬ সালের জুলাই মাসে জগদীশচন্দ্র বসু প্রথম বৈজ্ঞানিক সফরে যান ইউরোপে। সেখানে তাঁর বক্তৃতা বৈজ্ঞানিক মহলে খুব আলোড়ন সৃষ্টি করে। পরাধীন ভারতের বাদামী মানুষ সম্পর্কে ইংরেজদের তাচ্ছিল্যবোধ ও অবজ্ঞা জগদীশের সাফল্যকে অবদমিত করে রাখতে পারেনি। এ বছরই লন্ডন ইউনিভার্সিটি জগদীশ বসুকে ডি-এসসি ডিগ্রি প্রদান করে।

ইউরোপ সফরের সাফল্য জগদীশ বসুকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। বিদ্যুৎ তরঙ্গ নিয়ে তিনি নতুন উদ্যমে গবেষণা শুরু করেন ১৮৯৯ সালে। গবেষণায় তিনি জড়বস্তুর মধ্যে প্রাণস্পন্দনের অনুরূপ সাড়া প্রত্যক্ষ করেন। তিনি লক্ষ্য করেন প্রাণীদের মত জড়বস্তুও বাইরের উত্তেজনায় সংবেদনশীল। জড় ও জীবের এই গোপন ঐক্য সম্পর্কে পরীক্ষালব্ধ ফলাফল পশ্চিমের বিজ্ঞানীদের কাছে প্রকাশের একটা সুযোগ এসে পড়লো।

১৯০০ সালে প্যারিসে আয়োজিত পদার্থবিজ্ঞান কংগ্রেসে আমন্ত্রিত হলেন জগদীশ। আমন্ত্রণ পেলেও জগদীশের যাওয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তদানীন্তন শিক্ষা কর্মকর্তা। তবে এতসব বাধার মুখেও জগদীশ বসুকে সহযোগিতা করেছিলেন লেফটেন্যান্ট গভর্নর স্যার জন উডবার্ন। উডবার্নের সহযোগিতায় ১৯০০ সালের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে জগদীশ বসু দ্বিতীয় বারের মত ইউরোপে গেলেন। বাংলা ও ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি প্যারিসে পদার্থবিজ্ঞান কংগ্রেসে যোগ দেন এবং জড়বস্তুর সংবেদনশীলতা বিষয়ে তাঁর পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ব্যাখ্যা করেন।

আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী মহলে সাড়া মিললেও তেমন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাননি জগদীশ বসু। পশ্চিমাদের একটা ধারণা ছিল ‘বাঙালি আর কী বিজ্ঞান জানে!” নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও জগদীশ বসু ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনার অফার পান। ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটিতে পড়ানোর সুযোগ মানে গবেষণার ব্যাপক সূযোগ হাতে পাওয়া। কিন্তু স্বদেশের সাথে, প্রেসিডেন্সি কলেজের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে বিদেশের মাটিতে পড়ে থাকা জগদীশ বসুর পক্ষে সম্ভব হলো না। তিনি তাঁর দেশকে হয়তো তাঁর বিজ্ঞান গবেষণার চেয়েও বেশি ভালবাসতেন।

লন্ডন প্রবাস কালে ১৯০০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯০২ সালের ২০ জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে লেখা অনেকগুলো চিঠিতে জগদীশ বসু তাঁর প্রিয় বন্ধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে বার বার তাঁর স্বদেশ প্রেমের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমাদের হৃদয়ের মূল ভারতবর্ষে। যদি সেখানে থাকিয়া কিছু করিতে পারি, তাহা হইলেই জীবন ধন্য হইবে। দেশে ফিরিয়া আসিলে যেসব বাধা পড়িবে তাহা বুঝিতে পারিতেছি না। যদি আমার অভীষ্ট অপূর্ণ থাকিয়া যায়, তাহাও সহ্য করিব”। রবীন্দ্রনাথ জগদীশচন্দ্রকে প্রেরণা জুগিয়েছেন, শুনিয়েছেন অভয়মন্ত্র।

