গুণীজনের বাণী সংগ্রহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গুণীজনের বাণী সংগ্রহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

হযরত লোকমান (আ:) এর উপদেশ, বাণী, উক্তি ঃ হযরত লোকমান (আ.) ছিলেন একজন ইসলামিক পণ্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তি। হযরত

হযরত লোকমান (আ:) এর উপদেশ, বাণী, উক্তি ঃ  হযরত লোকমান  (আ.) ছিলেন  একজন ইসলামিক পণ্ডিত ও  জ্ঞানী ব্যক্তি। হযরত লোকমান  (আ:) এতই জ্ঞানী ছিলেন যে তিনি নবী না হয়েও আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন শরীফে সূরা লোকমান নামে একটু সূরা নাজিল করেছেন।  আসুন আজ দেখে নেই হযরত লোকমান  (আ.) তার আপন ছেলেকে দেওয়া ৭৬ টি উপদেশঃ

১। বেটা !কর্জ হইতে নিজেকে হেফাজাত রাখিও।কেননা ইহা দিনের বেলায় অপমান এবং রাত্রিতে দুশ্চিন্তা।
২। বেটা !তুমি মোরগের চাইতে বেশী অক্ষম হইও না।সে তো শেষ রাত্রিতে জাগিয়া চিৎকার শুরু করিয়া দেয়,আর তুমি নিজের বিছানায় পড়িয়া ঘুমাইতে থাকো।
৩। বেটা ! গুরুত্ব সহকারে জানাযায় শরীক হইও এবং অহেতুক অনুষ্ঠানাদি শরীক
হওয়া হইতে বাঁচিয়া থাকিও।
৪। বৎস আল্লাহর সান্নিধ্ধ অবলম্বন করবে ।
৫। অন্যকে উপদেশ দেওয়ার আগে নিজে আমল করার চেষ্টা কর ।
৬। নিজের মান মর্যাদা বজায় রেখে কথা বলবে ।
৭। ভাল মানুষ রূপে বিবেচিত হওয়ার চেষ্টা করবে ।
৮। স্বীয় অধিকারের প্রতি সচেতন থাকবে ।
৯। গোপন তথ্য কারো নিকট প্রকাশ করবে না ।
১০। বিপদে বন্ধুর পরীক্ষা নিবে ।

১১। বন্ধুদের ভাল মন্দ উভয়টাই পরীক্ষা করবে ।
১২। বিচক্ষণ এবং জ্ঞানী ব্যক্তিদের সাথে বন্ধুত্ব করবে ।
১৩। ভালকাজে পুণঃপুণঃ অংশগ্রহণ করবে ।
১৪। নিজের কথা প্রমাণ করে দিবে ।
১৫। বন্ধুদের সাধ্যমত ভালবাসবে ।
১৬। শত্রু মিত্র সকলের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করবে ।
১৭। মাতা পিতাকে সর্বাধিক সম্মান করবে ।
১৮। শিষ্যকে সর্বাধিক মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখবে ।
১৯। আয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে ব্যয় করবে ।
১৯। প্রত্যেক কাজে মধ্যপন্হা অবলম্বন করবে ।
২০। কথা বলার সময় মুখ আয়ত্বের মধ্যে রাখবে ।
২১। বীরত্ব কে নীতি হিসাবে গ্রহণ করবে ।
২২। শরীর এবং পোষাক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখবে ।
২৩। ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকবে ।
২৪। প্রচলিত অস্ত্র সস্ত্র ও যানবাহন পরিচালনা শিখে নিবে ।
২৫। প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী দায়িত্ব প্রদান করবে ।
২৬। রাতের বেলায় যদি কথা বলার প্রয়োজন হয় তাহলে আস্তে এবং নরম স্বরে কথা বলবে ।
২৭। দিনের বেলায় কথা বলার সময় চতুর্দিকে লক্ষ্য করে কথা বলবে ।
২৮। কম কথা বলা কম খাওয়া এবং কম ঘুমানোর অভ্যাস করবে ।
২৯। নিজের জন্য যা পচন্দ করো না তা অন্যের জন্য পচন্দ করবে না ।
৩০। বিচক্ষণতা ও কৌশল অবলম্বন করে কাজ করবে ।

৩১। উপযুক্ত শিক্ষিত না হয়ে অন্যকে শিখাতে যেও না ।
৩২। অন্যের ধন সম্পদের প্রতি লক্ষ্য করবে না ।
৩৩। নীতিহীনদের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা আশা করবে না ।
৩৪। কোনো কাজেই চিন্তামুক্ত হইও না ।
৩৫। যে কাজ তুমি করনি এরূপ কাজ করেছ বলে মনে করো না ।
৩৬। আজকের কাজ আগামীকালের জন্য ফেলে রাখবে না ।
৩৭। বড়দের সাথে হাসি ঠাট্টা করতে যেও না ।
৩৮। আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করিও না ।
৩৯। তোমার প্রতি যারা আশা রাখে তাদের নিরাশ করো না ।
৪০। বড়দের সামনে কথা দীর্ঘায়িত করবে না ।
৪১। অতীতের তিক্ততা মনে রেখো না ।
৪২। নিজের ধন সম্পদের কথা অন্যের নিকট প্রকাশ করবে না ।
৪৩। সৎ লোকদের নিন্দা করবে না ।
৪৪। আপনজনদের কাছ থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন হইও না ।
৪৫। অহংকার করবে না ।
৪৬। মানুষের সামনে দাঁত খেলাল করবে না ।
৪৭। মানুষের সামনে মুখে বা নাকে অঙ্গুল প্রবেশ করবে না ।
৪৮। শব্দ করে থুতু ফেলবে না ।
৪৯। হাই তোলার সময় মুখে হাত রাখবে ।
৫০। কাউকে জনসম্মুখে লজ্জা দিবে না ।

৫১। চোখ দিয়ে ইঙ্গিত করবে না ।
৫২। এক কথা বারবার বলবে না ।
৫৩। তামাশা মূলক অবাস্তব কথা বলবে না ।
৫৪। ঠাট্টা বিদ্রুপ থেকে বিরত থাকবে ।
৫৫। অন্যের সামনে নিজের প্রশংসা করবে না ।
৫৬। মেয়েদের ন্যায় সাজসজ্জা করবে না ।
৫৭। কথা বলার সময় হাত নাড়াচাড়া করবে না ।
৫৮। আপনজনদের শত্রুর সাথে উঠাবসা করবে না ।
৫৯। কারো মৃত্যুর পর তার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করবে না ।
৬০। যথাসম্ভব ঝগড়া বিবাদ থেকে বিরত থাকবে ।
৬১। সৎলোকের প্রতি সুধারণা রাখবে ।
৬২। নিজের খানা অন্যের দস্তারখানায় নিয়ে যাবে না ।
৬৩। কোনো কাজেই তাড়াহুড়ো করবে না ।
৬৪। পার্থিব স্বার্থের মোহে নিজেকে দুঃখ কষ্টে ফেল না ।
৬৫। রাগান্বিত অবস্থায়ও ধীর শান্ত ভাবে কথা বলবে ।
৬৬।জামার আস্তিন দ্বারা নাক পরিস্কার করবে না ।
৬৭। সূর্য উদয়ের পূর্বেই শয্যা ত্যাগ করবে ।
৬৮। পথ চলার সময় বড়দের আগে চলবে না ।
৬৯। এদিক সেদিক উকি মেরে দেখবে না ।
৭০। অন্যের কথার মধ্যে বাধা দিয়ে কথা বলবে না ।
৭১। মেহমানের সামনে কারো প্রতি রাগান্বিত হইও না ।
৭২। সন্দেহপ্রবণতা ত্যাগ করতে না পারলে দুনিয়ায় তুমি কোনো বন্ধু খুঁজে পাবে না।
৭৩। বেটা !তুমি এত মিষ্ট হইও না যে,মানুষ তোমাকে গিলিয়া ফেলে।আর
এত তিক্ত হইও না যে মানুষ তোমাকে থুথুর মতো ফেলিয়া দেয়।
৭৪। বেটা !নিজের খানা আল্লাহ্ভীরু লোকদের ব্যতীত কাহাকেও খাওয়াইও না।
আর নিজের কাজে আলেমগনের নিকট হইতে পরার্মশ লইতে থাকিও।
৭৫। বেটা !মূর্খের সহিত বন্ধুত্ব করিও না।এমন না হয় তাহার মূর্খতাসুলভ
কথাবার্তা তোমার ভালো লাগিত আরম্ভ করে।আর জ্ঞানী লোকের সহিত
শত্রুতা করিও না।এমন না হয় যে,সে তোমার দিক হইতে মুখ ফিরাইয়া রাখে।
৭৬। বেটা !তুমি যেদিন হইতে দুনিয়াতে আসিয়াছ,প্রতিদিন আখেরাতের নিকটবর্তী হইতেছ।

অধিকাংশ আলেমের মতে, হজরত লোকমান হাকিম (রহ.) নবী ছিলেন না

অধিকাংশ আলেমের মতে, হজরত লোকমান হাকিম (রহ.) নবী ছিলেন না। তবে একজন পুণ্যবান, মুত্তাকি ওলি ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব ছিলেন। যাকে মহান আল্লাহ উচ্চস্তরের জ্ঞান-বুদ্ধি-বিবেক, দূরদর্শিতা ও অভিজ্ঞতা দান করেছিলেন। তিনি বুদ্ধি-বিবেক ও বিচক্ষণতা কাজে লাগিয়ে এমন সব বিষয় উদ্ঘাটন করেছিলেন যা নবী-রাসুলদের মাধ্যমে প্রেরিত বিধি-বিধান ও দিকনির্দেশনার অনুরূপই ছিল। তার বুদ্ধিদীপ্ত উপদেশ ও জ্ঞানগর্ভ বাণী জনগণের মাঝে খ্যাতি অর্জন করেছিল এবং প্রজন্মান্তরে আলোচিত হয়ে আসছিল। মহান আল্লাহ সেসবের একটা অংশ পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করে তার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করে দিয়েছেন।

লোকমান (রহ.) কে ছিলেন? কোথায় অবস্থানকারী ছিলেন এবং কোন যুগ-সময়ে অতিবাহিত হয়েছেন? তা পুরোপুরি নির্দিষ্ট করা যায়নি। অনেকের মতে, তিনি হাবশা তথা আবিসিনিয়ার অধিবাসী ছিলেন এবং দাউদ (আ.) এর সমসাময়িক ছিলেন।
উপদেশ প্রদানে তিনি নিজ পুত্রকে সম্বোধনের মাধ্যমে একটি বিশেষ ধারা অবলম্বন করেছিলেন। তার উপদেশমালার সংখ্যা প্রশ্নে অনেক মতভেদ পরিলক্ষিত হয়। কোনো কোনো আলেম ৩ হাজার বলে উল্লেখ করেছেন। ‘জান্নাতুল-খুলুদ’ গ্রন্থকার তা ৭ হাজার বলেছেন। এখানে সূরা লোকমানের তাফসির ‘তাফসিরে উসমানি’, ‘ইবনে কাসির’ ইত্যাদির অনুসরণে ‘মাআদিনুল-জাওয়াহির’ গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত ৫০টি নসিহতপূর্ণ বাণী তুলে ধরা হলোÑ

১. হে বৎস! আল্লাহ তায়ালার পরিচয়-জ্ঞান অর্জন করো এবং তাঁকে ভালোরকম বুঝতে সচেষ্ট হও।
২. অন্যকে যে-কথা বলবে তাতে নিজেও আমল করবে।
৩. সুযোগ বুঝে কথা বলবে এবং প্রয়োজনীয়টুকু বলার জন্যই মুখ খুলবে।
৪. প্রত্যেক শ্রেণী-পেশার লোকজনের মর্যাদা জেনে-বুঝে সে হিসেবেই তাদের সঙ্গে আচরণ-ব্যবহার করবে।
৫. নিজের গোপনীয়তা কারও কাছে প্রকাশ করবে না।
৬. বিপদকালীন বন্ধুদের পরীক্ষা করে নাও।
৭. লাভ ও ক্ষতি দুই অবস্থাতেই বন্ধুদের পরীক্ষা করো।
৮. প্রত্যেক ব্যক্তির হক-অধিকার জানার চেষ্টা করো।
৯. বুদ্ধিমতী নয় এমন নারীদের ওপর ভরসা করবে না।
১০. শিশুদের কাছে গোপন-রহস্য প্রকাশ করবে না এবং কারও কিছুতে লোভ করবে না।
১১. যা জান না সে বিষয়ে কাউকে পথ দেখাতে যাবে না।
১২. স্বীয় কাজকর্ম ভেবে-চিন্তে করবে।
১৩. নিজ সন্তানদের ঘোড়দৌড় ও তীর-নিক্ষেপের প্রশিক্ষণ দেবে।
১৪. রাতের বেলায় চুপে চুপে কথা বলবে, যেন তোমার কোনো শত্রু তোমার কথা শুনে, সে সূত্রে ক্ষতি করতে না পারে।
১৫. নিজ সন্তানদের ‘ইলম’ ও ‘আদব’ শিক্ষা দেবে।
১৬. প্রত্যেক ব্যক্তির অবস্থা বুঝে তার কাজ ও সেবা করবে।
১৭. জাতি-ধর্ম ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক বা মিলেমিশে চলবে।
১৮. নিজ বস্ত্র-পোশাক পবিত্র-পরিচ্ছন্ন রাখবে।
১৯. গৃহে প্রবেশকালীন চোখ ও জিহ্বাকে সংযত রাখবে।
২০. সাধ্যমতো অবশ্যই মেহমানের আপ্যায়ন করবে।
২১. দানশীলতার অভ্যাস গড়ে তোল।
২২. প্রত্যেক কাজে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করবে।
২৩. ব্যয়ের ক্ষেত্রে আয়ের প্রতি লক্ষ রাখবে।
২৪. শিক্ষককে উত্তম পিতা বলে জ্ঞান করবে।
২৫. ‘কম আহার’, ‘কম নিদ্রা’ ও ‘কম কথা’ বলার অভ্যাস করবে।
২৬. যা নিজের জন্য পছন্দ করবে, তা অন্যের জন্যও পছন্দ করবে।
২৭. দিনের বেলায় সতর্কভাবে বাক্যালাপ করবে।
২৮. সর্বদা নিজ জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
২৯. অনর্থক কথাবার্তা থেকে মুক্ত থাকবে।
৩০. মানুষের সামনে কাউকে লজ্জা দেবে না।
৩১. মানুষের সামনে হাই তুলবে না।
৩২. নিরপরাধ ও নির্দোষকে অপরাধী ও দোষী সাব্যস্ত করবে না।
৩৩. নিজের সম্পদ গোপন রাখবে, তা বন্ধু ও শত্রু কারও কাছে প্রকাশ করবে না।
৩৪. পিতা-মাতার অস্তিত্বকে অমূল্য সম্পদ ও গনিমত মনে করবে।
৩৫. বন্ধু ও শত্রু উভয়ের সঙ্গেই হাসিমুখে অবস্থান করবে, কথা বলবে।
৩৬. নিজ খাঁটি বন্ধুদের মনে-প্রাণে বন্ধু জানবে।
৩৭. যৌবনে এমনসব কাজ করবে, যা ধর্ম ও দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রে উপকারী হয়।
৩৮. যৌবনকালকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করবে।
৩৯. যে কথাই বলবে মাপজোখ ও প্রামাণ্যরূপে হওয়া চাই।
৪০. বুদ্ধিমান ও কল্যণকামী লোকজনের সঙ্গে পরামর্শ করবে।
৪১. ভালো কাজে পরিপূর্ণ চেষ্টা চালাবে।
৪২. বুদ্ধিমান ও সতর্ক লোকজনের সঙ্গে ওঠবস করবে।
৪৩. বোকা লোকজন থেকে দূরে থাকবে।
৪৪. সাধারণ জনগণ যেন তোমার সঙ্গে বেয়াদবি করার সুয়োগ না পায়।
৪৫. উপস্থিত কাজ বাকি রাখবে না।
৪৬. কোনো বিপদগ্রস্তকে নিরাশ করবে না।
৪৭. বিগত শত্রুতাকে নতুনভাবে উত্থাপন করবে না।
৪৮. সম্মানীজন বা বড়দের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হবে না।
৪৯. বড়দের সঙ্গে হাসি-তামাশায় জড়াবে না।
৫০. বড়দের সামনে আগে আগে চলবে না।
লেখক : মুফতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ

Himi 5

পর্ব-৯

১. মধ্যদুপুর ও মধ্যরাত, এই দুটি সময় আমার খুব প্রিয়। মধ্যদুপুরের যেমন এক ধরনের মাদকতা আছে, ঠিক মধ্যরাতের আছে নিঃশ্চুপ নিরবতা।। মাদকতা আর নিরবতা আর কি চাই….

২. চারপাশে পত্রপুষ্পশোভিত বৃক্ষরাজি। আকাশে চির পূর্ণিমার চাঁদ, যে-চাঁদের ছায়া পড়েছে ময়ূরাক্ষী নামের এক নদীতে।সেই নদীর স্বচ্ছ জলে সারাক্ষন খেলা করে জোছনার ফুল। দূরের বন থেকে ভেসে আসে অপার্থিব সংগীত।

৩. দু’ধরনের মানুষের মধ্যে পাগলামি প্রকাশিত হয়। প্রতিভাবান মানুষ এবং কর্মশূন্য মানুষ।

৪. গাধা এক ধরনের আদরের ডাক। অপরিচিত বা অর্ধ- পরিচিত কাউকে গাধা বলা যাবে না। বললে মেরে তক্তা করে দেবে। প্রিয় বন্ধুদেরই গাধা বলে ডাকা যাই।

৫. বেশি সুন্দরী মেয়েদের রাগও বেশি থাকে ।

৬. অসুস্থ মানুষকে প্রকৃতি খুব প্রভাবিত করে। পরিবেশেরও রোগ নিরাময়ের ক্ষমতা আছে।

৭. বিরাট খোলা মাঠে একা থাকা যায়, কিন্তু ছোট্ট একটা বাড়ীতে একা থাকা যায় না।

৮. বলা হয়ে থাকে, সৈনিকদের বুদ্ধি থাকে হাঁটুতে। এটা ঠিক না। তাদের বুদ্ধি থাকে বুট জুতায়। যখন তারা বুট পরে তখন তারা বুদ্ধিশূন্য মানুষে পরিণত হয়। তখন তাদের বুদ্ধি চলে যায় বুট জুতায়।

৯. ইউনিভার্সিটির মেয়েরা মাথায় ঘোমটা দেয় শুধূ আজানের সময়।

১০. একঘেয়ে কোন আকর্ষণই আকর্ষণ থাকে না। মায়ের প্রতি মানুষের অন্ধ ভালবাসা ফিকে হয়ে আসে একঘে’য়েমীর জন্যেই।

১১. কাগজে কলমে করা নিখুঁত পরিকল্পনা বাস্তবে ভেস্তে যায়। তুচ্ছ কারণেই ঘটে। A kingdom is lost for a nail.

১২. মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপেক্ষা নামের ব্যপারটি খুব প্রয়োজন। অপেক্ষা হচ্ছে মানুষের বেঁচে থাকার টনিক!

১৩. কাউকে ভালোবাসলে বেশি কাছে যাবার চেষ্টা করতে নাই। তাতে করে কাছে যাবার আকুতি দেখে সে হয়তো দূরে চলে যেতে পারে।কেননা, মানুষ সোজা পথের চেয়ে বাকা পথে হাটতে আনন্দ পায় বেশি। কিন্তু সব কিছু হারিয়ে সোজা পথেই আসতে হয়। সেই সময়ে নতুন করে ভালোবাসার ইচ্ছা টা আর থাকে না।

১৪. সব মানুষের জীবনের কোন না কোন সময় অদ্ভূত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। তখন সে যুক্তির সিঁড়ি থেকে সরে দাঁড়ায়। নিজেকে সমার্পন করে রহস্যময়তার কাছে।

১৫. ব্যবহার না করলে বুদ্ধি কিন্তু নষ্ট হয়ে যায়। তোমাকে যদি একমাস একটা ঘন অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়, একবারও যদি সেই ঘরে আলো না জ্বালা হয়, তাহলে একমাস পর দেখা যাবে তুমি চোখে কিছুই দেখছ না। তুমি পুরোপুরি অন্ধ হয়ে গেছ। এটা বৈজ্ঞানিক সত্য।

১৬. বাঙালি অদ্ভুত এক জাতি। যাদের বিশ্বাস করে, তাদের সব কথা বিশ্বাস করে। তারা যদি বলে- চিলে কান নিয়ে গেছে- কান নিয়েছে কী নেয় নি যাচায় করে না। গালের পাশে হাত দিলেই বুঝবে কান এখনো আছে। জুলপির পাশেই ঝুলছে। তারপরেও দলবেঁধে লাঠিসোটা নিয়ে ছুটতে থাকে চিলের পেছনে।

১৭. এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটি মানুষই নিখোঁজ, তাই নয় কি? মানুষ জন্মের পর থেকে তার ঠিকানা খুঁজে বেড়ায়, এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়, কিন্তু কেউ কি তার আসল ঠিকানা খুঁজে পায়, পায় না!

১৮. বিশেষ কোনো ঘটনা সেলিব্রেট করার জন্য আছড়ে নারিকেল ভাঙ্গার প্রথা ছিল। পশ্চিমা দেশে নারিকেলের পরিবর্তে শ্যাম্পেনের বোতল খোলা হয়।

১৯. কোন পরিবারে একজন কেউ কানে কম শুনলে বাকি সবাই জোরে কথা বলে।

২০. হে মানব সন্তান। তুমি তোমার ভালবাসা লুকাইয়া রাখিও। তোমার পছন্দের মানুষদের সহিত তুমি রুঢ় আচরণ করিও। যেন তোমার স্বরূপ বুঝতে না পারে। মধুর আচরণ করিবে দুর্জনের সঙ্গে। নিজেকে অপ্রকাশ রাখার এই প্রথম পাঠ।

২১. বড় রকমের অসুখবিসুখের সময় মানুষের মন দুর্বল থাকে। মানুষের ব্যথা – বোধের মূল কেন্দ্র মস্তিস্ক।

২২. সাধারণত রূপবতীরা মানুষকে আকর্ষণ করে না – একটু দূরে সরিয়ে রাখে।

২৩. লজিক ব্যবহার করার ক্ষমতা সবার মধ্যেই আছে। বেশীরভাগ মানুষই তা ব্যবহার করে না।

২৪. একজন ক্ষতিকর মানুষ সমাজের যতটা ক্ষতি করতে পারে । তার চেয়ে এক’শ গুন বেশী ক্ষতি করতে পারে সেই মানুষটির লেখা একটি বই।

২৫. প্রকৃতি শুধুমাত্র মেয়েদের মধ্যেই বিপরীত গুণাবলীর দর্শণীয় সমাবেশ ঘটিয়েছে, মেয়েকে যেহেতু সব সময়ই সন্তান ধারণ করতে হয়, সেহেতু প্রকৃতি তাকে করল – শান্ত, ধীর, স্থির। একই সঙ্গে ঠিক একই মাত্রায় তাকে করল – অশান্ত, অধীর, অস্থির”

২৬. মেয়েরা সিরিয়াস টাইপ পুরুষ পছন্দ করে।যারা কথায় কথায় রসিকতা করে মেয়েরা তাদের ছ্যাবলা ভাবে।

২৭. আমাদের সমাজটা এমন যে বেশির ভাগ শাস্তিই আমাদের বিনা কারনে পেতে হয় ।

২৮. ঈশ্বর যদি কাউকে মারতে চান তাহলে কি তার কোন আয়োজন করার প্রয়োজন আছে ? তাহলে মরতে কিসের ভয় , একবারই তো মরতে হবে ।

২৯. এই পৃথিবীতে মূল্যবান শুধু মানুষের জীবন, আর সব মূল্যহীন।

৩০. মানুষ খুব যুক্তিবাদী প্রাণী হলেও তার মধ্যে অনেকখানি অংশ আছে যুক্তিহীন | মানুষ যুক্তি ছাড়াই বিশ্বাস করতে ভালবাসে।

৩১. মানুষ যুক্তি ছাড়াই বিশ্বাস করতে ভালোবাসে | সে সারাক্ষণ চেষ্টা করে অসহায়ত থেকে মুক্তি পেতে।

৩২. আমরা যে জিনিস বুঝতে পারিনা তাকেই ভয় পাই।

৩৩. যে লাঠি দিয়ে অন্ধ মানুষ পথ চলে,সেই লাঠি দিয়ে মানুষও খুন করা যায়। হাতের তসবি গলার মালাও হতে পারে।

৩৪. গরম মাড় কিংবা গরম পানি কুকুরের গায়ে ফেলে আমরা বড় আনন্দ পাই | ব্যাথা যন্ত্রণায় সে ছটফট করে – দেখে আমাদের বড়ই ভাল লাগে | মানুষ হিসেবে সমগ্র পশুজগতে আমরা শ্রেষ্ঠ, সেটা আবারও প্রমাণিত হয় !!

৩৫. সূর্যোদয় দেখাটা অত্যন্ত জরুরী। এই দৃশ্যটি মানুষকে ভাবতে শিখায়। মন বড় করে।


Himu 4

পর্ব-৭

১. পৃথিবীর সব শিশু বয়স্ক ভীতু মানুষ দেখতে পছন্দ করে।

২. অবিশ্বাসের কাজগুলো খুব বিশ্বাসীরাই করে।

৩. পৃথিবীর সব শিশু বয়স্ক ভীতু মানুষ দেখতে পছন্দ করে।

৪. কেউ যখন ভয়ংকর অসুখ হয় তখন তার চারপাশের জগৎও শূন্য হয়ে পড়ে। তার মস্তিস্ক তখন তার জন্যে একজন সঙ্গী তৈরী করে।

৫. পশুদের জ্ঞান আছে, বুদ্ধি আছে, চিন্তাশক্তি আছে। এসব জেনেও আমরা অস্বীকার করি শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থে। অস্বীকার না করলে আমরা এদের কে হত্যা করে খেতে পারতাম না। আমাদের লজ্জা করত।

৬. সমাজের সর্ব নিম্নস্তরে যাদের বাস তাদের আবেগ-টাবেগ বোধহয় কম থাকে।

৭. সব মেয়ের ভেতর যেমন একজন পুরুষ বাস করে। সব ছেলের মধ্যেও একটি নারী বাস করে। নারী-পুরুষের বিভাজন রেখা দুর্বল।

৮. বিশেষজ্ঞদের কিছু জিজ্ঞেস করলেই তাঁরা এমন ভঙ্গিতে তাকান যেন প্রশ্নকর্তার অজ্ঞতায় খুব বিরক্ত হচ্ছেন। প্রশ্ন পুরোপুরি না শুনেই জবাব দিতে শুরু করেন।

৯. একমাত্র মানুষই খিদে না থাকলেও লোভে পড়ে খায় ।

১০. আল্লাহতালা মেয়েগুলিকে এত সুন্দর করে পাঠিয়েছেন কেন কে জানে? মেয়েদের সবই সুন্দর। এরা রাগ করলেও ভালো লাগে, অপমান করলেও ভালো লাগে। ভালোবাসার কথা বললে কেমন লাগবে কে জানে?

১১. ভিক্ষুক শ্রেণীতে লুলা স্বামীর অনেক কদর। আর্মি অফিসার এবং ইঞ্জিনিয়াররা রুপবতী স্ত্রী পায়। লুলা ভিক্ষুকরাও রুপবতী ভিক্ষুক স্ত্রী পায়!

