চিন্তা ভাবনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চিন্তা ভাবনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পজিটিভ থিংকিং কিভাবে করবেন

পজিটিভ থিংকিং কিভাবে করবেন



আজকাল সবাইকে বলতে শোনা যায় থিংক পজিটিভ। সব কিছুকে পজিটিভলি দেখুন। অথবা দৃষ্টিভঙ্গিকে ইতিবাচক করুন। হাজার বারও যদি আপনি কাউকে বলে থিংক পজিটিভ তাতে কোনো লাভ হবে না কারণ থিংক পজিটিভ করার উপর বা পথটি কী তা যদি জানা না থাকে তবে কিভাবে থিক পজিটিভ করবে। যেমন কিভাবে সৎ হতে হয় সবাই জানে (মিথ্যা কথা বলবো না, কারো ক্ষতি করবো না, অন্যায় করবো না ইত্যাদি) কিন্তু “কেন সৎ হব” বা কেন সৎ থাকব এই বিষয়টি যে বুঝেছে বা উপলব্ধি করেছে তার পক্ষেই সৎ থাকা সম্ভব। প্রতিটি মানুষের মনের গভীরে বোঝার ক্ষমতা বা উত্তর থাকে সুতরাং ওই স্তরে না পৌঁছলে উত্তর পাওয়া কঠিন। সুতরাং গভীর উপলব্ধি অর্থাৎ বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবা এবং বুঝার চেষ্টা করা।

পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে দুইবার ঘটে; একবার চিন্তায় আর একবার বাস্তবে অর্থাৎ একবার ভেতরে অন্যবার বাইরে। মানুষ যা কিছু করে তার আগে সে চিন্তা করে। চিন্তা যেমন হবে কাজ (কর্ম) তেমন হবে। একটি কাজ বার বার করলে তা অভ্যাসে পরিণত হয়। অভ্যাসের সমষ্টি তার চরিত্র এবং চরিত্রই নিয়ে যাবে তার গন্তব্যে। অর্থাৎ একজন মানুষের গন্তব্য সুখের জায়গায় নাকি দুঃখের জায়গায় হবে তা নির্ভর করবে তার চরিত্রের ওপর। চরিত্র নির্ভর করে অভ্যাসের ওপর আর অভ্যাস নির্ভর করে কর্মের ওপর। কর্ম নির্ভর করে চিন্তার ওপর। সুতরাং চিন্তা যেমন হবে বাকি সব ধাপ তেমনই হবে। সুতরাং জীবনকে সুখ শান্তিময় করতে আর্থাৎ সফল ও সার্থক জীবনের জন্য চিন্তাকে ইতিবাচক করতেই হবে।

প্রথমেই প্রশ্ন হলো Positive Thinking বলতে কী বুঝায়। ইতিবাচক চিন্তা মানে হলো “যে কোনো অবস্থায় সঠিক চিন্তা করতে পারা”। (Positive thinking means right thinking at every moment) যে কোনো অবস্থায় বা যে কোনো পরিস্থিতিতে সঠিক চিন্তা করতে পারাকেই পজিটিভ থিংকিং বলে। সঠিক চিন্তা বেঠিক নয়। বেঠিক বা ভুল চিন্তা করলে তা পজিটিভ থিংকিং হবে না। এখন প্রশ্ন হলো সঠিক বা জরমযঃ ঞযরহশরহম বলতে কী বুঝায়। সঠিক চিন্তা বলতে বুঝায় “যা কিছু ঘটেছে সেই ঘটনাকে ওইভাবেই দেখা এবং ভাবা”। (Right thinking means, To see the situation/problems in the same magnitude as it is) অর্থাৎ যা ঘটেছে তা ঘটার মতো করে দেখা অর্থাৎ সোজাভাবে দেখা, বাঁকাভাবে নয়। বাঁকাভাবে দেখলে চিন্তা বাঁকা হয়ে যাবে। বিষয়টি একদম সোজা যেমন আপনি কোনো কিছু সঠিক দেখতে পান তখনই যখন আলো সেই বস্তুর উপর সোজা হয়ে পড়বে এবং সোজাভাবে আপনার চোখের ভেতর প্রবেশ করবে তখনই তা আপনি দেখবেন। সুতরাং কোনো বিষয় বা ঘটনাকে সোজাভাবে যদি আপনার কাছে উপস্থাপিত না হয় বা সোজাভাবে যদি না দেখেন বা না ভাবেন তবে সিদ্ধান্ত কখনই সঠিক বা জরমযঃ হবে না। সুতরাং যা কিছু হয়েছে বা ঘটেছে তা সেইভাবে দেখতে পারা সঠিক চিন্তা করতে পারার পূর্বশর্ত।