জগদীশচন্দ্র ফিরে এসেছেন ভারতবর্ষে। ভারতবর্ষেই অধ্যাপনার সাথে সাথে নিজের চেষ্টায় গবেষণা। বৈদ্যুতিক উত্তেজনায় উদ্ভিদের সাড়া মাপার জন্য নিজের ওয়ার্কশপেই তৈরি করেছেন স্ফিগমোগ্রাফ, ফটোমিটার, ফটোসিন্থেটিক বাব্‌লার প্রভৃতি যন্ত্র। এ সব যন্ত্রপাতি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সাধারণ বাঙালি মিস্ত্রিরাই। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের উপাদান হিসেবে তিনি শজারুর কাঁটা পর্যন্ত ব্যবহার করেছেন।

জগদীশ বসু বৃটিশদের কোন অন্যায়ের সাথেই আপোষ করেন নি কখনো। তিনি যখন প্রেসিডেন্সি কলেজে যোগ দেন তখন একজন ইংরেজ অধ্যাপককে যে বেতন দেয়া হতো, একজন ভারতীয় অধ্যাপককে দেয়া হতো তার দুই তৃতীয়াংশ। আর চাকরি স্থায়ী না হলে ভারতীয়দের বেতন ছিল সমমর্যাদার ইংরেজদের বেতনের মাত্র এক তৃতীয়াংশ। জগদীশ চন্দ্র এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করলেন। ইংরেজ ও ভারতীয়দের বেতন-বৈষম্য না ঘুচলে বেতন নেবেন না ঘোষণা দিলেন। বিনাবেতনে পড়ালেন অনেক দিন। ইংরেজ অধ্যক্ষ বাধ্য হলেন বেতন বৈষম্য ঘোচাতে। এতে সব ভারতীয় অধ্যাপক উপকৃত হলেন, কিন্তু ক্ষতি হলো জগদীশের। তিনি ইংরেজ কর্তৃপক্ষের চক্ষুশূলে পরিণত হলেন। এজন্য অনেক অপমান সইতে হয়েছে তাঁকে।

প্রথম ইউরোপ সফর শেষে কলেজে ফিরে এসে একটা গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা তো দূরে থাক – পদে পদে বাধা হয়ে দাঁড়ালো। নিজের বেতনের টাকা দিয়ে আস্তে আস্তে নিজের কাজের একটা ল্যাব দাঁড় করিয়েছিলেন। সরকারের কাছে কিছু অনুদানের জন্য লেখার পর যে উত্তর পেলেন এরকমঃ “ডক্টর বসু এখন মাসে পাঁচশ টাকা মাইনে পান। কোন নেটিভ সরকারি চাকুরের মাসে পাঁচশ টাকায় পোষাচ্ছে না বলাটা নেহায়েৎ বোকামি”। পদে পদে অপমানের উদাহরণ আরো অনেক আছে।

১৮৯৭ সালে কলকাতায় এসেছেন বিজ্ঞানী লর্ড রেইলে। কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির ক্যাভেন্ডিজ ল্যাবের এই বিখ্যাত অধ্যাপকের কাছে পড়াশোনা করেছেন জগদীশ বসু। কাজেই প্রিয় স্যারকে নিজের কলেজে পেয়ে নিজের গবেষণা, ল্যাব ঘুরিয়ে দেখালেন জগদীশ। এত সীমিত সুযোগের মধ্যেও জগদীশ যে এত কাজ করছেন – দেখে খুব খুশি হলেন লর্ড রেইলে। তিনি জগদীশের অনেক প্রশংসা করলেন কলেজের ইংরেজ প্রিন্সিপালের কাছে। হিতে বিপরীত হলো। লর্ড রেইলে চলে যাবার পর প্রিন্সিপালের কাছ থেকে শো-কজ নোটিশ পেলেন জগদীশ বসু। কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে “কলেজের অধ্যাপনায় ফাঁকি দিয়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নিজের ইচ্ছেমত গবেষণা করাটা কেন অপরাধের পর্যায়ে পড়বে না?” ল্যাবের যন্ত্রপাতি চুরির অপবাদও সইতে হয়েছে জগদীশ বসুকে।