১২. সব পুরুষের ভেতরই শয়তান থাকে। ছোট শয়তান, মাঝারি শয়তান,বড় শয়তান। চেহারা দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই। যে যত বড় শয়তান তার চেহারা ততটাই ভাজা মাছ উল্টে খেতে পারি না টাইপ।

১৩. কোন মেয়েকেই আসলে পাওয়া যায় না। তারা অভিনয় করে সঙ্গে আছে এ পর্যন্তই। অভিনয় শুধু যে অতি প্রিয়জনদের সঙ্গে করে তা না, নিজের সঙ্গেও করে। নিজেরা সেটা বুঝতে পারে না।

১৪. একজন মানুষ তার এক জীবনে অসংখ্যবার তীব্র ভয়ের মুখোমুখি হয়। তুমিও হইবে। ইহাই স্বাভাবিক। ভয়কে পাশ কাটাইয়া যাইবার প্রবণতাও স্বাভাবিক প্রবণতা। তুমি অবশ্যই তা করিবে না। ভায় পাশ কাটাইবার বিষয় নহে। ভয় অনুসন্ধানের বিষয়। ঠিকমতো এই অনুসন্ধান করিতে পারিলে জগতের অনেক অজানা রহস্য সম্পর্কে অবগত হইবে। তোমার জন্য ইহার প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে তোমাকে বলিয়া রাখি, এই জগতের রহস্য পেয়াজের খোসার মতো। একটি খোসা ছাড়াইয়া দেখিবে আরেকটি খোসা। এমনভাবে চলিতে থাকিবে- সবশেষে দেখিবে কিছুই নাই। আমরা শূন্য হইতে আসিয়াছি, আবার শূন্যে ফিরিয়া যাইব। দুই শূন্যের মধ্যবর্তী স্থানে আমরা বাস করি। ভয় বাস করে দুই শূন্যে। এর বেশি এই মুহূর্তে তোমাকে বলিতে ইচ্ছা করি না।

১৫. মানুষ দু’টা সময়ে খেলতে পছন্দ করে। শৈশবে এবং বৃদ্ধ বয়সে। শৈশবে খেলার সঙ্গী জুটে যায়, বৃদ্ধ বয়সে কাউকে পাওয়া যায় না। তখন খেলতে হয় নিজের সঙ্গে।

১৬. অধিকাংশ মানুষই আজকাল গুছিয়ে কথা বলতে পারে না। চিন্তা এলোমেলো থাকে বলে কথাবার্তাও থাকে এলোমেলো।

১৭. একটা চড়ুই পাখির মস্তিস্কের পরিমান কত? খুব বেশী হলে পঞ্চাশ মিলিগ্রাম। মাত্র পঞ্চাশ মিলিগ্রাম মস্তিস্ক নিয়েও সে বিপদ আঁচ করতে পারে। মানুষ কিন্ত পারে না। সিক্সথ সেন্স মানুষের ক্ষেত্রে তেমন প্রবল নয়।

১৮. শুরু হল একটি অন্ধকার দীর্ঘ রাত। মানুষের সঙ্গে পশুদের একটা বড় পার্থক্য আছে। পশুরা কখনো মানুষদের মত হৃদয়হীন হতে পারে না। পঁচিশে মার্চের রাতে হৃদয়হীন একদল পাকিস্তানী মিলিটারি এ শহর দখল করে নিল। তারা গুড়িয়ে দিল রাজারবাগ পুলিশ লাইন। জগন্নাথ হল ও ইকবাল হলের প্রতিটি ছাত্রকে গুলি করে মারল। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকে হত্যা করল শিক্ষকদের। বস্তিতে শুয়ে থাকা অসহায় মানুষদের গুলি করে মেরে ফেলল বিনা দ্বিধায়। বাঙালীদের বেঁচে থাকা না থাকা কোন ব্যাপার নয়। এরা কুকুরের মত প্রাণী, এদের মৃত্যুতে কিছুই যায় আসে না। এদের সংখ্যা যত কমিয়ে আনা যায় ততই মঙ্গল। এদের মেরে ফেল। এদের শেষ করে দাও। এক রাতে এ শহর মৃতের শহর হয়ে গেল। অসংখ্য বাবা তাঁদের ছেলেমেয়েদের কাছে ফিরে গেল না। অসংখ্য শিশু জানল না বড় হয়ে ওঠা কাকে বলে। বেঁচে থাকার মানে কি? [পঁচিশে মার্চ রাতের বর্ণনা]

১৯. বাইরে তখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাসার সামনে বিশাল পুকুর। পুকুর থেকে ঝুপ ঝুপ বৃষ্টির শব্দ আসছে। পিরোজপুর শহরে বৃষ্টি হওয়া মানেই কারেন্ট চলে যাওয়া। আমি সিরিয়াসলি পড়ছি ভেবেই আমার সামনে হারিকেন দেয়া হয়েছে। আমার মাথার ভেতর একের পড় এক লাইন আসছে। এক ধরনের অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে আমি লিখতে শুরু করেছি আমার প্রথম উপন্যাস – শঙ্খনীল কারাগার।

২০. বাঙালি মেয়েরা দামি জিনিস তা সে যতই ক্ষতিকর হোক, ফেলে না। ডেট এক্সপায়ার হওয়া ওষুধও জমা করে রাখে।

২১. মহাপুরুষদের সবকিছু জয় করতে হয়। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ঘুম। ঘুম হচ্ছে দ্বিতীয় মৃত্যু। সাধারণ মানুষ ঘুমায়—অসাধারণরা জেগে থাকে।

২২. কৌতুহল আমাদের সবারই আছে, কিন্ত কৌতুহল মেটানোর জন্যে প্রয়োজনীয় পরিশ্রমটি আমরা করি না। করতে চাই না।

২৩. মেয়েরা অতি দূরের আত্মীয়কে কাছের প্রমাণ করার জন্য চট করে তুই বলে।

২৪. পুরুষদের আহত করার কৌশল মেয়েরা খুব তাড়াতাড়ি শিখে ফেলে এবং তা ব্যবহারও করে চমৎকার ভাবে। কেউ তার প্রতিভার বাইরে যেতে পারে না।

২৫. মেয়েদের স্বভাবই হচ্ছে গোপন করা। বয়ঃসন্ধিকালে তারা শরীর গোপন করতে শেখে। গোপন করার এই অভ্যাস তাদের মাথায় ঢুকে যায়। তখন তারা সবই গোপন করে।

২৬. চোখে যা দেখা যায় তা দ্রুত রহস্য হারায়। চোখে যা দেখা যায় না, যেমন ‘মন’, অনেকদিন রহস্য ধরে রাখে।

২৭. যে কথা বেশি বলে তার গুরুত্ব থাকেনা। কথা হলো দুধের মতো। অধিক কথায় দুধ পাতলা হয়ে যায়।

২৮. জগতের যত বড় বড় Crime তার সবের পেছনে একটা মেয়ে মানুষ থাকবে। শুরুতে সেটা মাথায় রাখলে সুবিধা হয়। ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়ে গেল হেলেন নামের নাকবোঁচা এক মেয়ের জন্য।

২৯. খাদ্য দ্রব্য হাত দিয়ে স্পর্শ করাতেও আনন্দ আছে। সাহেবরা কাটাচামচ দিয়ে খায়। খাদ্য হাত দিয়ে ছোঁয়ার আনন্দ থেকে তারা বঞ্চিত।

৩০. মানুষ পরিবেশ দিয়ে পরিচালিত হয় না, মানুষের চালিকাশক্তি তার ডিএনএ। যা সে জন্মসূত্রে নিয়ে এসেছে। তার চারপাশের জগৎ তাকে সামান্যই প্রভাবিত করে।

৩১. শিশুরা লজিক বুঝতে পারে। সমস্যা বড়দের নিয়ে। বড়রা লজিক বুঝতে চায় না।

৩২. শিশুরা অতি সহজে অন্যের অপরাধ ক্ষমা করতে পারে।

৩৩. বয়স হলেই ছেলেরা মেয়েদের দিকে তাকায়। সেই তাকানোয় লজ্জা থাকে, দৃষ্টিতে সংকোচ থাকে।

৩৪. অন্ধকারে একটি সুন্দরী মেয়েও যেমন অসুন্দরী মেয়েও তেমন। পার্থক্যটা হচ্ছে আলোতে।

৩৫. কোনো মৃত মানুষ মহান আন্দোলন চালিয়ে নিতে পারেন না। একজন পেরেছিলেন। আমানুল্লাহ মোহম্মদ আসাদুজ্জামান। তাঁর রক্তমাখা শার্ট ছিল ঊনসত্তরের গনআন্দোলনের চালিকাশক্তি।

৩৬. খুনের মামলায় যে পড়ে সে এবং তার আত্মীয় স্বজনরা কখনো জুম্মার নামাজ মিস দেয় না।

৩৭. ভয় এবং কৌতূহল বোধ হয় পাশাপাশি চলে। প্রচন্ড ভীত মানুষের কৌতূহলও হয় প্রচন্ড। এরা জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়েছে। দেখতে চেষ্টা করছে কী হচ্ছে বাইরে। কেউ কেউ চলে এসেছে বারান্দায়। চোখের সামনে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ দেখার আলাদা মাদকতা আছে। কিছুক্ষণের মধ্যে একধরনের ঘোর তৈরি হয়। মাথার ভেতরে জগাখিচুড়ির মত কিছু হয়। তখন মানুষ যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না এমন কান্ড করে” (২৫ শে মার্চ ১৯৭১ রাত)।

৩৮. একটাই উপদেশ,কার্বুরেটর ঠিক রাখবি। গাড়ির যেমন কার্বুরেটর ঠিক থাকলে সব ঠিক,মানুষেরও একই ঘটনা।

৩৯. আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমাদের যখন গুছিয়ে কথা বলা দরকার তখন টেলিগ্রাফের ভাষায় কথা বলি। আর যখন সার সংক্ষেপ বলা দরকার তখন পাঁচ শ পৃষ্ঠার উপন্যাস শুরু করি।

৪০. একজন মানুষকে সত্যিকারভাবে জানার উপায় হচ্ছে তার স্বপ্নটা জানা।

পর্ব-৮

১. মেয়েদের টাইটে রাখতে হবে। তুলসি দাস বলেছেন – ‘ঢোল এবং স্ত্রী দুইটাকেই মারের উপর রাখতে হবে।

২. প্রথম শ্রেণীর চামচা হচ্ছে যারা স্বার্থ সিদ্ধির জন্যে চামচার ভাব ধরে থাকে। আর তৃতীয় শ্রেণীর চামচা হচ্ছে তারাই যাদের জন্মই হয়েছে চামচা হিসোবে।

৩. সৃষ্টিশীল মানুষ তার অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি কখনো খুব ভেবেচিন্তে করেন না। সেই সব কাজ হঠাৎ করে তৈরী হয়।

৪. আজকালকার ছেলেরা চা ছাড়া আর কিছু খেতে চায় না – অথচ গরমের মধ্যে তেতুলের সরবতের মত ভাল জিনিস আর কিচ্ছু নেই।

৫. রিকশায় চড়ায় একটা রাজকীয় ব্যাপার আছে। মাথা সামান্য উচু করলেই আকাশ দেখতে দেখতে যাওয়া যায়।

৬. মানুষ তার আবেগ, ভালোবাসা, ঘৃনার জন্ম ও অবস্থানের জন্যে যে স্থান নির্ধারিত করেছে সেটা হল হৃদপিন্ড- হার্ট।

৭. নতুন বিবাহিত স্বামীদের বেশ কিছুদিন স্ত্রী মনোরঞ্জনের জন্যে ফুচকা চটপটি এইসব খেতে হয়।

৮. মেয়েরা জানে না যে হাসি মুখে পুরুষদের কাছে তারা যদি কিছু চায় – পুরুষদের তা দিতেই হবে।

৯. পমানুষের পুরো জীবনটাই একগাদা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অপূর্ণ তৃষ্ণার সমষ্টি।

১০. মোমবাতির আলোর বই পড়ার আলাদা একটা আনন্দ আছে। আধো আলো আধো ছায়া। বইয়ের জগৎটিও তো তাই- অন্ধকার এবং আলোর মিশ্রণ। লেখকের কল্পনা হচ্ছে আলো, পাঠকের বিভ্রান্তি হচ্ছে অন্ধকার।

১১. ঘুষের ব্যাপারে দরদাম করার দস্তর আছে। দরদাম করে ঘুষ দিলে যিনি ঘুষ নেন তিনি ভাল বোধ করেন। ঘুষ নেয়ার লজ্জাটা কমে যায়।

১২. পাঁচের সঙ্গে দুই যোগ করলে কখন ছয় হয় ? কখন হয় ?’ যখন ভুল হয় তখন হয় ।অংকটা আসলে সহজ।

১৩. মানুষের সবচেয়ে কঠিন অভাব কোনটি? খাদ্যের অভাব। হয় নাই। বস্ত্রের অভাব। ক্ষুধার্ত অবস্থায় তুমি পথে বের হতে পারবে। ভিক্ষা চাইতে পারবে। নগ্ন অবস্থায় সেটা পারবে না।

১৪. যা আমরা বিশ্বাস করি না অথচ বিশ্বাস করতে চাই, তাই আমরা বারবার বলি।

১৫. মহান বীর যোদ্ধাও নিজের স্ত্রীর কাছে অসহায়।

১৬. পেটের ব্যথা ভুলে থাকবার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে থ্রিলার জাতীয় কোন রচনায় মনোনিবেশ করা।

১৭. আমাদের দেশের মানুষদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, যে কাজগুলো তারা করতে পারবে না, সেই কাজগুলোর দায়িত্ব তারা সবচেয়ে আগ্রহ করে নেবে।

১৮. তুমি যখন কারো কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যাত্রা শুরু করবে তখন পেছনে ফিরে তাকাবে না। পেছনে ফিরে তাকানোর অর্থ হলো মায়া নামক ভ্রান্তিকে প্রশ্রয় দেয়া।

১৯. হাতের রেখায় মানুষের ভাগ্য থাকে না। মানুষের ভাগ্য থেকে কর্মে।

২০. স্ত্রীরা স্বামীর যে-কোনো বিষয়ের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহকে সন্দেহের চোখে দেখে।

২১. বুদ্ধিমান কেউ ভালো মানুষ হতে পারে না। ভালো মানুষেরা বোকাসোকা ধরনের হয়।

২২. মন্ত্রীদের আত্মীয় স্বজনেরা কথায় কথায় চাকরি খেতে চায়। চাকরি ছাড়া ওদের মুখে অন্য কিছু রোচে না।

২৩. যুক্তিবিদ্যা অতি দুর্বল বিদ্যা। সব দিকে এই বিদ্যা খাটানো যায়।

২৪. সমস্ত জীব-জন্তু ও পশু-পাখির জীবনের বেশীর ভাগ সময় কেটে যায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করতে গিয়ে। মানুষের জন্যও এটা সত্যি। আমরাও নিরাপদ আশ্রয় খুঁজি।

২৫. আমরা মুখে অনেক কথা বলি না, কিন্ত আমাদের শরীর বলে। মনের ভেতরের কথা শরীর প্রকাশ করে দেয়। আমাদের মন অনেক কিছু বলতে চায় না। কিন্ত শরীর বলে দেয়।

২৬. মহান সৌন্দর্যের মুখোমুখি হলে এক ধরণের তীব্র হাহাকার মনের ভেতরে আপনা-আপনি জন্মায়, সুন্দরের উৎস সন্ধানে ব্যাকুলতা জাগে।