বিষয়টি আরও একটু বিশ্লেষণ করা যাক, পজিটিভ থিংকিং মানে এই নয় যে, যা কিছু আমার জীবনে ঘটবে সব সময় সেরা (বেস্ট) ঘটবে তা নয় বরং যা কিছু ঘটেছে সেটা ঐ সময়ে আমার জন্য ছিল একুরেট/অনিবার্য। এই অনিবার্য বিষয়টিকে একসেপ্ট করা বা স্বীকার করা। একসেপ্ট করা বা স্বীকার করা মানে এই নয় যে, তা ঠিক হয়েছে বা উত্তম হয়েছে তা নয়। পরিস্থিতিটাকে গ্রহণ করা সেটা আমার পক্ষে যাক বা না যাক। যদি তা না হয় তবে মনের স্থিতি আসবে না যার ফলে পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো যথার্থ হবে না। একজন মানুষ আত্মহত্যা কখন করে? যখন সে সেই পরিস্থিতিকে একসেপ্ট করতে পারে না। যেমন নিজের কোন প্রতিষ্ঠানে আগুন লেগেছে প্রথমেই তা একসেপ্ট করতে হবে বা গ্রহণ করতে হবে যে বিষয়টি ঘটেছে। একসেপ্ট করলেই না আপনি পরবর্তী সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারবেন যাতে দমকল বাহিনী সহ পরবর্তী গঠনমূলক সিদ্ধান্তগুলো নেয়া যায় তানা হলে তো সিদ্ধান্তই নেয়া যাবে না।

“Positive thinking does not mean what will happen, will be the best, it means whatever will happen will be the accurate for me.”

যেমন কোনো এক অনুষ্ঠানে আমাকে অতিথি হিসেবে চেয়ারে বসতে দেয়া হলো, বসা মাত্র কাঠের চেয়ারটি ভেঙে গেল, আমি পড়ে গিয়ে কিছুটা ব্যথাও পেলাম। ওই মুহূর্তে ঐ ঘটনাটি আমার জন্য একুরেট ছিল, কারণ আমিই ঐ চেয়ারে বসেছি, কেউ ইচ্ছা করে ভাঙা চেয়ার দিক বা ভাঙা থাকুক। একুরেটলি আমার ওপরই ঘটনাটি ঘটেছে একুরেটলি আমিই ব্যথা পেয়েছি অন্য কেউ নয়। সুতরাং একসেপ্ট। এরপর সঠিক সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যতে দেখে বসতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে, যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

তাহলে বিষয়টি দাঁড়াল এই, আমরা সব সময়ই ভালো আশা করব, উত্তমটিই আশা করব, যা কিছু হবে ভালো হবে সেরা হবে কিন্তু যদি তা না হয় তবে যা ঘটল তাই ঐ পরিস্থিতির জন্য অনিবার্য ভাবতে হবে এবং সেটি যদি দুর্ঘটনা বা খারাপ কিছু হয় তবে তার কারণগুলো খুঁজে বের করে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার ব্যবস্থা নেয়া এবং এগিয়ে যেতে হবে পরবর্তী সঠিক সিদ্ধান্তে।

যে চিন্তা আমার মনকে অস্থির করে তা পজিটিভ থিংকিং নয়। বরং যে চিন্তা আমার মনকে শান্তি দেয় বা শান্ত করে নতুন কিছু করার উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেয় তাই পজিটিভ থিংকিং। যে চিন্তা হিংসা, বিদ্বেষ, স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতা তৈরি করে তা কখনই পজিটিভ থিংকিং নয়। বরং তা শরীর মনকে নেতিবাচক ভাইব্রেশনে আক্রান্ত করে, মন ও শরীরকে বিকৃত করে।