টাকার অভাবে গবেষণা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেখে জগদীশ বসুর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে চাঁদা তুলে তিনি জগদীশ বসুর গবেষণার টাকা জুগিয়েছেন। ১৯১৫ সালে অধ্যাপনা থেকে অবসর নিয়ে ১৯১৭ সালের নভেম্বরে জগদীশ বসু প্রতিষ্ঠা করলেন ‘বসু বিজ্ঞান মন্দির’। ক্রমে বসু বিজ্ঞান মন্দির হয়ে ওঠে একটা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্র। ১৯২০ সালে জগদীশ বসু রয়েল সোসাইটির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯২৭ সালে ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে সভাপতিত্ব করেন। ১৯২৮ সালে ভিয়েনার একাডেমি অব সায়েন্সের বৈদেশিক সদস্য নির্বাচিত হন।

জগদীশচন্দ্র ছিলেন মাতৃভাষা ও স্বদেশী ভাবধারার বিজ্ঞানচর্চার পথিকৃৎ। ১৮৯১ সাল থেকে তিনি বাংলা ভাষায় বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেন। ‘মুকুল’, ‘দাসী’, ‘প্রবাসী’, ‘ভারতবর্ষ’ প্রভৃতি পত্রিকায় লিখেছেন। তাঁর ‘অব্যক্ত’ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার একটি উৎকৃষ্ট নিদর্শন।

১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর জগদীশ বসু মারা যান। মানুষের স্মৃতিশক্তি মাপার সর্বপ্রথম যান্ত্রিক মডেল তৈরি করেছিলেন জগদীশ বসু। আজ আমরা ঠিক সেই মডেল ব্যবহার না করলেও বাঙালির বিজ্ঞানচর্চা যতদিন থাকবে – বেঁচে থাকবে জগদীশ বসুর কীর্তি, জাগরুক থাকবে তাঁর জীবন-স্মৃতি।

হযরত ওসমান (রাঃ)

হযরত ওসমান (রাঃ)
উসমান ইবন আফ্‌ফান (عثمان بن عفان) (c. ৫৮0 - জুন ১৭ ৬৫৬) ছিলেন ইসলামের তৃতীয় খলীফা। ৬৪৪ থেকে ৬৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। খলিফা হিসেবে তিনি চারজন খুলাফায়ে রাশিদুনের একজন। উসমান আস-সাবিকুনাল আওয়ালুনের (প্রথম পর্বে ইসলাম গ্রহণকারী) অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও তিনি আশারায়ে মুবাশ্‌শারা'র একজন এবং সেই ৬ জন সাহাবীর মধ্যে অন্যতম যাদের উপর মুহাম্মদ (সা:) আমরণ সন্তুষ্ট ছিলেন।১। তাঁকে সাধারণত: হযরত উসমান (রা:) হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

জন্ম

উসমানের জন্ম সন ও তারিখ নিয়ে বেশ মতপার্থক্য রয়েছে। অধিকাংশের মতে তার জন্ম ৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ হস্তীসনের ছয় বছর পর২। এ হিসেবে তিনি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) থেকে ছয় বছরের ছোট। অধিকাংশ বর্ণনামতেই তাঁর জন্ম সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে। অবশ্য অনেকের বর্ণনামতে তাঁর জন্ম তায়েফ নগরীতে বলা হয়েছে।