২৭. একজন সাধুর সঙ্গে তুমি যদি কিছুদিন থাক তোমার মধ্যে সাধু স্বভাব চলে আসবে। দুষ্ট লোকের সঙ্গে কিছুদিন থাক তোমার মধ্যে ঢুকবে দুষ্ট স্বভাব।

২৮. মানুষের কল্পনারও সীমা থাকে। আমার তো মনে হয় না কেউ কখনো কল্পনা করে সে উড়তে পারে। আকাশে উড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে। কল্পনাকেও যুক্তির ভিতর থাকতে হয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কল্পনাশক্তিও কমতে থাকে। একটা সময় আসে যখন মানুষ কল্পনা করেনা।

২৯. শৈশবে এক জ্যোতিষী আমার হাত দেখে বলেছিলেন, আমি ঠান্ডা মাথায় খুন করতে পারবো। তার গণনা কিন্তু এক অর্থে মিলে গেছে। এইসব দিনরাত্রি নামক ধারাবাহিক নাটকে আমি টুনিকে ঠান্ডা মাথায় খুন করেছি। শুধু টুনি না, আমার উপন্যাসের অনেক চরিত্রকেও অকালে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। আমি কি করব? আমার হাতে লেখা।

৩০. মনের তীব্র ব্যাথা কমানোর একটি উপায় হচ্ছে কিছু লেখা। যে লেখা ব্যক্তিগত দুঃখকে ছড়িয়ে দেয় সবদিকে।

৩১. বাংলাদেশ আর কিছু পারুক না পারুক, একদল পাগল ছেলে তৈরি করে পৃথিবীময় ছড়িয়ে দিয়েছে! যারা বাংলাদেশ ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারে না।

৩২. যা পাওয়া যায়না তার প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।

৩৩. ছায়া ঢাকা ঘুঘু ডাকা’ গ্রাম তেমন পছন্দ হচ্ছে না। শহরবাসী হওয়ার এই এক সমস্যা। ভোরবেলা চায়ের কাপের সাথে পত্রিকা লাগে। ভালো বাথরুম লাগে। রাতে বই পড়ার জন্য টেবিল ল্যাম্পের আলো লাগে।

৩৪. মেয়েরা সাধারণত টিপ দেওয়ার ব্যাপারে খুব সাবধানী হয়। টিপ এক পাশে হলে সংসারে সতীন জোটে- তাই বাড়তি সাবধানতা।

৩৫. একটা বয়স পর্যন্ত হয়তো মেয়েদের অকারণ অর্থহীন কথা শুনতে ভালো লাগে, তারপর আর লাগে না। এই মেয়েটি অকারণে কথা বলেই যাচ্ছে। মেয়েটার মনে গোপন কোনো টেনশন আছে কি? টেনশনের সময় ছেলেরা কম কথা বলে, মেয়েরা বলে বেশি।

৩৬. পুরনো জিনিস তো আবার ফিরে আসছে। পুরনো প্যাটার্নের গয়নাকে এখন খুব আধুনিক ভাবা হচ্ছে।

৩৭. গ্রামের মানুষদের মধ্যে সবচে বেশি কথা বলে নাপিতরা। তারপরেই স্কুল শিক্ষকরা।

৩৮. নামে কিছু আসে যায় না। আসে যায় কর্মে। যিশুখ্রিষ্টকে বিশুব্রিষ্ট ডাকলেও তাঁর যিশুত্ব কিছু মাত্র করবে না।

৩৯. বস জাতীয় মানুষদের কাছে থেকে ভালো ব্যবহার পাওয়া যায় না। যখন পাওয়া যায় তখন মনে হয় কোথাও বোধহয় সমস্যা আছে।

৪০. পুলিশের চাকরির আসল মজা ইউনিফর্মে। দেখা মাত্র সবাই সমীহ করে তাকাবে।


Himu 3

পর্ব-৫

১. দুই ধরনের মানুষ মিথ্যা কথাবলতে পারে না। সবল মনের মানুষ আর দুর্বল মনের মানুষ।

২. মানুষই একমাত্র প্রাণী যে পুরোপুরি সফল জীবনযাপন করে আফসোস নিয়ে মৃতবরণ করে…

৩. তুমি তোমার জীবনে ভেজাল হাসিকে আসতে দিও না।মনে কষ্ট পেলে কাদবে।মনের কষ্ট চাপা দেয়ার জন্য হাসির ভান করার প্রয়োজন নেই।

৪. পাখি উড়ে গেলেও পলক ফেলে যায়,আর মানুষ চলে গেলে ফেলে রেখে যায় স্মৃতি।

৫. কিছু মানুষের উপর আপনি কখনোই আস্থা রাখতে পারেন না। এরা নিজের সুখের জন্য ঝুলন্ত অবস্থায় পাহাড়ের চূড়া থেকে আপনার হাত ছেড়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না।

৬. একটা মেয়ের ভালবাসায় অনেক কিছু যুক্ত থাকে – সংসারের স্বপ্ন, শিশুর স্বপ্ন। থাকে অনাগত দিন সুন্দরভাবে যাপনের স্বপ্নও। কিন্তু কোন ছেলে প্রেমে পড়লে শুধু তার প্রেমিকাকেই দেখে। স্বপ্নের কোন অস্তিত্ব সেখানে থাকে না।

৭. ক্লাস টেনের মেয়েরা পাত্রী হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ হয়। কারণ এই বয়সে মেয়েরা প্রথম পুরুষের ব্যাপারে কৌতুহলি হয় এবং প্রেম করার জন্য ছোঁক ছোঁক করে। বিয়ের পর হাতের কাছে স্বামীকে পায়বলে প্রথম প্রেমটা স্বামীর সঙ্গে হয়। আর এই প্রেম দীর্ঘস্থায়ী হয়।

৮. ছেলে এবং মেয়ে বন্ধু হতে পারে,কিন্তু তারা অবশ্যই একে অপরের প্রেমে পড়বে। হয়ত খুবই অল্প সময়ের জন্য, অথবা ভুল সময়ে। কিংবা খুবই দেরিতে, আর না হয় সব সময়ের জন্য।তবে প্রেমে তারা পড়বেই!

৯. সারাজীবনে কখনো ভালো না বেসে থাকার চেয়ে, একবার ভালোবেসে তাকে হারানো উত্তম।

১০. পৃথিবীতে এমন কোনো কাজ নেই যা করলে জীবন ব্যার্থ হয়। জীবন এতই বড় ব্যাপার যে একে ব্যার্থ করা খুবই কঠিন…

১১. যার ওপর মায়া পড়েছে তার সঙ্গে শুধু কথা বলতে ইচ্ছে করে।এই ইচ্ছেটিই বিপজ্জনক। কথা বলা মানেই মায়া বাড়ানো।

১২. সুন্দরী মেয়ে সঙ্গে নিয়ে হাঁটলেই আপনাআপনি ছেলেদের চেহারায় কিছুটা গাম্ভীর্য চলে আসে।

১৩. পৃথিবীর সকল সৌন্দর্যই দূর থেকে দেখতে হয়,খুব কাছ থেকে দেখতে গেলেই সৌন্দর্য টা কমে যায়।

১৪. মানুষের মন বিচিত্র জিনিস। সমস্ত নক্ষত্র পূঞ্জে যে জটিলতা ও রহস্য তার থেকেও রহস্যময় মানুষের মন।

১৫. আমরা জানি একদিন আমরা মরে যাব। এই জন্যেই পৃথিবীটাকে এত সুন্দর লাগে। যদি জানতাম আমাদের মৃত্যু নেই তাহলে পৃথিবীটা কখনোই এত সুন্দর লাগতো না।

১৬. জোছনা দেখতে হয় সাদা রঙের কাপড় পরে। কালো কাপড় পরে জোছনা দেখা যায় না। একইভাবে বর্ষা দেখতে কদম ফুল লাগে।

১৭. ভালোবাসা একটা পাখি। যখন খাঁচায় থাকে তখন মানুষ তাকে মুক্ত করে দিতে চায়। আর যখন খোলা আকাশে তাকে ডানা ঝাপটাতে দেখে তখন খাঁচায় বন্দী করতে চায় ।

১৮. হ্যাঁ এবং না পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দুটি শব্দ কিন্তু এ শব্দ দুটি বলতে মানুষের সবচেয়ে বেশী ভাবতে হয়।

১৯. বাঙ্গালীকে বেশি প্রশংসা করতে নেই। প্রশংসা করলেই বাঙালি এক লাফে আকাশে উঠে যায়। আকাশে উঠে গেলেও ক্ষতি ছিল না- আকাশ থেকে থুথু ফেলা শুরু করে।

২০. পুরুষ মানুষ হাবা হলে চলে কিন্তু মেয়ে মানুষ হাবা হলে চলে না। তাহলে কপালে দুঃখ জোটে।

২১. বেশির ভাগ মানুষের স্বভাব হচ্ছে বিড়ালের মত। তারা সুখের সময় পাশে থাকে। দুঃখকষ্ট যখন আসে তখন দুঃখ কষ্টের ভাগ নিতে হবে এই ভয়ে চুপি চুপি সরে পড়ে। তাদের কোন দোষ নেই। আল্লাহ মানুষকে এমন করেই তৈরি করেছেন। তারপরেও কিছু কিছু মানুষ আছে যারা দুঃখ- কস্টের সময় পাশে এসে দাঁড়ায়। দুঃখ- কষ্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মত বড় কোন অস্র তাদের হাতে থাকে না। তাদের থাকে শুধু হৃদয় পূর্ণ ভালবাসা।

২২. মেয়েদের মানসিক প্রস্তুতি শুরু হয় ছেলেদেরও আগে। তারা তাদের কচি চোখেও পৃথিবীর নোংরামি দেখতে পায়।সে নোংরামির বড় শিকার তারাই। তাই প্রকৃতি তাদের কাছে অন্ধকারের খবর পাঠায় অনেক আগেই।

২৩. নোংরা কথা শুনার মাঝে মানুষ এক ধরণের নিষিদ্ধ আনন্দ পায়…

২৪. প্রেমের যে কি প্রচণ্ড ক্ষমতা,প্রেমে না পড়লে বুঝা যায় না…

২৫. মানব জাতি অপেক্ষা পছন্দ করে না। তবু তাকে অপেক্ষা করতে হয়। ভালবাসার জন্য অপেক্ষা, ঘৃনার জন্য অপেক্ষা, মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা, আবার মুক্তির জন্য অপেক্ষা।

২৬. পৃথিবীর ঘৃণ্য চরিত্র গুলো নারীদের মাঝে দেখা গেলেও, তার পেছনে পুরুষের উপস্থিতি শতভাগ থাকে।

২৭. মেয়ে জাতটাই হচ্ছে মায়াবতীর জাত। তারা তাদের মায়ায় সবাইকে আচ্ছ্বন্ন করে রাখে।

২৮. মানুষকে তোমার মনের দুর্বলতা বুঝতে দিওনা, কেননা মানুষ তোমার মনের দুর্বলতা জানলে তা নিয়ে খেলা করতে আনন্দ পাবে ।

২৯. যদি ভালো পেনসিল হতে না পারো,কারো সুখের গল্প লিখার জন্য তাহলে ভাল রাবার হও। যেন তার দুঃখ মুছে দিতে পারো।

৩০. আমরা স্বপ্ন পূজারী তাই সর্বদা স্বপ্ন গড়ি। একটা স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলে আবার নতুন একটা স্বপ্ন গড়ি এভাবে চলতেই থাকে।

৩১. বুদ্ধিমতীরা নিজেকে ভালোবাসে অন্য কাউকে ভালোবাসতে পারে না। ভালোবাসার ভান করে।

৩২. কিছু মানুষ জীবনে আসে ক্ষনিকের জন্য,হঠাৎ চলে যায় ঘুর্নিঝড়ের মত, ধ্বংস করে দিয়ে যায় মনের ঘরবাড়িকে।

৩৩. হারিয়ে যাওয়া মানুষ ফিরে আসলে সে আর আগের মত থাকে না। কেমন জানি অচেনা অজানা হয়ে যায়। সবই হয়তো ঠিক থাকে কিন্তু কি যেন নাই,কি যেন নাই……

৩৪. রাত্রি কখনও সূর্যকে পায় না, তাতে ক্ষতি নেই। কারণ সে পেয়েছে অনন্ত নক্ষত্রবীথি।

৩৫. পুরুষ মানুষকে চোখে চোখে রাখতে হয়। চোখের আড়াল হলেই এরা অন্য জিনিস।

৩৬. স্বপ্ন টা কেমন ছিল, তা ঘুম ভাঙ্গার পর বুঝা যায়। ঠিক তেমনি কাছের মানুষ কেমন ছিল, তা শুধু হারিয়ে যাবার পর বুঝা যায়।

৩৭. যার রাগ বেশি সে নিরবে অনেক ভালোবাসতে জানে, যে নিরবে ভালোবাসতে জানে তার ভালোবাসার গভীরতা বেশি, আর যার ভালোবাসার গভীরতা বেশি তার কষ্ট অনেক বেশি।

৩৮. একটা মেয়ের জন্য তোমাকে পারফেক্ট হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই, কারন মেয়েরা কখনোই পারফেক্ট ছেলেদের সাথে প্রেম করে না।

৩৯. সব সৌন্দর্যে ব্যাখ্যাতীত কিছু ব্যাপার থাকে। রবীন্দ্রনাথ ব্যাপারটা বুঝেছিলেন বলেই ব্যাখ্যায় না গিয়ে বলেছেন- বাজিল বুকে সুখের মতো ব্যথা।

৪০. যারা সুখী হয় তাদের মধ্যে সুখী হবার বীজ থাকে। জল, হাওয়া এবং ভালোবাসায় সেই বীজ থেকে গাছ হয়।

পর্ব-৬

১. সত্য কথাগুলো সব সময় বক্তৃতার মতো শোনায়, মিথ্যাগুলো শোনায় কবিতার মত।

২. ভোরবেলায় সমুদ্র দেখতে গেলাম। সমুদ্র দেখে হকচকিয়ে গেলাম। আকাশের মত বিশাল কিন্তু নিস্তব্ধ- প্রাণময়। এমন বিশাল এবং প্রায় জীবন্ত কিছু যে পথিবীতে থাকতে পারে তা ছেলেমানুষী কল্পনায় এর আগে কখনো আসেনি। সমুদ্রের তীব্র আকর্ষণ ক্ষমতা আছে। সে সারাক্ষণ ডাকে, আয় আয়- কাছে আয়।