পরোপকারিতা, শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা, সেবা, অন্যের কল্যাণ কামনা, ভালোবাসা সৃষ্টিকারী ভাবনাই হলো পজিটিভ থিংকিং যার ফলাফল সুখ, শান্তি এবং সন্তুষ্টি।

:: ড. মো আলমাসুর রহমান

কাউন্সিলর, হলিসটিক হেলথ কেয়ার সেন্টার

চেয়ারম্যান, প্রোএকটিভ একাডেমি।

ইতিবাচক চিন্তার শক্তি দিয়েই জীবন বদলে দিন

ইতিবাচক চিন্তা হচ্ছে এমন এক মানসিক মনোভাব ধারন করা যার জন্য আমরা প্রতিটি কাজের ভাল এবং সন্তোষজনক ফলাফল আশা করি । অন্যভাবে বলতে গেলে ইতিবাচক চিন্তা হচ্ছে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আশাহত না হয়েও ঠান্ডা মাথায় পরিবেশকে নিজের অনুকূলে নিয়ে আসার চেষ্টা করে যাওয়া। জীবনকে সুস্থ, সুন্দর করার জন্য ইতিবাচক চিন্তার কোন বিকল্প নেই।
৩০ বছর ধরে চলা এক গবেষণায় কিছু রোগীর পারসোনালিটি টেস্ট করা হয় যেখানে তাদের optimism ( আশাবাদ ) and pessimism ( দুঃখবাদ ) পরিমাপ করা হয় । ফলাফলে জানা গেছে যে, আশাবাদীদের গড় আয়ু দুঃখবাদীদের থেকে বেশী । গবেষকেরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে আশাবাদ মানুষের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায় এবং সুখী জীবন যাপনে সাহায্য করে। আর যারা অযথা নেতিবাচক চিন্তা করে তারা সহজেই উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার মত জটিল সমস্যায় ভুগেন। অনেক গবেষণার সিদ্ধান্তে এটা স্পষ্ট যে, ইতিবাচক চিন্তা যেকোন ব্যক্তিকে সুখী ভাবতে সাহায্য করে এবং তাতে সাফল্য লাভ করা অনেক সহজ হয়ে যায়। নিজের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব বা চিন্তা করার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য আমরা কিছু ধাপ অনুসরন করতে পারি। যেমনঃ

১। সময় নিনঃ

নিজের সাথে খারাপ কিছু ঘটতে থাকলে মোটেও ঘাবড়াবেন না অপেক্ষা করুন, নিজেকে সময় দিন। এই প্রক্রিয়া আপনার মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা তৈরি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

২। ইতিবাচক মানুষের সাথে চলাফেরা করুনঃ

এমন মানুষের সাথে মেলামেশা করুন যারা আপনাকে গঠনমূলক কাজ ও আশাবাদী হতে সাহায্য করবে। নেতিবাচক চিন্তার মানুষদের সঙ্গ পরিহার করুন।

৩। অন্যদের সাহায্য করুনঃ

অন্যকে আপনার সাধ্যমত সাহায্য করুন কারণ অন্যকে সাহায্য করা আপনাকে আত্মতৃপ্তি দেবে। যা আপনার ইতিবাচক মনোভাব দৃঢ় করতে সাহায্য করবে।

৪। কৃতজ্ঞ থাকুনঃ

আপনার যা আছে সেগুলো নিয়ে ভাবুন কারণ অনেকের কাছেই সেগুলো নেই। আবার অন্যের কাছে থাকলেও ক্ষতি নেই কারণ আপনার কাছে সেগুলো আছে। কৃতজ্ঞতা বোধ করুন এটি আপনার মনকে শক্তিশালী করবে। Joseph Campbell বলেন – এমন এক স্থান খুঁজে বের করুন যা আপনাকে সুখের অনুভূতি দিবে এবং সুখের অনুভূতি কষ্টগুলোকে দূরে সরিয়ে রাখবে ।

৫। ইতিবাচক উক্তি পড়ুনঃ

প্রতিদিন কিছু ইতিবাচক উক্তি বা লেখা পড়ুন । ইতিবাচক উক্তি বা লেখায় আশা বাড়ে, মনের ভয় দূর হয়, বিষণ্ণতা দূর করে। উদাহরণস্বরূপ নিচে কিছু ইতিবাচক উক্তি দেয়া হলঃ
“ব্যর্থরা অবচেতনভাবে ব্যর্থতার সঙ্গে নিজেদের সংযুক্ত করে। সচেতনভাবে সাফল্যের সঙ্গে একাত্ম হলে সাফল্যই আপনার দিকে আকৃষ্ট হবে।”
“সুন্দর প্রত্যাশা ও প্রত্যয় নিয়ে দিন শুরু করুন। ঘুম ভাঙতেই বলুন – প্রভু ধন্যবাদ, একটি নতুন দিনের জন্যে। দিনের সমাপ্তিও ঘটবে এইভাবে।”
“কাউকে অভিনন্দন জানানোর সুযোগ পেলে আন্তরিকভাবে জানান।”
“নিজের কাছে নিজ সততা বজায় রাখুন। প্রতিটি কাজে আপনার পক্ষে যা করা সম্ভব, আন্তরিকতার সঙ্গে করুন।”
“দায়িত্ব নিতে ভয় পাবেন না। তাহলেই নতুন কিছু শিখতে পারবেন।”
“কাজে উদ্যোগী না হলে প্রতিটি কাজই অসম্ভব মনে হয়।”
“‘আমি এ বিষয়ে জানি না’ এ কথাটি বলতে কখনও ভয় পাবেন না।”
“‘আমি দুঃখিত’ কথাটি সব সময় আন্তরিকতার সাথে উচ্চারন করুন।”
“দীর্ঘসূত্রিতা ও আলস্যকে প্রশ্রয় দেবেন না। যখন যা করা প্রয়োজন, তখনই তা করুন।”
“নেতিবাচক চিন্তার চাইতে ইতিবাচক চিন্তা তোমাকে সবকিছু আরও ভালোভাবে করার সুযোগ করে দেবে।” – জিগ জিগলার
“নেতিবাচক শূন্যতার চাইতে ইতিবাচক যেকোনো কিছুই ভালো।” – এলবার্ট হাবার্ড
“ইতিবাচক কোনো কাজ করার জন্য আমাদেরকে প্রথমে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।” – দালাইলামা
“সাফল্যের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো নিজের সম্পর্কে নিজের মনে একটি ইতিবাচক ও শক্ত অবস্থান গড়ে তোলা।” – জয়েস ব্রাদার্স
“হতাশাকে সময়ে সময়ে খুব বিরক্তিকর বলে মনে হলেও সাফল্যের জন্য এটি খুবই ইতিবাচক ও প্রয়োজনীয় একটি বিষয়।” – বো বেনেট
“যে মনের দিক থেকে বৃদ্ধ নয়, বার্ধক্য তার জীবনে আসে না।” – ফিলিপ ম্যাসিঞ্জার

৬। নিজেকে ক্ষমা করতে শিখুনঃ

কোন ভুল হলেই আমরা অনেক সময় নিজেকে দোষারোপ করি, হীনমন্যতায় ভুগী যা আমাদের মনে নেতিবাচক ভাবনার জন্ম দেয়। বরং আমাদের উচিত ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া যাতে ভবিষ্যতে আর এমন ভুল না হয় আর অবশ্যই উচিত নিজেকে ক্ষমা করে দেয়া কারণ ভুল তারই হয় যে কাজ করে। কোন কাজ করতে গেলে ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক, আমরা কেউ নিখুঁত নই এ কথাটা মেনে নিলে নিজেকে ক্ষমা করাটাও সহজ হয় ।

৭। অনুসন্ধান করুন ভুলটা কোথায় হচ্ছেঃ

ইতিবাচক চিন্তার মানে এই নয় যে ভুল গুলো এড়িয়ে যেতে হবে, দ্বিতীয়বার যাতে একই ভুল না হয় সে জন্য কি কারনে ভুল হচ্ছে সেটা খুঁজে বের করা জরুরী। আর ভুল শুধরানোর জন্য অনুসন্ধান করা মোটেও সময় নষ্ট করা নয়।

৮। ব্যর্থতাকে সুযোগ হিসেবে নিনঃ

বলা হয়ে থাকে ব্যর্থতাই হচ্ছে সাফল্যের ভিত্তি স্তম্ভ, আসলেই কিন্তু তাই। আমাদের জীবনের নেতিবাচক ব্যর্থতাগুলো আমাদেরকে বড় বড় সাফল্য অর্জনের পথ তৈরিতে সাহায্য করে। যেমনঃ আপনি চাকরী হারালেন আর ভাবছে সব শেষ! কিন্তু আসলেই কি তাই তাই? ভেবে দেখুন আপনার জীবনে এখন আরেকবার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেল। এখন আপনি চাইলেই নতুন কিছু শুরু করতে পারেন যা আপনাকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যেতে পারে।
সুতরাং ব্যর্থতায় হাল ছেড়ে না দিয়ে বরং সাফল্য আসার জন্য অপেক্ষা করুন। মেঘের আড়ালে যেমন সূর্য্য হাসে তেমনি ব্যর্থতার অপর দিকে সাফল্য আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। নিজেকে ইতিবাচক করে গড়ে তুলুন তাহলে আপনি ইতিবাচক ফল পাবেন। আর শুধুমাত্র ইতিবাচক চিন্তা আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে তবে কেন মিছেমিছি হতাশায় ডুবে আছেন?

সঠিক সিদ্ধান্ত

জীবনের প্রতিটি ধাপেই মানুষকে মুখোমুখি হতে হয় নানারকম সমস্যার আর নিতে হয় সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তের ভালো-খারাপের ওপরেই নির্ভর করে একজন মানুষের ভবিষ্যত। একজন সফল মানুষের জীবনে তাই সিদ্ধান্তের একটি বড় আর গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে। আসুন তাই জেনে নিই গুরুত্বপূর্ণ কাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে যে বিষয় গুলো মাথা রাখতে হবে। পদ্ধতিগুলো যেগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই সফলদের মত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা যায়।
১। আবেগের বশে কিছু না করাঃ
যেকোন ব্যাপারে চট করে নেওয়া প্রথম সিদ্ধান্তটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের আবেগের প্রকাশই হয়ে থাকে। আর তাই সেটা বাস্তবতাসম্পন্ন আর বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক নাও হতে পারে। তাই কোন কিছু শোনার পরপরই যেটা মাথায় আসবে সেটা না করে নিজেকে একটু সময় দিন। প্রথমেই কোন সিদ্ধান্তে চলে আসবেন না।
২। সিদ্ধান্তকে নিয়মে বদলে ফেলাঃ
প্রত্যেকটি জিনিসেরই কাজের সীমাবদ্ধতা থাকে। সীমাবদ্ধতা থাকে মানব মস্তিষ্কেরও। আর তাই দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো সিদ্ধান্তগুলোকে নিয়মে বদলে ফেলুন। এতে করে বড় বড় সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার ব্যাপারে চাপ কম পড়বে ও সেগুলো আরো বেশি সঠিক হবার ক্ষেত্র পাবে।
৩। খুঁত বের করাঃ
নিজের সিদ্ধান্তের পেছনে যতটা না সময় খরচ করবেন তার ঠিক সমপরিমাণ সময় দিন সেটার খুঁত বের করার ক্ষেত্রে। আপনার কাজকে আপনার চাইতে আর কেউ ভালো জানেনা। তাই সেটার বাজে দিকগুলোও সবার চাইতে বেশি জানবেন আপনিই। তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আগে বাছাই করুন সেটার কী কী সমস্যা আছে আর তার সমাধান আপনার হাতের নাগালে কিনা।
৪। সময় ভাগ করে নেওয়াঃ
দিনের সময়কে ভাগ করে নিন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে। ছোট সিদ্ধান্তগুলো খাওয়ার পরের জন্যে রেখে দিন। সকালবেলা মস্তিষ্ক সবচাইতে বেশি সতেজ থাকে। বড় সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার জন্যে এ সময়টাকে বাছুন। চেষ্টা করুন সকালেই নিজের সব বড় সিদ্ধান্তগুলোকে নিয়ে ফেলতে।
৫। পুরো ব্যাপারটিকে দেখাঃ
একটি সিদ্ধান্ত কেবল একটি জিনিসের ওপরই প্রভাব ফেলেনা। প্রভাব ফেলে আরো অনেকগুলো ব্যাপারের ওপর যেগুলো সেই কাজটির সাথে জড়িতে। আর তাই যেকোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বড় পরিসরে সেটার ফলাফলের প্রভাব চিন্তা করুন। আপনার বাকি সব পরিকল্পনায় কতটা সমস্যা সৃষ্টি করছে সেটি। যাচাই করে নিন ভালোভাবে।
৬। বিষয়টি ভালোভাবে জানুনঃ
কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টির আগাগোড়া খুব ভালো করে জেনে নিন। তাহলে বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া আপনার জন্য অনেক সহজ হবে।
৭। সমাধান খুঁজুনঃ
কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা মনস্থির করার জন্য প্রতিটি মানুষেরই নিজের একটা পদ্ধতি থাকে। কাজেই বেশি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে আগে আপনি আপনার নিজের চেনা পথটাই বেছে নিন। তাহলে সঠিক সিদ্ধান্তে আসা আপনার জন্য অনেক সহজ হবে।
৮। নিজেকে প্রশ্ন করুনঃ
কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে নিজেকে বারবার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। নিজের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেলে তবেই সিদ্ধান্ত নিন।
৯। অভিজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলুনঃ
যার জীবনে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে বা একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন এমন কারো সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন। কেননা একই পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রচণ্ড সহায়তা করবে। ফলে সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
১০। ভয়ে পেয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন নাঃ
ভয়ের কারণে বা ভয় পেয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। আবার ভয়টাকে অবহেলাও করবেন না। কেননা এতে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
১১। কঠিন সিদ্ধান্ত দেরিতে নিনঃ
হুট করেই যে কোন কঠিন সিদ্ধান্ত নিবেন না। এত হিতে বিপরীত হতে পারে। বরং কঠিন সিদ্ধান্ত মনে হলে বিষয়টা নিয়ে ভাবা একেবারেই ছেড়ে দিন। মনকে মনের মত থাকতে দিন। তাহলে কিছুদিন পর আপনা থেকে বুঝতে পারবেন যে আপনাকে কী করতে হবে।
১২। বিকল্প উপায় খুঁজুনঃ
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিকল্প উপায়গুলো আরও একটু ভেবে রাখুন। এতে পরবর্তীতে কোন সমস্যা হলে বিকল্প পথগুলো আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
১৩। একাধিক অপশন বেছে নিনঃ
প্রত্যেক সিদ্ধান্তেই একাধিক অপশন থাকে। সম্ভব হলে প্রতিটি অপশন ট্রাই করে দেখুন। যেটা ভালো লাগে সেটা বেছে নিন।
১৪। সিদ্ধান্ত কখনই পারফেক্ট হয় নাঃ
যে কোন সিদ্ধান্ত কখনো পারফেক্ট হয় না। এই সত্যটা মেনে নিলে দেখবেন মনের ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমে গেছে। সেইসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়াও আপনার জন্য কত সহজ হচ্ছে।
১৫। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখুনঃ
কেবল বর্তমানকে ভেবে সিদ্ধান্ত নেবেন না। তাহলে বিপদে পরতে পারেন। বরং ভবিষ্যতের হিসাব করে তবেই সিদ্ধান্ত নিন। এতে আপনার জন্যই ভালো হবে