পরিবার ও বংশ

উসমানের কুনিয়া আবু আমর, আবু আবদিল্লাহ, আবু লায়লা। তাঁর উপাধি যুন-নূরাইন এবং যূল-হিজরাতাইন। তার পিতা আফ্‌ফান এবং মাতা আরওরা বিনতু কুরাইয। তিনি কুরাইশ বংশের উমাইয়্যা শাখার সন্তান ছিলেন। তার উর্ধ্ব পুরুষ আবদে মান্নাফে গিয়ে মুহাম্মদের বংশের সাথে মিলিত হয়েছে। তার নানী বায়দা বিনতু আবদিল মুত্তালিব ছিলেন মুহাম্মদের ফুফু।

ইসলাম গ্রহণের পর মুহাম্মদ (সা:) তাঁর কন্যা রুকাইয়্যার সাথে তাঁর বিয়ে দেন। হিজরী দ্বিতীয় সনে তাবুক যুদ্ধের পরপর মদিনায় রুকাইয়্যা মারা যায়। এরপর নবী তাঁর দ্বিতীয় কন্যা উম্মু কুলসুমের সাথে তাঁর বিয়ে দেন। এ কারণেই তিনি মুসলিমদের কাছে যুন-নূরাইন বা দুই জ্যোতির অধিকারী হিসেবে খ্যাত। তবে এ নিয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে। যেমন ইমাম সুয়ূতি মনে করেন ইসলাম গ্রহণের পূর্বেই ওসমানের সাথে রুকাইয়্যার বিয়ে হয়েছিল। তবে অধিকাংশ ইতিহাসবেত্তা এই ধারণা পরিত্যাগ করেছেন। উসমান এবং রুকাইয়্যা ছিলেন প্রথম হিজরতকারী মুসলিম পরিবার। তারা প্রথম আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন। সেখানে তাদের একটি ছেলে জন্ম নেয় যার নাম রাখা হয় আবদুল্লাহ ইবন উসমান।, এরপর উসমানের কুনিয়া হয় ইবী আবদিল্লাহ। হিজরী ৪র্থ সনে আবদুল্লাহ মারা যায়। তাবুক যুদ্ধের পরপর রুকাইয়্যা মারা যান। এরপর উসমানের সাথে উম্মু কুলসুমের বিয়ে হয় যদিও তাদের ঘরে কোন সন্তান আসেনি। হিজরী নবম সনে উম্মু কুলসুমও মারা যান।তথ্যসূত্র প্রয়োজন।

প্রাথমিক জীবন

অন্যান্য অনেক সাহাবীর মতই ইসলাম গ্রহণের পূর্বে উসমানের জীবন সম্বন্ধে তেমন কিছু জানা যায়নি। জানা যায়, উসমান কুরাইশ বংশের অন্যতম বিখ্যাত কোষ্ঠীবিদ্যা বিশারদ ছিলেন। কুরাইশদের প্রাচীন ইতিহাস সম্বন্ধে তার অগাধ জ্ঞান ছিল। ইসলাম গ্রহণের পূর্বেও তার এমন বিশেষ কোন অভ্যাস ছিলনা যা ইসলামী নীতিতে ঘৃণিত। যৌবনেকালে তিনি অন্যান্য অভিজাত কুরাইশদের মত ব্যবসায় শুরু করেন। ব্যবসায়ে তাঁর সাফল্য ছিল উল্লেযোগ্য। মক্কার সমাজে একজন ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন বলেই তাঁর উপাধি হয়েছিল গনী যার অর্ধ ধনী।

ক্রেডিটঃ http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8_%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%A8_%E0%A6%86%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E2%80%8C%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A8

হযরত ওমর (রাঃ)

হযরত ওমর (রাঃ)
উমর ইবনুল খাত্তাব (আরবি, عمر بن الخطاب) (৫৮০ – নভেম্বর ৩, ৬৪৪) যিনি সচরাচর হযরত উমর নামে অভিহিত, ইসলাম ধর্মের মহানবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ঘনিষ্ঠ সাহাবী। তিনি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কুরাইশ গোত্রের বনু আদি সম্প্রদায়ে তাঁর জন্ম। তিনি উমর আল ফারুক নামেও পরিচিত। 'ফারুক' অর্থ সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। তিনি খুলাফায়ে রাশেদীন এর দ্বিতীয় খলিফা হলেও শিয়া সম্প্রদায় তাঁকে ইসলামের খলিফা হিসেবে প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করে না।