৩. সুট-টাই পরা মানুষ অবশ্যি নরম স্বরে কথা বলতে পারে না। আপনাতেই তাঁদের গলার স্বরে একটা ধমকের ভাব চলে আসে। অবশ্যি স্যুট পরা মানুষ মিনমিন করে কথা বললে শুনতেও ভালো লাগে না। তাদেরকে ঘর জামাই মনে হয়। শ্বশুর বাড়িএ স্যুটে পার্সোনালিটি আসে না।

৪. আমরা (বাংলাদেশের মানুষ) অতি দরিদ্র এই কথা সত্যি। দু’বেলা খেতে পারি না এও সত্যি। অভাবের কারণে জাল-জুয়াচুরি কেউ কেউ করে, এও সত্য- তবে সঙ্গে সঙ্গে এটাও সত্যি আমরা আমাদের আত্মাকে হারাইনি। আমরা দুঃখে-কষ্টে জীবন-যাপন করি এবং এর মধ্যেই আত্মাকে অনুসন্ধান করি।খাঁচার ভেতর যে অচিন পাখি আসা-যাওয়া করে সেই পাখিটাকে বোঝার চেষ্টা করি।

৫. প্রেম নিতান্তই জৈবিক ব্যাপার। নীলপদ্ম বলে একে মহিমান্বিত করার কিছু নেই।

৬. ধুমপানও অভ্যাসের ব্যাপার। অভ্যাস না থাকলে সিগারেটের ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসবে। আবার যারা অভ্যস্ত তারা পাগল হয়ে থাকে এই ধোঁয়াটার জন্য।

৭. মানুষের সঙ্গে গাছের অনেক মিল আছে। সবচেয়ে বড় মিল হলো, গাছের মত মানুষেরও শিকড় আছে। শিকড় উপড়ে ফেললে গাছের মৃত্যু হয়, মানুষেরও এক ধরনের মৃত্যু হয়। মানুষের নিয়তি হচ্ছে তাকে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মৃত্যুর ভেতর দিয়ে অগ্রসর হতে হয় চুড়ান্ত মৃত্যুর দিকে।

৮. আমাদের একজন লেখিকা পশ্চিমা মিডিয়াতে অনেক প্রচার পেয়েছেন, তা সত্য। আমাদের কালচার ও ধর্মকে খাটো করে কেউ লেখা-লেখি করলে তাকে নিয়ে পশ্চিমারা মাতামাতি করতে পছন্দ করে। সেই সূত্রে তিনি প্রচারটা পেয়েছেন।

৯. হোটেলের মালিক বললেন, সাগরের হাওয়ায় মশা থাকে না, মশারি লাগবে না। তার কথায় বিশ্বাস করে ঘুমুতে গেলাম।দেখা গেল, মশা শুধু যে আছে তাই না, প্রবলভাবেই আছে। সমুদ্রের স্বাস্থ্যকর হাওয়ার কারণে মশারা সবাই স্বাস্থ্যবতী।স্বাস্থ্যবতীরা ঝাঁক বেঁধে এসে আমাকে কামড়াতে লাগল। স্বাস্থ্যবতী মশা বলার উদ্দেশ্য, স্ত্রী মশারাই মানুষের রক্ত খায়, পুরুষরা না। তসলিমা নাসরিন আবার যেন মনে না করে বসেন যে, আমি মহিলা মশাদের ছোট করার জন্য এই কথা লিখছি। এটা একটা বৈজ্ঞানিক সত্য।

১০. একটা মানুষ জগতের আনন্দ যজ্ঞের নিমন্ত্রণে উপস্থিত হয়েছে, এটা অনেক বড় ব্যাপার। আনন্দ যজ্ঞে আমাদের সবার নিমন্ত্রণ। কিন্তু আমরা নিমন্ত্রণের কার্ড হারিয়ে ফেলি বলে যেতে পারি না। দূর থেকে অন্যের আনন্দ যজ্ঞ দেখি।

১১. মানুষ মিথ্যা কথা বলে প্রয়োজনে এবং স্বার্থের কারনে।

১২. অতি ভয়ঙ্কর যে গরল তাহাতেও অমৃত মিশ্রিত থাকে। অতি পবিত্র অমৃতে থাকে প্রাণসংহারক গরল। খাদ ছাড়া সোনা হয় না। গরল ছাড়া অমৃতও হয় না।

১৩. যে মানুষ নিঃশব্দে হাসে তাহার বিষয়ে খুব সাবধান। দুই ধরনের মানুষ নিঃশব্দে হাসে- অতি উঁচু স্তরের সাধক এবং অতি নিম্নশ্রেণীর পিশাচ চরিত্রের মানুষ।

১৪. রুচির রহস্য ক্ষুধায়। যেখানে ক্ষুধা নেই সেখানে রুচিও নেই।

১৫. সৃষ্টিকর্তা বা প্রকৃতি প্রতিটি ছেলেমেয়েকে পাঁচটি অদৃশ্য নীলপদ্ম দিয়ে পৃথিবীতে পাঠান। এই নীলপদ্মগুলি হলো- প্রেম-ভালোবাসা। যেমন ধরো তুমি। তোমাকে পাঁচটি নীলপদ্ম দিয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তুমি কাউকে পাওনি যাকে পদ্ম দিতে ইচ্ছে করেছে। কাজেই তুমি কারোর প্রেমে পড়োনি। আবার ধরো, একটা সতেরো বছরের তরুণীর সঙ্গে তোমার পরিচয় হলো। মেয়েটির তোমাকে এতই ভালো লাগলো যে, সে কোনো দিকে না তাকিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তা না করে তার সব ক’টি নীলপদ্ম তোমাকে দিয়ে দিল।তুমি পদ্মগুলি নিলে,কিন্তু তাকে গ্রহণ করলে না। পরে এই মেয়েটি কিন্তু আর কারও প্রেমে পড়তে পারবে না। সে হয়তো একসময় বিয়ে করবে, তার স্বামীর সঙ্গে ঘর-সংসার করবে, কিন্তু স্বামীর প্রতি প্রেম তার থাকবে না।

১৬. তার ডাক নাম হিমু। ভালো নাম হিমালয়। বাবা আগ্রহ করে হিমালয় নাম রেখেছিলেন যেন বড় হয়ে সে হিমালয়ের মত হয়- বিশাল ও বিস্তৃত, কিন্তু ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নয়। হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়। ইচ্ছে করলে তিনি ছেলের নাম সমুদ্র রাখতে পারতেন। সমুদ্র বিশাল এবং বিস্তৃত। সমুদ্রকে হাত দিয়ে স্পর্শ করা যায়। তার চেয়েও বড় কথা, সমুদ্রে আকাশের ছায়া পড়ে। কিন্তু তিনি সমুদ্র নাম না রেখে রাখলেন হিমালয়। কঠিন মৌ পর্বতমালা, যার গায়ে আকাশের ছায়া পড়ে না ঠিকই কিন্তু সে নিজেই আকাশ স্পর্শ করতে চায়।

১৭. সব মানুষের মাথায় আউলা গাছের বীজ পোঁতা থাকে। সেই বীজ থেকে ছোট্ট চারা বের হয়। চারা বের হওয়া মাত্র গাছ উপরে ফেলে দিতে হয়।

১৮. সুখ এবং দুঃখ আসলে একই জিনিস। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সুখ বদলে গিয়ে দুঃখ হয়ে যায়। দুঃখ হয় সুখ। জীবনের প্রবল দুঃখ ও বেদনার ঘটনাগুলি মনে পড়লে আজ আমার ভালো লাগে। প্রাচীন সুখের স্মৃতিতে বুক বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়।

১৯. অতি বড়লোকদের ড্রয়িংরুমে এমন সব জিনিষ থাকে যা দেখে সুন্দর সময় কাটানো যায়।

২০. বড় ধরনের বিপদের সামনেই একজন মানুষ অন্য একজনের কাছে আশ্রয় খুঁজে ।তাই পৃথিবীতে ভয়াবহ বিপদ আপদেরও দরকার আছে।

২১. দুঃখের কথা বারবার বললে দুঃখ কমে। সুখের কথা বারবার বললে সুখ বাড়ে। এই জন্যে দুঃখের কথা, সুখের কথা দুটোই বারবার বলতে হয়।

২২. মেঘের সঙ্গে মানুষের খুব মিল। মানুষ যেমন কাঁদে মেঘও কাঁদে। বৃষ্টি হচ্ছে মেঘের অশ্রু।

২৩. মস্ত বড় কোন সিদ্ধান্ত নেবার আগে আগে মেয়েদের চোখে সব সময় পানি আসে।

২৪. মেয়েরা তাদের অশ্রু অন্যদের দেখাতে চায় না, প্রিয়জনদের তো কখনোই না!

২৫. ইস্টার্ন সিমেট্রিতে অ্যানি নামের মেয়ের কবরের পাশে একজন বিদেশীর কবর আছে। তার গায়ে চার লাইনের একটি ইতালিয়ান কবিতা যার অর্থ অনেকটা এরকম- ‘এখানে একজন মানুষ ঘুমিয়ে আছে। তাকে শান্তিতে ঘুমুতে দাও।’ কবরটির পাশেই দুটি প্রকান্ড চেরি ফুলের গাছ। বসন্তকালে কবরটি সাদা রঙের চেরিফুলে ঢাকা পড়ে থাকে। বড় চমৎকার লাগে দেখতে।

২৬. বিয়ের কথা ঠিকঠাক হবার পর কোনো এক বিচিত্র কারনে মেয়েরা বাবার দিকে চলে আসে। অতিরিক্ত মমতা দেখায়। খানিকটা আহ্লাদীও করে।

২৭. কিছু মানুষ ধরেই নিয়েছে তারা যা ভাবছে তাই ঠিক। তাদের জগতটাই একমাত্র সত্যি জগত। এরা রহস্য খুঁজবে না। এরা স্বপ্ন দেখবে না ।

২৮. বাংলাদেশে বেশীরভাগ সময় দুই জায়গার টেলিফোন নষ্ট থাকে- পুলিশের টেলিফোন এবং হাসপাতালের টেলিফোন।

২৯. অতি সাধারন যে মানুষ তার চরিত্রেও অবাক হয়ে লক্ষ করার মতো কিছু ব্যাপার থাকে।

৩০. এ জগতে যুক্তিহীন কিছু ঘটে না। অযুক্তি হল অবিদ্যা। এ পৃথিবীতে অবিদ্যার স্থান নেই ।

৩১. রূপবতী মেয়েদের হাসি বেশীরভাগ সময়ই সুন্দর হয় না। দেখা যায় তাদের দাঁত খারাপ।

৩২. আমরা পৃথিবীতে আসি একা,পৃথিবী থেকে ফেরত যাই একা , কিন্ত পৃথিবীতে ঘোরাফিরা করি অনেককে নিয়ে।

৩৩. আলো যেমন চারপাশ আলো করে তোলে একজন পবিত্র মানুষও তার চারপাশ আলো করে তুলবেই।

৩৪. মানুষের অসাধারণ অনেক ক্ষমতার অধিকারী। মানুষের অসাধারণ ক্ষমতার একটি হচ্ছে, দ্রুত অভ্যস্ত হওয়ার ক্ষমতা ।

৩৫. বৃদ্ধ বৃদ্ধরাও জীবনের শেষ দিকে এসে পিকনিক জাতীয় ব্যাপারে খুব আগ্রহী হয়ে পড়েন।

৩৬. অভাবী মানুষদের চোখ কেন জানি পশুদের মতো চকচক করে।

৩৭. মানুষ যখন বড় ধরনের কোন অন্যায় করে তখন সে বুঝতে পারেনা যে সে অন্যায় করছে। বুঝতে পারলে অন্যায়টা সে করতে পারত না। তখন তার কাছে অন্যায়টা ন্যায় মনে হয়। যখন সে অন্যায়টাকে অন্যায় বলে মনে করে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

৩৮. অল্প বয়সের ভালোবাসা অন্ধ গন্ডারের মত। শুধুই একদিকে যায়। যুক্তি দিয়ে, বুদ্ধি দিয়ে, আদর দিয়ে এই গন্ডারকে সামলানো যায় না।

৩৯. পুরুষের জন্মই হয়েছে ধরা খাওয়ার জন্য। কেউ স্ত্রীর হাতে ধরা খায়, কেউ পুত্র-কন্যার হাতে ধরা খায়। কেউ ধরা খায় প্রেমিকার কাছে। আবার কেউ কেউ র্যাবের কাছে ধরা খায়।

৪০. অসম্ভব বুদ্ধিমান মানুষ সব সময় এই ছেলেমানুষীটা করে। তাদের বুদ্ধির ছটায় অন্যকে চমকে দিতে চায়।

Himu 2

পর্ব-৩

১. তুমি আমাকে যে চিটি লিখেছিলে আমি তার জবাব লিখে এনেছি। সাংকেতিক ভাষায় লিখে এনেছি।’ মারিয়া হাত বাড়াল। তার চোখে চাওয়া কৌতুক ঝকমক করছে। মনে হচ্ছে যে কোনো মুহুর্তে হে খিলখিল করে হেসে ফেলবে । যেন সে অনেক কষ্টে হাসি থামাচ্ছে। ‘সাংকেতিক চিঠিটাই কি লেখা পড়তে পারছ?’ ‘পারছি। এখানে লেখা I hate you.’ ‘I Love you – ও তো হতে পারে।’ ‘সংকেতের ব্যাখ্যা সবাই তার নিজের মত করে করে, আমিও তাই করলাম। আপনার আটটা তারার অনেক মানে করা যাই, যেমন – I want you. I miss you. I lost you. আমি আমার পছন্দ মত একটা বেছে নিলাম।

২. ভালো মানুষের রাগ থাকে বেশি। যারা মিচকা শয়তান তারা রাগে না। পাছায় লাথি মারলেও লাথি খেয়ে হাসবে।

৩. প্রতিটি মেয়েই নিষ্ঠুর হবার অসীম ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়।

৪. বিভ্রম তৈরীর খেলা প্রকৃতির খুবই প্রিয় খেলা ।

৫. দুনিয়াতে খুব অল্প কিছু মানুষ আছে,যারা আসলেই আলাদা, সারা জীবনেও তারা কারও আপন হতে পারে না, তাদের কেউই বুঝে না, তাদের সব থেকেও আসলে শূন্যতা ছাড়া কিছুই থাকে না, তারা একা আসে, একা ঘুরে, একাই থাকে, একাই চলে যায়!

৬. এক জন মানুষ সবচেয়ে বেশী ভান করে তার চিঠিতে । যে এই ভানের ওপরে উঠে আসতে পারে, তাকে তার প্রাপ্য সন্মান দিতে হয় ।

৭. ভয়ংকর ভয়ের স্বপ্নে মানুষের ঘুম ভাঙে আবার অস্বাভাবিক আনন্দের স্বপ্নেও মানুষের ঘুম ভাঙে ।

৮. একটি মেয়ে খুব সহজে কাঁদতে পারে। কারণ তারা মাঝে মাঝেই একটু কষ্ট পেয়েই কেঁদে অভস্ত। কিন্তু একটি ছেলে তখনই কাঁদে যখন সে তার কষ্ট কে ধরে রাখতে পারে না। ওই মুহর্তে তার কান্নাটা এতো টাই তীব্র হয়। যে পৃথিবীর সমস্ত সুখ ও যদি এনে দেওয়া হয় কারো ক্ষমতা নেই সেই কান্নাটুকু থামানোর।

৯. প্রকৃতি রহস্য পছন্দ করে বলেই শ্রেষ্ঠ সন্তান মানুষকে নানান রহস্য দিয়ে পৃথিবীতে পাঠায়। সারাজীবন প্রতিটি মানুষ তার রহস্যের খেলা খেলে। কিন্তু প্রকৃতি দাঁড়িপাল্লায় মেপে সবাইকে সমান রহস্য দেন না ।

১০. একখণ্ড বিশাল মেঘ চাঁদটিকে ঢেকে দিয়েছে।চাঁদের আলো এখন আর চোখে লাগছে না। চারদিক কি সুন্দর লাগছে। কি অসহ্য সুন্দর। হতাশা,গ্লানি, দুঃখ ও বঞ্চনার পৃথিবীকে এত সুন্দর করে বানানোর কি প্রয়োজন ছিল কে জানে ?

১১. যারা বেশি কথা বলে তারা মানুষ হিসেবে ভাল হয়।

১২. আবেগ লুকাতে হয় । অতি আবেগ মানুষকে সামনে এগুতে দেয় না ।

১৩. মেয়েদের চরিত্রের একটা বিশেষ দিক হল, যেই মুর্হূতে তারা অপর পক্ষের আগ্রহ টের পায়, সেই মুর্হূতে তারা দপ করে নিভে যায়।

১৪. মেয়ে জাতটাই হচ্ছে মায়াবতীর জাত ।

১৫. সত্যি । মাঝে মাঝে প্রকৃতির এত্ত সৌন্দর্য দেখলে ঠিক থাকতে পারি না । মনে হয়, প্রকৃতির সাথে মিশে একাকার হয়ে যাই । আল্লাহ্ পৃথিবীতেই যদি এত সুখ দিয়ে রাখে, বেহেস্তে কী দিবে?

১৬. তুমি আমার জন্যে দু’ফোটা চোখের জল ফেলেছ–তার প্রতিদানে আমি “জনম জনম কাঁদিব।

১৭. অন্ধকার বলে কিছু নেই, আলোর অনুপস্থিতিকে অন্ধকার বলে। তেমনি কষ্ট বলেও কিছু নেই, সুখের সাময়িক অনুপস্থিতিকে কষ্ট বলে।

১৮. মেয়েদের সবচে বেশি আনন্দ হয়, যখন ঝগড়াতে স্বামীকে হারাতে পারে। স্বামীর পরাজিত মুখ স্ত্রীর কাছে যুদ্ধে জয়ের মতো।

১৯. জীবনটা আসলেই অনেক সুন্দর! এতো বেশি সুন্দর যে, মাঝে মাঝে অসহ্য লাগে।

২০. না পাওয়া ভালোবাসা গুলো সব সময় সত্যি মনে হয়, পাবার পর কত জন মূল্য দিতে পারে?

২১. আমরা মানুষের জটিলতা দেখে অভ্যস্ত, সারল্যকে আমরা ভয় করি। কারো ভেতরে ঐ ব্যাপারটি দেখলে থমকে যাই, এবং আমাদের মনের একটি অংশ বলতে থাকে নিশ্চয়ই কোন একটা রহস্য আছে।

২২. শহরের সাথে গ্রামের এই বুঝি পার্থক্য। শহরে দৃষ্টি আটকে যায়। গ্রামে যায় না।

২৩. সব মানুষের মধ্যে একটা ইষ্টিশন থাকে। সেই ইষ্টিশনের সিগন্যাল ডাউন করা। ইষ্টিশনে সবুজ বাতি জ্বলছে। আনন্দময় ট্রেনের জন্যে অপেক্ষা। কারো কারো ষ্টেশনে ট্রেন সত্যি সত্যি এসে থাকে। কারো কারো ষ্টেশনে আসে ঠিকই, কিন্তু মেলট্রেন বলে থামে না। ঝড়ের মতো উড়ে চলে যায়।

২৪. সব মানুষের মাঝে একজন মহাপুরুষ বাস করে। তাঁরা কখনো প্রকাশিত হন। কখনো হন না।

২৫. মেয়ে জাতটা বড় অদ্ভুত। কী বললে পুরুষ মানুষের মন ভালো হয় সেটা যেমন জানে, আবার কী বললে পুরুষ মানুষের মাথা খারাপ হয়ে যায় সেটাও জানে।

২৬. করুণাও এক ধরনের ভালোবাসা, তবে তা ক্ষতিকারক ভালোবাসা। এই ভালোবাসা মানুষকে অসুস্হ করে দেয়।

২৭. তুমি যদি কাউকে হাসাতে পার, সে তোমাকে বিশ্বাস করবে. সে তোমাকে পছন্দও করতে শুরু করবে!

২৮. আমরা কাউকেই হারাতে চাই না, কিন্তু সবাইকেই হারাতে হয়।

২৯. পুরুষ মানুষ দিনরাত স্ত্রীর আঁচলে বাঁধা থাকলে বুঝতে হবে সে পুরুষ মানুষই না। তার কোন সমস্যা আছে।

৩০. সব ক্ষমতা নিয়ে একজন দূরে বসে আছেন। ভুল বললাম দূরে না, কাছেই বসে আছেন। খুব বেশি কাছে বলেই তাকে দেখা যায় না।

৩১. কষ্ট মানুষকে পরিবর্তন করে, আবার কষ্ট মানুষকে শক্তিশালীও করে ।

৩২. পৃথিবীতে আনন্দ এবং দুঃখ সব সময় থাকবে সমান সমান। বিজ্ঞানের ভাষায়- Conservation of আনন্দ। একজন কেউ চরম আনন্দ পেলে, অন্য জনকে চরম দুঃখ পেতে হবে।

৩৩. অতিরিক্ত রূপবতীরা বোকা হয়, এটা জগতের স্বঃতসিদ্ধ নিয়ম।

৩৪. মাঝে মাঝে বৃষ্টি নামে। একঘেয়ে কান্নার সুরের মত সে শব্দ। আমি কান পেতে শুনি। বাতাসে জামগাছের পাতায় সরসর শব্দ হয়। সব মিলিয়ে হৃদয় হাহাকার করে ওঠে। আদিগন্ত বিস্তৃত শূন্যতায় কী বিপুল বিষণ্নতাই না অনুভব করি। জানালার ওপাশের অন্ধকার থেকে আমার সঙ্গীরা আমায় ডাকে। একদিন যাদের সঙ্গ পেয়ে আজ নিঃসঙ্গতায় ডুবছি।

৩৫. কষ্টের বেপার গুলো মানুষের ভাল মনে থাকে না।সে কখনো মনে রাখতে চায় না।কিন্তু, সুখের বেপারে খুব ভালভাবে মনে থাকে।কারন,এগুলো নিয়ে প্রায়ই ভাবা হয় ।

৩৬. বড় বোকামিগুলি বুদ্ধিমান মানুষরাই করে।

৩৭. পৃথিবীতে ফিনিক ফোটা জোছনা আসবে। শ্রাবন মাসে টিনের চালে বৃষ্টির সেতার বাজবে। সেই অলৌকিক সঙ্গীত শোনার জন্য আমি থাকব না।

৩৮. যখন কেউ কারো জন্য কাঁদে, সেটা হলো আবেগ। যখন কেউ কাউকে কাঁদায়, সেটা হলো প্রতারণা। আর যখন কেউ কাউকে কাঁদিয়ে নিজেও কেঁদে ফেলে, সেটাই হলো প্রকৃত ভালোবাসা ।

৩৯. ভালোবাসার মাঝে হালকা ভয় থাকলে, সেই ভালোবাসা মধূর হয়।কেননা, হারানোর ভয়ে প্রিয়য়জনের প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়ে যায়!!

৪০. বাঙ্গালী মেয়েদের গায়ের রঙের একটা মাত্রা আছে। কোনও মেয়ে যদি সেই মাত্রা অতিক্রম করে যায় তখন আর ভালো লাগে না। তার মধ্যে বিদেশী বিদেশী ভাব চলে আসে। তাকে আর আপন মনে হয় না।

পর্ব-৪

১. সম্পর্কের বন্ধন ঠিক পেরেকের প্যাঁচের মত। একবার যদি প্যাঁচ কেটে যায়, তা আর যত চেষ্টাই করনা কেন তা আর আগের মত মজবুত হয়না। হয়তো কৌশলে বা বল প্রয়োগে তা দেখতে আগের মত থাকবে কিন্তু ভেতরটা দেখলে একদম নড়বড়ে।

২. আমি ঘর ছাডিয়া বাহির হ্ইয়া, জোছনা ধরিতে যাই। হাত ভর্তি চাদের আলো, ধরতে গেলেই নাই।

৩. সাধারণ মেয়েরা ছালবাকল নেই ছেলের প্রেমে কখনো পড়বে না। তারা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার খুঁজবে। টাকা-পয়সা খুঁজবে। ঢাকায় বাড়ি আছে কি-না দেখবে। কিন্তু অতি বিত্তবান মেয়েরা ছালবাকল নেই ছেলেদের প্রতি এক ধরনের মমতা পোষণ করবে। অসহায়ের প্রতি করুণা। সেই করুণা থেকে প্রেম।

৪. প্রত্যেক ভালবাসায় দুইজন সুখী হলেও তৃতীয় একজন অবশ্যই কষ্ট পাবেই, এটাই হয়তো প্রকৃতির নিয়ম।

৫. সুন্দরী মেয়েদের হাতের লেখা সুন্দর হয়।এটা হল নিপাতনে সিদ্ধ।সুন্দরীরা মনে প্রাণে জানে তারা সুন্দর। তাদের চেষ্টাই থাকে তাদের ঘিরে যা থাকবে সবই সুন্দর হবে।

৬. সারা জীবন পাশাপাশি থেকেও এক সময় একজন অন্যজনকে চিনতে পারে না। আবার এমনও হয়, এক পলকের দেখায় একে অন্যকে চিনে ফেলে।

৭. ‘বাবা’ সম্বোধনে লেখা চিঠি অগ্রাহ্য করা কোন পুরুষের পক্ষেই সম্ভব না। মেয়েদের পক্ষে ‘মা’ সম্বোধনের চিঠি অগ্রাহ্য করা খুবই সম্ভব। তারা ‘মা’ ডাক শুনে অভ্যস্ত। পুরুষরা বাবা শুনে অভ্যস্ত না। কেউ বাবা ডাকলেই সেই ডাক পুরুষদের মাথার ভেতর ডুকে যায়।

৮. জীবন সহজও নয় জটিলও নয়। জীবন জীবনের মতো। আমরাই একে জটিল করি- সহজ করি।

৯. পৃথিবীতে সবচে’ সুখী মানুষ কে?’ ‘যার কাছে ঘুম আনন্দময় সে-ই পৃথিবীর সবচে’ সুখী মানুষ’।

১০. মানুষের বিপদে এখন আর মানুষ এগিয়ে আসে না। এই যুগের নীতি হচ্ছে বিপদ্গ্রস্ত মানুষের কাছ থেকে দুরে চলে যাওয়া । যে যত দুরে যাবে তত ভাল থাকবে।

১১. অতিকাছের মানুষের অবহেলা সহ্য করার ক্ষমতা মানুষের নেই মানুষ বড় অভিমানি প্রাণী।

১২. হাসি সবসময় যে সুখের প্রকাশ তা নয়, আপনি কতটা দু:খ লুকাতে পারেন তাও বুঝায়।

১৩. খুব ভাল লাগবে যদি শুনি আমি চলে যাবার পরও কেউ হিমু হয়ে খালি পায়ে রাস্তায় হাটে।

১৪. মেয়েরা হচ্ছে জন্মদাত্রী জননী। হাজার ভুল করলেও এদের উপর রাগ করতে নেই। এদের উপর রাগ করাটাই কাপুরুষতা।

১৫. পৃথিবীর সবচেয়ে অসুন্দর দৃশ্য হল লোভে চকচক করা চোখ। আর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য গভীর মমতায় আদ্র প্রেমিকার চোখ।

১৬. স্বপ্নদৃশ্য সবসময় হয় সাদা-কালো| স্বপ্ন বর্ণহীন।

১৭. কিছু মানুষের উপর আপনি কখনোই আস্থা রাখতে পারেন না। এরা নিজের সুখের জন্য ঝুলন্ত অবস্থায় পাহাড়ের চূড়া থেকে আপনার হাত ছেড়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না।

১৮. যে-কোনো মেয়ের বিয়ের দিন বিবাহিত মেয়েদের মন খুশি খুশি থাকে| নিজের বিয়ের কথা মনে পড়ে এই জন্যে।

১৯. বর্তমানটাই সত্যি । অতীত কিছু না, ভবিষ্যৎ তো দূরের ব্যাপার । আমরা বাস করি বর্তমানে, অতীতেও না, ভবিষ্যতেও না ।

২০. পৃথিবীর সবথেকে কঠিন ভাষা হলো চোখের ভাষা, এই ভাষা পড়ার জন্য মনে গভীর ভালবাসার দরকার হয়।

২১. আমাদের সবার ভুবনই আলাদা। এই ভুবনও একদিন ভাঙবে। আমরা অচেনা এক বৃত্তের দিকে যাত্রা শুরু করব। সেই বৃত্ত কেমন কে জানে! পৃথিবীতেই এত রহস্য। না জানি কত রহস্য অপেক্ষা করছে অদেখা ভুবনে।

২২. শেকসপীয়ারের মতো মানুষও কিন্তু ভূত বিশ্বাস করতেন | তিনি হ্যামলেটে বলেছেন___ There are many things in heaven and Earth.

২৩. মানুষ কী অদ্ভুত দেখেছেন? মানুষ কত সহজেই- না ‘ভুল’ -সত্যি ভেবে গ্রহন করে।

২৪. কিছু কিছু সময় আসে যখন আমরা বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের সীমারেখায় অবস্থান করি। তখন আমরা একই সঙ্গে দেখতে পাই ও পাই না। বুঝতে পারি ও পারি না। অনুভব করতে পারি ও পারি না। সে বড় রহস্যময় সময়।

২৫. ঈশ্বর মানুষকে প্রচুর ক্ষমতা দিয়েছেন কিন্তু মনের কথা বুঝবার ক্ষমতা দেন নি।

২৬. মাঝে মাঝে রেগে যাওয়া ভাল | রাগলে শরীরের রোগ জীবানু মরে যায়।

২৭. পুরোপুরি নিশ্চিন্ত, নির্ঝঞ্ঝাট জীবন যাপন সম্ভব না । সব জীবনেই কিছু ঝামেলা থাকবে । কাবাব যতই ভালই হোক,কাবাবের এক কোণায় ছোট হাড্ডির টুকরো থাকবেই।

২৮. পাঁচ হচ্ছে ম্যাজিকেল নাম্বার। কোন মেয়েকে যদি কখনো পাঁচটা গোলাপ দেয়া যায় তাহলে সে জন্মের মত কেনা হয়ে যায়।

২৯. পুরুষ রমণীর প্রভেদটা হল বাহ্যিক। শারীরিক। মানুষের আসল পরিচয় তার আত্মায়। আত্মার কোন নারী পুরুষ নেই। পুরুষের আত্মাও যা নারীর আত্মাও তা।

৩০. আলাদীনের চেরাগের দৈত্য যদি হঠাৎ উপস্থিত হয়ে আমাকে বলে — রূপা, চট চট করে বল। তোমার তিনটা ইচ্ছে আমি পূর্ণ করব । তাহলে মাথা চুলকে বলব, স্যার থ্যাংক য়্যু, আপনার কাছে আমার কিছু চাইবার নেই। আমার যা চাইবার তা চাইতে হবে হিমুর কাছে । ওকে একটু আমার কাছে এনে আপনি বিদেয় হোন। আপনার গা থেকে বিশ্রী গন্ধ আসছে।

৩১. যাদের পর্যবেক্ষন শক্তি খুব ভালো, তারা প্রায়ই খুব কাছের জিনিস দেখতে ভুল করে।

৩২. গল্প উপন্যাস যখন যেটা লিখছি তার চরিত্রই বন্ধু হিসাবে থাকে। বাইরের বন্ধুর প্রয়োজন সে কারণেই হয় না।

৩৩. পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ আছে। এক ধরনের মানুষ রাগ প্রকাশ করতে পারে কিন্তু আনন্দ প্রকাশ করতে পারে না। আরেক ধরনের মানুষ আনন্দ প্রকাশ করতে পারে কিন্তু রাগ প্রকাশ করতে পারে না।

৩৪. আমরা শূন্য হতে এসেছি, আবার শূন্যে ফিরে যাব। দুই শূন্যের মাঝে আমরা বাস করি। ভয় বাস করে এই দুই শূন্যে।

৩৫. যা হারিয়েছো তার জন্য আফসোস করোনা। ওটা তোমার জন্য না, যদি তোমারই থাকতো তবে তোমার কাছ থেকে তার পালানোর সাধ্য ছিলোনা।

৩৬. সৌন্দর্য কোন ধ্রুব ব্যাপার না । ক্ষণে ক্ষণে বদলায়। আজ তোমাকে অপূর্ব লাগছে তার মানে এই না যে কালও লাগবে।

৩৭. পুরুষ মানুষের চোখের জল মেয়েদের দেখাতে নেই।

৩৮. মানবজাতির স্বভাব হচ্ছে সে সত্যের চেয়ে মিথ্যায় আশ্রয়ে নিজেকে নিরাপদ মনে করে।

৩৯. পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় জিনিসগুলির জন্যে কিন্তু টাকা লাগে না। বিনামুল্যে পাওয়া যায়। যেমন জোছনা, বর্ষার দিনের বৃষ্টি, মানুষের ভালবাসা…

৪০. আইসক্রিম আর চুমু খাওয়ার কোন বয়স লাগে না।

Himu 1

পর্ব-০১

১. পৃথিবীতে আসার সময় প্রতিটি মানুষই একটি করে আলাদিনের প্রদীপ নিয়ে আসে…কিন্তু খুব কম মানুষই সেই প্রদীপ থেকে ঘুমন্ত দৈত্যকে জাগাতে পারে।

২. সবাই তোমাকে কষ্ট দিবে, কিন্ত তোমাকে এমন একজনকে খুজে নিতে হবে, যার দেয়া কষ্ট তুমি সহ্য করতে পারবে।

৩. এই পৃথিবীতে প্রায় সবাই, তার থেকে বিপরীত স্বভাবের মানুষের সাথে প্রেমে পড়ে।

৪. বাস্তবতা এতই কঠিন যে কখনও কখনও বুকের ভিতর গড়ে তোলা বিন্দু বিন্দু ভালবাসাও অসহায় হয়ে পড়ে।

৫. অধিকাংশ মানুষ কল্পনায় সুন্দর, অথবা সুন্দর দুর থেকে। কাছে এলেই আকর্ষণ কমে যায়। মানুষই একই। কারো সম্পর্কে যত কম জানা যায়, সে তত ভাল মানুষ।

৬. পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ সম্ভবত কষ্ট পাবার জন্যই জন্মায়। টাকা পয়সার কষ্ট নয়- মানসিক কষ্ট।- হুমায়ূন আহমেদ মায়ের গায়ে কোন দোষ লাগে না। ছেলে-মেয়ে মায়ের ত্রুটি দেখবে না। অন্যেরা হয়ত দেখবে, সন্তান কখনও না।

৭. সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে কেউ মিথ্যা বলতে পারে না। মিথ্যা বলতে হয় অন্যদিকে তাকিয়ে!

৮. বয়সকালেই মানুষ ছোট খাট ভুল করতে থাকে। ছোটখাটো ভুল করা যখন অভ্যাস হয়ে যায় তখন করে বড় ভুল!

৯. যখন মানুষের খুব প্রিয় কেউ তাকে অপছন্দ, অবহেলা কিংবা ঘৃণা করে তখন প্রথম প্রথম মানুষ খুব কষ্ট পায় এবং চায় যে সব ঠিক হয়ে যাক । কিছুদিন পর সে সেই প্রিয় ব্যক্তিকে ছাড়া থাকতে শিখে যায়। আর অনেকদিন পরে সে আগের চেয়েও অনেকবেশী খুশি থাকে যখন সে বুঝতে পারে যে কারো ভালবাসায় জীবনে অনেক কিছুই আসে যায় কিন্তু কারো অবহেলায় সত্যিই কিছু আসে যায় না।

১০. পৃথিবীতে অনেক ধরনের অত্যাচার আছে। ভালবাসার অত্যাচার হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ানক অত্যাচার। এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে কখনো কিছু বলা যায় না, শুধু সহ্য করে নিতে হয়।

১১. কাজল ছাড়া মেয়ে দুধ ছাড়া চায়ের মত।

১২. ভদ্র ছেলেদের জন্য মেয়েদের মনে কখনও প্রেম জাগে না। যা জাগে সেটা হল সহানুভূতি।

১৩. সমুদ্রের জীবনে যেমন জোয়ার-ভাটা আছে, মানুষের জীবনেও আছে। মানুষের সঙ্গে এই জায়গাতেই সমুদ্রের মিল।

১৪. যে একদিন পড়িয়েছে সে শিক্ষক । সারাজীবনই শিক্ষক। আবার যে একদিন চুরি করেছে সে কিন্তু রাজীবনই চোর না, তাহলে পৃথিবীর সব মানুষই চোর হত ।

১৫. মেয়েদের স্বভাবই হচ্ছে হালকা জিনিস নিয়ে মাতামাতি করা।

১৬. প্রতিটি দুঃসংবাদের সঙ্গে একটি করে সুসংবাদ থাকে।

১৭. কখনো কখনো তোমার মুখটা বন্ধ রাখতে হবে। গর্বিত মাথাটা নত করতে হবে এবং স্বীকার করে নিতে হবে যে তুমি ভুল। এর অর্থ তুমি পরাজিত নাও, এর অর্থ তুমি পরিণত এবং শেষ বেলায় জয়ের হাসিটা হাসার ন্য ত্যাগ স্বীকারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

১৮. মানুষ ট্রেইনের মত এক লাইনে চলে। তবে বিশেষ ঘটনার পর নতুন লাইন পাওয়া যায়।

১৯. কিছু কিছু মানুষ ভাগ্যকে নিজের হাতে গড়ে, আবার কারো কারো কাছে ভাগ্য আপনি এসে ধরা দেয়!

২০. তরুণী মেয়েদের হঠাৎ আসা আবেগ হঠাৎ চলে যায়। আবেগকে বাতাস না দিলেই হলো।আবেগ বায়বীয় ব্যাপার, বাতাস পেলেই তা বাড়ে। অন্য কিছুতে বাড়ে না ।

২১. মানুষ শুধু যে মানুষের কাছ থেকে শিখবে তা না। পশু পাখির কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়।

২২. একজন মানুষকে সত্যিকারভাবে জানার উপায় হচ্ছে তার স্বপ্নটা জানা।

২৩. চট করে কারো প্রেমে পড়ে যাওয়া কাজের কথা না। অতি রূপবতীদের কারও প্রেমে পড়তে নেই। অন্যেরা তাদের প্রেমে পড়বে, তা-ই নিয়ম।

২৪. মেয়েরা গোছানো মানুষ পছন্দ করে না। মেয়েরা পছন্দ করে অগোছালো মানুষ”- রোদনভরা এ বসন্ত ; কিছু কিছু মানুষ সত্যি খুব অসহায়.. তাদের ভালোলাগা মন্দলাগা, ব্যথা বেদনা গুলো বলার মত কেউ থাকে না.. তাদের কিছু অবাক্ত কথা মনের গভীরেই রয়ে যায় .. আর কিছু কিছু স্মৃতি – এক সময় পরিনত হয় — দীর্ঘ শ্বাসে।

২৫. যে সব মানুষের নাক সেনসেটিভ হয় তাদের কান কম সেনসেটিভ হয়। প্রকৃতি একটা বেশী দিলে অন্যটা কমিয়ে দেয়।

২৬. লাজুক ধরনের মানুষ বেশীর ভাগ সময়ই মনের কথা বলতে পারেনা। মনের কথা হড়বড় করে বলতে পারে শুধু মাত্র পাগলরাই। পাগলরা মনে হয় সেই কারণেই সুখী।

২৭. মাঝে মাঝে তুচ্ছ বিষয় চোরাকাঁটার মত মনে লেগে থাকে… ব্যথা দেয় না,অস্বস্তি দেয়…।

২৮. পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ সম্ভবত কষ্ট পাবার জন্যই জন্মায়। টাকা পয়সার কষ্ট নয়- মানসিক কষ্ট।

২৯. বাবা-মা’র প্রথম সন্তান হচ্ছে চমৎকার একটি জীবন্ত খেলনা। এই খেলনার সবই ভালো। খেলনা যখন হাসে, বা-মা হাসে। খেলনা যখন কাঁদে বাবা-মা’র মুখ অন্ধকার হয়ে যায়।

৩০. বাস্তবতা এতই কঠিন যে কখনও কখনও বুকের ভিতর গড়ে তোলা বিন্দু বিন্দু ভালবাসাও অসহায় হয়ে পড়ে।

৩১. মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষগুলোই ধরণীর আসল রূপ দেখতে পায়।

৩২. মানুষের মন বিচিত্র জিনিস। সমস্ত নক্ষত্র পূঞ্জে যে জটিলতা ও রহস্য তার থেকেও রহস্যময় মানুষের মন।

৩৩. গভীর প্রেম মানুষকে পুতুল বানিয় দেয়। প্রেমিক প্রেমিকার হাতের পুতুল হন কিংবা প্রেমিকা হয় প্রেমিকের পুতুল। দুজন এক সঙ্গে কখনো পুতুল হয় না। কে পুতুল হবে আর কে হবে সূত্রধর তা নির্ভর করে মানসিক ক্ষমতার উপর। মানসিক ক্ষমতা যার বেশী তার হাতেই পুতুলের সুতা।

৩৪. সব মানুষের জীবনেই অপূর্ণতা থাকবে। অতি পরিপূর্ণ যে মানুষ তাকে জিজ্ঞেস করলে সে ও অতি দুঃখের সঙ্গে তার অপূর্ণতার কথা বলবে। অপূর্ণতা থাকে না শুধু বড় বড় সাধক ও মহা পুরুষদের।

৩৫. কিছু কিছু পুরুষ আছে যারা রূপবতী তরুণীদের অগ্রাহ্য করে একধরনের আনন্দ পায়। সচরাচর এরা নিঃসঙ্গ ধরনের পুরুষ হয়, এবং নারী সঙ্গের জন্যে তীব্র বাসনা বুকে পুষে রাখে।

৩৬. দুঃসময়ে কোনো অপমান গায়ে মাখতে হয় না। ভালোবাসা ও ঘৃনা দুটাই মানুষের চোখে লিখা থাকে!

৩৭. তুমি একটা খারাপ কাজ করেছো তার মানে তুমি একজন মানুষ, তুমি সেই খারাপ কাজটার জন্য অনুতপ্ত তার মানে তুমি একজন ভাল মানুষ।

৩৮. সব মানুষকেই বিনয়কে এদেশে দুর্বলতা মনে করা হয়, বদমেজাজকে ব্যক্তিত্ব ভাবা হয়।

৩৯. মানুষ খুবই স্বাধীন প্রাণী কিন্তু অদ্ভুত কারণে সে ভালবাসে শিকল পরে থাকতে।

৪০. যুদ্ধ এবং প্রেমে কোনো কিছু পরিকল্পনা মতো হয় না। ভালবাসাবাসির জন্যে অনন্তকালের প্রয়োজন নেই।একটি মুহূর্তই যথেষ্ট…।

পর্ব-২

১. বেঁচে থাকার মত আনন্দ আর কিছুই নেই। কত অপূর্ব দৃশ্য চারিদিকে। মন দিয়ে আমরা কখনো তা দেখি না। যখন সময় শেষ হয়ে যায়, তখনি শুধু হাহাকারে হৃদয় পূর্ণ হয়।

২. হাসিতে খুব সহজেই মানুষকে চেনা যায় ।সব মানুষ একই ভঙ্গিতে কাঁদে কিন্তু হাসার সময় একেক জন একেক রকম করে হাসে।

৩. কেও কারও মত হতে পারে না। সবাই হয় তার নিজের মত। তুমি হাজার চেষ্টা করেও তোমার চাচার বা বাবার মত হতে পারবে না। সব মানুষই আলাদা।

৪. শিকল দিয়ে কাউকেই বেঁধে রাখা হয় না । তারপরেও সব মানুষই কোনও – না – কোনও সময় অনুভব করে তার হাত – পায়ে কঠিন শিকল । শিকল ভাঙতে গিয়ে সংসার – বিরাগী গভীর রাতে গৃহত্যাগ করে । ভাবে ,মুক্তি পাওয়া গেল । দশতলা বাড়ির ছাদ থেকে গৃহী মানুষ লাফিয়ে পরে ফুটপাতে । এরা ক্ষণিকের জন্য শিকল ভাঙার তৃপ্তি পায় ।

৫. মানুষের স্বভাব হলো, কেউ যখন ভালোবাসে তখন নানান কর্মকাণ্ড করে সেই ভালোবাসা বাড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে, আবার কেউ যখন রেগে যায় তখন তার রাগটাও বাড়িয়ে দিতে ইচ্ছা করে।

৬. মেয়েদের স্বভাবই হচ্ছে হালকা জিনিস নিয়ে মাতামাতি করা।

৭. মিথ্যা হলো শয়তানের বিয়ের মন্ত্র। মিথ্যা বললেই শয়তানের বিয়ে হয়। বিয়ে হওয়া মানেই সন্তান-সন্ততি হওয়া। একটা মিথ্যার পর আরো অনেকগুলি মিথ্যা বলতে হয় এই কারণেই।পরের মিথ্যাগুলি শয়তানের সন্তান।

৮. ভাল লাগা এমন এক জিনিস যা একবার শুরু হলে সব কিছুই ভালো লাগতে থাকে।

৯. বিবাহ এবং মৃত্যু এই দুই বিশেষ দিনে লতা-পাতা আত্মীয়দের দেখা যায়। সামাজিক মেলামেশা হয়। আন্তরিক আলাপ আলোচনা হয়।

১০. মেয়েদের অনেক গুণের মধ্যে বড় গুণ হলো এরা খুব সুন্দর করে চিঠি লিখতে পারে। কথাবার্তায় নিতান্ত এলোমেলো মেয়েও চিঠি লেখায় গোছানো। মেয়েদের চিঠিতে আরেকটা ব্যাপার থাকে – বিষাদময়তা। নিতান্ত আনন্দের সংবাদ দিয়ে লেখা চিঠির মধ্যেও তারা জানি কী করে সামান্য হলেও দুঃখ মিশিয়ে দেয়। কাজটা যে তারা ইচ্ছা করে করে তা না। প্রকৃতি তাদের চরিত্রে যে বিষাদময়তা দিয়ে রেখেছে তাই হয়তো চিঠিতে উঠে আসে।

১১. যে মানব সন্তান ক্ষুদ্র কামনা জয় করতে পারে সে বৃহৎ কামনাও জয় করতে পারে।

১২. ভালবাসার মানুষের সাথে বিয়ে না হওয়াটাই বোধ হয় ভাল।বিয়ে হলে মানুষটা থাকে ভালবাসা থাকে না।আর যদি বিয়ে না হয় তাহলে হয়ত বা ভালবাসাটা থাকে,শুধু মানুষটাই থাকে না। মানুষ এবং ভালবাসা এই দুয়ের মধ্যে ভালবাসাই হয়ত বেশি প্রিয়।

১৩. আমার খুব শখ বড় রকমের ঝামলায় পড়লে সে কি করে। কাজেই হিমুর জন্য বড় ধরনের একটা সমস্যা আমি তৈরি করেছি। এবং খুব আগ্রহ নিয়ে তার কান্ড-কারখানা দেখেছি।

১৪. প্রেমে পড়া মানে নির্ভরশীল হয়ে পড়া। তুমি যার প্রেমে পড়বে সে তোমার জগতের একটা বিরাট অংশ দখল করে নেবে। যদি কোনো কারণে সে তোমাকে ছেড়ে চলে যায় তবে সে তোমার জগতের ঐ বিরাট অংশটাও নিয়ে যাবে। তুমি হয়ে পড়বে শূণ্য জগতের বাসিন্দা

১৫. দিনকাল পাল্টে গেছে, এখন আর মানুষ আগের মতো নাই।মওলানা ধরনের মানুষের দিকে এখন আর আগের মতো ভয়-মিশ্রিত শ্রদ্ধার চোখে কেউ তাকায় না। মওলানাও যে বিবেচনায় রাখার মতো একজন, কেউ তাও বোধহয় মনে করে না। ছল্টুফল্টু ভাবে।”― এই মেঘ, রৌদ্র-ছায়া

১৬. বিপদ যখন আসে একটার পর একটা আসে। বিপদরা পাঁচ ভাইবোন। এদের মধ্যে খুব মিল। এই ভাইবোনরা কখনো একা কারো কাছে যায় না। প্রথম একজন যায়, তারপর তার অন্য ভাইবোনরা উপস্থিত হয়।

১৭. এই সব কথা রুপাকে বলার কোনো অর্থ হয় না. বরং কোনো-কোনো দিন তরঙ্গিনী স্টোর থেকে টেলিফোন করে বলি – রুপা, তুমি কি এক্ষুনি নীল রঙের একটা সারি পরে তোমাদের ছাদে উঠে কার্নিশ ধরে নিচের দিকে তাকাবে? তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে। একটুখানি দাড়াও। আমি তোমাদের বাসার সামনের রাস্তা দিয়ে হেটে চলে যাব.আমি জানি রুপা আমার কথা বিশাস করে না, তবুও যত্ন করে সারি পরে. চুল বাধে। চোখে কাজলের ছোয়া লাগিয়ে কার্নিশ ধরে দাড়ায়। সে অপেক্ষা করে. আমি কখনো যাই না.আমাকে তো আর দশটা ছেলের মত হলে চলবে না. আমাকে হতে হবে অসাধরণ।আমি সারাদিন হাটি। আমার পথ শেষ হয় না. গন্তব্যহীন যে যাত্রা তার কোনো শেষ থাকার তো কথাও নয় ।

১৮. মেয়েরা ভয়ঙ্কর দুর্যোগেও সাজ ঠিক রাখতে ভোলে না।

১৯. ওর কিছু নিজস্ব বিচিত্র লজিক আছে। সে ঐ লজিকে চলে । অন্য কারো কথাই শোনেনা । আমার কথাও শুনবেনা ।

২০. চাঁদের বিশালতা মানুষের মাঝেও আছে, চাঁদ এক জীবনে বারবার ফিরেআসে…ঠিক তেমন মানুষ প্রিয় বা অপ্রিয় যেই হোক,একবার চলে গেলে আবার ফিরে আসে ।

২১. আমার সমস্যার কথা রুপাকে কি আমি বলতে পারি? আমি কি বলতে পারি – আমার বাবার স্বপ্ন সফল করার জন্য সারাদিন আমি পথে পথে ঘুরি। মহাপুরুষ হবার সাধনা করি. যখন খুব ক্লান্তি অনভব করি তখন একটি নদীর স্বপ্ন দেখি। যে নদীর জল ছুয়ে ছুয়ে এক জন তরুনি ছুটে চলে যায়. এক বার শুধু থমকে দাড়িয়ে তাকায় আমার দিকে। তার চোখে গভীর মায়া ও গাঢ় বিষাদ। এই তরুনীটি আমার মা. আমার বাবা যাকে হত্যা করেছিলেন।

২২. আমাদের সবার ভুবনই আলাদা। এই ভুবনও একদিন ভাঙবে। আমরা অচেনা এক বৃত্তের দিকে যাত্রা শুরু করব। সেই বৃত্ত কেমন কে জানে! পৃথিবীতেই এত রহস্য। না জানি কত রহস্য অপেক্ষা করছে অদেখা ভুবনে।

২৩. পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ মানুষ আছে, কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই।

২৪. যে ভালোবাসা না চাইতে পাওয়া যায়, তার প্রতি কোনো মোহ থাকে না

২৫. ভালোবাসা আর ঘৃণা আসলে একই জিনিস। একটি মুদ্রার এক পিঠে “ভালোবাসা” আরেক পিঠে লেখা ঘৃণা। প্রেমিক প্রেমিকার সামনে এই মুদ্রা মেঝেতে ঘুরতে থাকে। যাদের প্রেম যতো গভীর তাদের মুদ্রার ঘূর্ণন ততো বেশি। এক সময় ঘূর্ণন থেমে যায় মুদ্রা ধপ করে পড়ে যায়। তখন কারো কারোর ক্ষেত্রে দেখা যায় “ভালোবাসা” লেখা পিঠটা বের হয়েছে, কারো কারো ক্ষেত্রে ঘৃণা বের হয়েছে। কাজেই এই মুদ্রাটি যেন সবসময় ঘুরতে থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ঘূর্ণন কখনো থামানো যাবে না।”― দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই ।

২৬. গল্প-উপন্যাস হলো অল্পবয়েসী মেয়েদের মাথা খারাপের মন্ত্র।

২৭. আমার সঙ্গে কি আছে জানিস? পদ্ম। নীলপদ্ম। পাচটা নীলপদ্ম নিয়ে ঘুরছি। কি অপূর্ব পদ্ম। কাউকে দিতে পারছিনা। দেয়া সম্বব নয়. হিমুরা কাউকে নীলপদ্ম দিতে পারে না।

২৮. চানসোনা জবাব দিলো না. যেভাবে বসেছিল সেভাবেই বসে রইল । কতকাল আগে এক শ্রাবণ মাসে তের বছরের চানসোনা এই গ্রামে এসেছিল্ । লম্বা ঘোমটার ফাঁকে অবাক হয়ে দেখেছিল ভাটি অচ্ঞল । অজানা এই জায়গাটার জন্য কেমন এক ধরনের মমতা জন্মেছিল্। আজ এই মমতা বহুগুণে বেড়ে তাকে ভাসিয়ে নিতে চাইছে। এতটুকু মাত্র শরীর মানুষের এই মমতা সে কোথায় ধারণ করে?

২৯. কয়েক মুহুর্তের জন্যে আমার ভেতর এক ধরনের বেভ্রম তৈরী হল. মনে হল আমার আর হাটার প্রয়োজন নেই। মহাপুরুষ না, সাধারণ মানুষ হয়ে মমতাময়ী এই তরুনিতির পাশে এসে বসি। যে নীলপদ্ম হাতে নিয়ে জীবন শুরু করেছিলাম, সেই প্দ্ম্গুলি তার হাতে তুলে দেই. তারপরেই মনে হলো – এ আমি কি করতে যাচ্ছি! আমি হিমু – হিমালয়।

৩০. হিমু কখনও জটিল পরিস্থিতিতে পড়ে না। ছোটখাট ঝামেলায় সে পড়ে। সেই সব ঝামেলা তাকে স্পর্শও করে না। সে অনেকটা হাসেঁর মত। ঝাড়া দিল গা থেকে ঝামেলা পানির মত ঝরে পড়ল।

৩১. হিমুর প্রতিটি কথা ভুয়া। সত্যি কথা সে অতীতে কোনোদিন বলেনি। ভবিষ্যতেও বলবে না।

৩২. জোছনা দেখতে দেখতে, আমার হটাৎ মনে হলো, প্রকৃতির কাছে কিছু চাইতে নেই, কারণ প্রকৃতি মানুষের কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ রাখে না ।

৩৩. সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে হলো, আসাদুল্লাহ সাহেবের নীলপদ্ম থিউরি ঠিক আছে. এই তরুণী তার সমস্ত নীলপদ্ম হিমু নামের এক ছেলের হাতে তুলে দিয়ে তীব্র কষ্ট ও যন্ত্রণার ভেতর বাস করছে। এই যন্ত্রণা, এই কষ্ট থেকে তার মুক্তি নেই

৩৪. জানালার ওপাশের অন্ধকার থেকে আমার সঙ্গীরা আমায় ডাকে। একদিন যাদের সঙ্গ পেয়ে আজ নিঃসঙ্গতায় ডুবছি।

৩৫. দরিদ্র পুরুষদের প্রতি মেয়েদের একপ্রকার মায়া জন্মে যায়,আর এই মায়া থেকে জন্মায় ভালোবাসা।

৩৬. বন্ধুত্ব তখনই গাঢ় হয় যখন কেউ কাউকে চিনে না।

৩৭. বিবাহ এবং মৃত্যু এই দুই বিশেষ দিনে লতা-পাতা আত্মীয়দের দেখা যায়। সামাজিক মেলামেশা হয়। আন্তরিক আলাপ আলোচনা হয়।

৩৮. বেশিরভাগ রূপবতী মেয়ে নকল হাসি হাসে। হাসার সময় ঢং করার চেষ্টা করে। তাদের হাসি হায়েনার হাসির মতো হয়ে যায়।

৩৯. ঝর বৃষ্টির রাত হলেই এলিটা আমার সঙ্গে পক্খিমানবের সন্ধানে বের হয়। মানব জাতির সমস্যা হচ্ছে তাকে কোনো না কোনো সন্ধানে জীবন কাটাতে হয় । অর্থের সন্ধান, বিত্তের সন্ধান, সুখের সন্ধান, ভালবাসার সন্ধান, ইশ্বরের সন্ধান। আমি আর এলিটা সন্ধান করছি সামান্য পক্খিমানবের।

৪০. কষ্টের সাথে যাদের বসবাস রাতটা তাদের জন্য যে কি কষ্টের সেটা শুধু তারাই জানে। সারাদিন কষ্ট গুলো বুকের মাঝে চেপে রাখলেও রাতে যেন কোনো ভাবেই ঠেকানো যায় না। বুক ফেটে কষ্ট গুলো বের না হলেও, চোখ ফেটে বের হয়ে আসে অশ্রু ।