প্রাথমিক জীবন

উমর বর্তমান সৌদী আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম খাত্তাব ইবনে নুফাইল। তাদের পরিবার মূলত মধ্যবর্তী ধরনের ছিল। তিনি শিক্ষিত ছিলেন যা তখনকার আরব সমাজে অনেকটাই ব্যতিক্রম ছিল এবং শিক্ষিতদের অন্যরকম সম্মান ছিল। সুস্বাস্থ্য, শক্তিশালী, সাহসী এবং বিশেষ করে রাগী পুরুষ হিসেবেও তিনি সুপরিচিত ছিলেন। যৌবনকালে একজন প্রথম শ্রেণীর কুস্তীগীর হিসেবে প্রখ্যাত ছিলেন। তথনকার আমলে মদ পান আরবে খুবই সাধারণ বিষয় ছিল এবং অনেকের বর্ণনামতে উমর ইসলাম গ্রহণের পূর্বে মদ পান করতেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর তিনি কখনও মদ্য স্পর্শ করেননি।

মুহাম্মদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সময়কাল এ প্রাথমিক ইসলাম শত্রুতা

মুহাম্মদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন প্রথম ইসলামের বাণী প্রচার করেন তখন উমর তাঁর তীব্র বিরোধিতা করেন এবং কুরাইশদের প্রথাগত ধর্ম রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ইসলাম বিরোধী হিসেবে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। আরবের প্রথাগত বহুঈশ্বরবাদী ধর্ম রক্ষার খাতিরে ইসলাম গ্রহণকারী আরব এবং মুহাম্মদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বিরোধিতায় অনড় এবং নিষ্ঠুর ভুমিকা নিয়েছিলেন। উমর এর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল এই নূতন ধর্ম ইসলাম কুইরাইসদের মাঝে বিবাদ এবং বিভাদ সৃষ্টি করবে।

কুরাইশদের নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে মুহাম্মদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসারিদের বললেন আবিসিনিয়া য় হিজরত করতে। ছোট একটা দলের এই আবিসিনিয়ার হিজরতের ঘটনা উমর কে কুরাইশ বংশের ভবিষ্যৎ একতা সম্পর্কে ভীতি এবং দুশ্চিন্তায় ফেলে দিল। যার ফলশ্রুতিতে উমর মুহাম্মদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে হত্যার পরিকল্পনা করলেন।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

ইবনে ইসহাকের সীরাত গ্রন্থ অনুসারে উমর "মুহাম্মদকে" (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং একদিন সে উদ্দেশ্যেই মুক্ত তরবারী হাতে ঘর থেকে বের হন। পথিমধ্যে তিনি একজনের সাক্ষাৎ লাভ করেন যিনি ইতোমধ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। সেই ব্যক্তি তাঁকে নবীকে হত্যার পূর্বে প্রথমে নিজের ঘর সামলানোর জন্য বলেন। তাঁর কাছে উমর জানতে পারেন তাঁর বোন ফাতিমা এবং ভগ্নীপতি ইসলাম গ্রহণ করেছে। অগত্যা তিনি বোনের বাড়িতে যান এবং বোন ও ভগ্নীপতিকে কুরআন এর আয়াত আবৃতিরত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ভগ্নীপতিকে মারধর করেন ; ফাতিমা তাঁর স্বামীকে রক্ষা করতে এলে তাকেও আঘাতের শিকার হতে হয়। প্রচণ্ডভাবে আহত হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা কেউই ইসলাম ত্যাগ করতে সম্মত হন নি। বোনের শরীরে রক্ত দেখে তিনি শান্ত হন এবং তাঁরা যা পাঠ করছিলো তা দেখতে চান। পবিত্র হয়ে কুরআনের একটি আয়াত তিনি পাঠ করেন। আয়াতটি ছিল সূরা ত্বা-হা'র অংশ। সেই আয়াতটি তাঁকে এতই অভিভূত করে যে তিনি সেদিনই মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাছে যেয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর ইসলাম প্রসারে তিনি ততটাই ভূমিকা রেখেছিলেন, গ্রহণের পূর্বে ইসলামের বিরুদ্ধে যতটা ভূমিকা রাখতেন।কুরআনের অর্থ।

মদীনায় হিজরত

আল্লাহর নির্দেশে রাসূল (সাঃ) সাহাবীদেরকে মদীনায় হিজরত করতে নির্দেশ দেয়ার পর, ওমর (রাঃ) বেশ কয়েকজন সাহাবীকে সাথে নিয়ে প্রকাশ্যে হিজরত করেন| তিনি তখন জনসম্মুখে বলেছিলেন, কেউ যদি তার মাকে সন্তানহারা এবং স্ত্রীকে বিধবা করতে চায়, সে যেন আমাকে বাধা দিতে এগিয়ে আসে| তার প্রবল সাহকিকতা ও বীরত্বের কারণে কুরাইশদের কেউ তাকে বাধা দিতে সাহস পায় নি|

মদীনায় উমরের জীবন

মদীনায় ওমর(রাঃ) নবীজী(সাঃ)এর পাশে থেকে হিজরতকারী মুসলিমদের একজন সহচর ও প্রতিনিধি মুসলিম নেতার ন্যায় ভূমিকা রাখেন| মদীনায় হিজরতের পর সংঘটিত বদরের যুদ্ধ, উহুদের যুদ্ধ এবং খন্দকের যুদ্ধে তিনি প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন| হুদায়বিয়ার সন্ধির একজন অন্যতম সদস্য ও স্বাক্ষী ছিলেন তিনি| এছাড়া মক্কা বিজয়, হুনাইনের যুদ্ধ, খাইবারের অভিযান, তাবুকের যুদ্ধ এবং বিদায় হজ্জেও তিনি অংশগ্রহণ করেন|

মুহাম্মাদ(সাঃ)-এর মৃত্যু

নবীজী(সাঃ) এর মৃত্যুর পর ওমর(রাঃ) নবীজী(সাঃ) কে অত্যধিক ভালোবাসার কারণে তা সহজে বিশ্বাস করতে পারেন নি এবং এ খবর যারা প্রচার করবে তাদেরকে হত্যা করবেন বলে লোকজনের কাছে ঘোষণা করতে থাকেন| কিন্তু অনতিবিলম্বকাল পরে আবু বকর(রাঃ) এসে তাকে থামিয়ে সকলের কাছে নবীজী(সাঃ) এর মৃত্যূসংবাদ ঘোষণা করেন| আবূ বকর(রাঃ) নিজের বেদনাকে সংযত করে দৃঢ় কন্ঠে বলেন,যারা মুহাম্মাদ(সাঃ) এর উপাসনা করো তারা জেনে রাখ তিনি মারা গেছেন এবং যারা আল্লাহর উপাসনা কর তারা জেনে রাখ, আল্লাহ অমর-অবিনশ্বর| এবং এরপর সূরা আলে ইমরান থেকে এ সম্পর্কিত একটি আয়াত পাঠ করেন| আবু বকর(রাঃ) এর এই দৃঢ় বক্তব্য শুনে ওমর(রাঃ) সম্বিত ফিরে পান এবং নবীজী (সাঃ) এর ইন্তেকালের সত্যতা বুঝতে পেরে অবনর্নীয় যাতনায় অঝরে অশ্রু বিসর্জন করেন|

ক্রেডিটঃ http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%89%E0%A6%AE%E0%A6%B0_%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B2_%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC