পড়ালেখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পড়ালেখা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

Learning tips 6

জীবনটা হচ্ছে একটা বৃক্ষ। একে সাজাতে হয় বিভিন্ন ভাবে। সুশোভিত করতে হয় ফুলে -ফলে। চাই চেষ্টা ও সাধনা। ছাত্র (ছাত্র ও ছাত্রী উভয়কে) পরীক্ষা হচ্ছে এমনি এক চেষ্টা বা সাধনার সিঁড়ি। এ পার হতে অনেকে চিন্তিত ও হতাশ। তাই পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করার কিছু পথ-পদ্ধতি, দিকনির্দেশনা নিচে আলোচনা করা হলঃ

  পরীক্ষা পূর্ব প্রস্তুতিঃ

  ১। পড়ার কৌশলঃ ছাত্র-ছাত্রীরা হল অধ্যয়ণ জগতের কারিগর। কিভাবে পড়লে ভাল করা যাবে এটা তাদের নিজেদের আবিষ্কার করতে হবে। একটানা বসে না পড়ে দাঁড়িয়ে পড়ার অভ্যাস করতে হবে। মাঝে মাঝে হাঁটা-হাঁটা করে নিতে হবে। এতে করে পড়ায় মন বসবে।

  ২। পাঠে মনোযোগঃ পড়ার টেবিলে নিখিল বিশ্বের চিনাত ভাবনা ছেড়ে দিয়ে মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। অনেক বষয় নিয়ে চিন্তা আসতে পারে, কিন্তু এটা এ মুহূর্তে আমার কাজ নয় বলে মনকে বোঝাতে হবে।

  ৩। বুঝে পড়াঃ শুধু তোতা পাখির মত না বুঝে মুখস্থ করলে তা কখনোই স্থায়ী হবে না। চিত্র থাকলে তা মিল করে পড়তে হবে।

  ৪। সময় নির্ধারণঃ সময় হল বিশ্বের দ্রুততম মানবের জুতার মত। এটার যথাযথ মূল্যায়ণ না দিলে সাফল্য কোনদিন আসবে না। বেশি রাত না জেগে ভোরে উঠে পড়া উত্তম।

  ৫। প্রশ্ন নির্বাচনঃ পাঠ্য বইয়ের প্রত্যেকটা বিষয়ের উপর যথেষ্ট ধারণা রাখার চেষ্টা করতে হবে। শয়নে-স্বপনে এর ধ্যান করতে হবে। তবে পরীক্ষায় ভাল করার জন্য বিশেষ কিছু প্রশ্নের উপর থাকতে হবে অসাধারণ দখল। তাই বলে এই নয় যে পরীক্ষায় ভাল করলেই সব হয়ে গেল। এখন ভিত কাচা হলে পরে সাফল্য অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর শেষ ভাল যার সব ভাল তার।

  ৬। মুখস্থ করার কৌশলঃ কিছু বিষয় আছে যা সর্বদা মুখস্থ রাখতে হয়। এক্ষেত্রে যদি কোন কিছুর সাথে সাদৃশ্য করা যায় তবে তা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। যেমন- “মিছাইল মানব” বলা হয় ‘আবুল কালাম আজাদ‘ কে। আপনার ভাইয়ের নাম ধরুন আজাদ। তখন তার সাথে এই তথ্যের মিল করে পড়তে পারেন।

  ৭। স্থান নির্ধারণঃ শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ মানিসিক স্বাস্থের জন্য ভাল। তাই পড়ার স্থানটা এমন হলে খুবই ভাল হয়। যদি এটা সম্ভব না হয় তবে পারিবারিক সাহায্য একান্ত কাম্য হবে।

  ৮। নির্ভুল লেখাঃ বাসায় বসে বারংবার লিখে নিজেকে যাচাই করে নিতে হবে। লেখা ভুল হবে তখনই যখন আপনি তা লিখে অভ্যস্ত নন। সুতরাং নির্ভুল লেখার একমাত্র শর্ত বারবার অনুশীলন।

  ৯। নোট তৈরিঃ নিজে নোট তৈরি করে পড়ার কোন বিকল্প নেই। নিজে কষ্ট করে কিছু করলে সেটা একদিকে যেমন বোঝা যায় তেমনি মনেও থাকে। তাই নিয়মিত নোট তৈরি করা ভাল ফলাফল সহজতর হয়।

  ১০। আল্লাহর সাহায্য কামনাঃ প্রতি ওয়াক্ত নামজের শেষে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হবে। (স্ব স্ব ধর্মের জন্য স্ব স্ব…)

 ১১। শরীরের প্রতি যত্নবান হওয়াঃ নিজের শরীরের দিকে সবস্ময় খেয়াল রাখতে হবে। শরীর ভাল না থাকলে কিছুই সম্ভব নয়।

 ১২। ঘুমঃ পর্যাপ্ত ঘুম স্বচ্ছ মেধার মূলকথা। প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমান একান্ত জরুরি।

Learning tips 6

পরীক্ষায় ভালো করার জন্য পড়ালেখার সঙ্গে আরো অনেক বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. তালিবুল ইসলাম সরকার ও ধানমণ্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌর চন্দ্র মণ্ডল-এর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন হাবিবুর রহমান তারেক

        ১. টেনশনমুক্ত থাকতে হবে

 পরীক্ষা কক্ষে টেনশনমুক্ত ও স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করতে হবে। দুশ্চিন্তা পরীক্ষার হলে ভালো পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা। অনেক শিক্ষার্থী অতিরিক্ত টেনশনের কারণে অনেক জানা প্রশ্নের উত্তরও সঠিকভাবে করতে পারে না। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর বাইরের সব চিন্তা বাদ দিয়ে প্রশ্নপত্রে মনোযোগ দিতে হবে। প্রশ্নপত্রে অন্তত একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে উত্তর করা শুরু করতে হবে।২. কেমন হবে উত্তরপত্র

 উত্তরপত্রের ওপরে এক ইঞ্চি, নিচে এক ইঞ্চি, ডানে এক ইঞ্চি রেখে লেখা শুরু করলে ভালো হয়। মার্জিন ব্যবহার করতে পারেন। মার্জিন টানার জন্য পেনসিল ব্যবহার করা যেতে পারে। উত্তরপত্রে বিভিন্ন প্রশ্নের নম্বর লেখার পর এর নিচে সাইনপেন দিয়ে দাগ টেনে দিতে পারেন। কালো, নীল কিংবা সবুজ রংয়ের সাইনপেন ব্যবহার করা ভালো। কোনোভাবেই লাল রং ব্যবহার করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।

 ৩. প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর

 প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর পুরো প্রশ্নটি মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। কোনো প্রশ্ন আংশিক পরিবর্তন করে দেওয়া হলো কি না তা খেয়াল রাখতে হবে। প্রশ্নপত্র দেখে মনে মনে পুরো পরীক্ষার পরিকল্পনা করবেন। আপনি কিভাবে শুরু করবেন এবং কিভাবে শেষ করবেন, তার ছক করে নিলে পরীক্ষা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

  ৪. সময় বণ্টন

 প্রশ্নের মান অর্থাৎ নম্বর অনুযায়ী কতটুকু লিখতে হবে, তা নির্ধারণ করেই লেখা শুরু করতে হবে। বেশি নম্বরের প্রশ্নগুলো যতটুকু সম্ভব ভালো করে দেওয়া উচিত, তবে তা হতে হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। একটি রচনামূলক প্রশ্নের জন্য সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি সময় নেওয়া উচিত নয়। আর সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরের জন্য ছয় মিনিট বরাদ্দ রেখে লিখতে পারলে ভালো হয়। তবে এটি নির্ভর করবে প্রশ্নের মানের ওপর।

  ৫. প্রশ্ন নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ

 যেসব প্রশ্নের উত্তর ভালো জানা আছে এবং বেশি নম্বরের, সেগুলো আগে লেখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। পরীক্ষক যখন খাতা মূল্যায়ন করবেন তখন শুরুতেই লেখার মান ভালো দেখলে শিক্ষার্থীর প্রতি ইতিবাচক ধারণা আসবে। এতে ওই বিষয়ে ভালো নম্বর পাওয়া সহজ হবে। তুলনামূলক সহজ ও জানা প্রশ্নের উত্তর পর্যায়ক্রমে অর্থাৎ পরপর লেখাই ভালো।

  ৬. উত্তরপত্র পরিচ্ছন্ন হতে হবে

 ভালো নম্বর পেতে হলে ওভাররাইটিং, কাটাছেঁড়া, অস্পষ্ট লেখা পরিহার করতে হবে। লেখায় কোনো ভুল হলে একটি সমান্তরাল দাগে কেটে দিতে হবে। লেখার ভাষা সহজ-সরল ও প্রাঞ্জল হওয়াই ভালো। গণিত ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন চিহ্ন ও চিত্র স্পষ্ট করে লিখতে হবে। একটি প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ হলে পরবর্তী পৃষ্ঠায় পরের প্রশ্নের উত্তর শুরু করাই ভালো। পয়েন্ট আকারে লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রশ্নের উত্তরে ধারাবাহিকতা ভালো ফলের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়।

  ৭. লেখা অযথা বড় করা যাবে না

 বেশি লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়, এটি একটি ভুল ধারণা। অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক লিখে উত্তর বড় করার চেয়ে প্রাসঙ্গিক ও যথাযথ ছোট উত্তরেই বেশি নম্বর পাওয়া যায়। অপ্রাসঙ্গিক উত্তর লিখে খাতা ভরলে সময় নষ্ট হবে, বেশি নম্বর পাওয়া যাবে না। অনেকেই কয়েক লাইনে এক পৃষ্ঠা শেষ করে পরবর্তী পৃষ্ঠায় লেখা শুরু করেন। পরীক্ষকরা এতে বিরক্ত হন। আবার খুব সংক্ষিপ্ত ও উত্তরে প্রয়োজনীয় অংশ না থাকলেও কাঙ্ক্ষিত নম্বর পাওয়া যায় না। আকর্ষণীয় ভূমিকা ও উপসংহার ভালো নম্বর পাওয়ার প্রধান শর্ত।

  ৮. প্রশ্ন কমন না পড়লে

 কমন প্রশ্নের উত্তর লেখা শেষ হওয়ার পর যথেষ্ট সময় থাকলেই আনকমন প্রশ্নে হাত দেওয়া উচিত। ক্লাসে শিক্ষক এ বিষয়টির ওপর আলোচনা করেছিলেন কি না তা মনে করার চেষ্টা করতে হবে। যতটুকু মনে পড়ে ততটুকুই সাজিয়ে লেখা যেতে পারে। তবে বেশি অনুমাননির্ভর না হওয়াই ভালো। কোনো বিষয়ে ভালো ধারণা না থাকলে বানিয়ে লিখলে ভালো নম্বর পাওয়ার আশা করা যায় না।

  ৯. লেখার শেষে রিভিশন

 রিভিশনের জন্য শেষ ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় হাতে রাখতে হবে। এ সময় সবার আগে লক্ষ করতে হবে প্রশ্নের সঙ্গে উত্তরপত্রে লেখা ক্রমিকের মিল আছে কি না। প্রশ্নের কোনো অংশের ক্রমিকও (যেমন ‘ক’ বা ‘খ’) ঠিকমতো লেখা হয়েছে কি না দেখতে হবে। ক্রমিক নম্বর ভুল হলে নম্বর না পাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এ ছাড়া কোথাও কোনো ভুল আছে কি না কিংবা কোনো প্রশ্ন বাদ পড়ল কি না, মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে।

  ১০. সতর্কতা

 ভালো পরীক্ষা দেওয়ার পরও কিন্তু ফল খারাপ করার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অসতর্কতা অথবা ছোট একটি ভুলের কারণে উত্তরপত্রই বাতিল হতে পারে। ওএমআর ফরম ঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না, পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বিষয় কোড প্রভৃতি ঠিকঠাক লেখা হয়েছে কি না, তা ভালোভাবে দেখতে হবে। আর অতিরিক্ত খাতা নেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে তা মূল খাতায় লিখে রাখতে হবে। 

Learning tips 5

পরীক্ষার খাতায় লেখার উপরেই নির্ভর করেই মান যাচাই করা হয়। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও পরীক্ষার খাতায় সঠিকভাবে উপস্থাপনার অভাবে কম নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিচে পরীক্ষায় ভাল করার জন্য কিছু নিয়ম আলোচনা করা হলো ।

  পরীক্ষার আগের রাতের পড়া

  পরীক্ষার আগের দিন রাতে খুব বেশি রাত করে পড়ালেখা করা উচিত্ না। নতুন কোন টপিক শুরু না করে পূবের্র পড়াগুলো অধ্যয়ন করা উচিত্। অনেক রাত জেগে পড়ার কারনে পরীক্ষার সময় ক্লান্তি অনুভব হতে পারে এবং স্বরণ শক্তি হরাস পেতে পারে।

  পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ ও মনে করে পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া

  পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কলম, পেন্সিল, সাইন পেন, স্ক্যাল, ক্যালকুলেটর, প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড সহ অনুমোদিত অন্যান্য সরঞ্জাম মনে করে নিয়ে যেতে হবে। অতিরিক্ত কলম নিয়ে ইত্যাদি নিয়ে যাওয়া উচিত। এতে একটি সমস্যা হলে অন্যটি দিয়ে কাজ করা যাবে। প্রয়োজনে সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করে, দেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

  সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়া

  পরীক্ষার ২০-২৫ মিনিট কেন্দ্রে আসা উচিত্, আর পরীক্ষা কেন্দ্র দূরে হলে আরও কিছু বাড়তি সময় নিয়ে আসতে হবে, পথে কোন সমস্যা (জানজট ইত্যাদি) হলে যাতে সমস্যা না হয়।

  খাতায় মার্জিন টানা

  খাতা দেয়ার পর এবং প্রশ্ন পাওয়ার পূবের্র সময়টাতে কিছু কাজ করতে হয়। খাতা সুন্দর করে মার্জিন টানতে হবে। পেন্সিল দিয়ে মার্জিন টানা ভালো। খাতায় ভাজ করে কোন দাগ না দিয়েও মার্জিন চিহ্নিত করা যায়। অনেকে খাতায় পৃষ্ঠানম্বর যুক্তও করে।

Learning tips 4

ছাত্র জীবনে পরীক্ষাকে ভয় পায়নি এমন সাহসী ছাত্রছাত্রী খোঁজে পাওয়া ভার। পরীক্ষা ছাড়া ছাত্র জীবন শুধুই আনন্দ আর সুখময়! কথায় আছে, ছাত্র জীবন সুখের জীবন, যদি না থাকে এক্সামিনেশন। আর এই পরীক্ষার ভয়ে কত দূর্বল ছাত্র পড়াশুনা থেকে অসময়ে ঝরে গেছে তার শেষ নেই। কলেজে যাওয়া, আড্ডাবাজি আর ঘুরাঘুরি সবারই খুব ভালো লাগে কিন্তু সব আনন্দের মাঝে শুধু পরীক্ষা এসে বাগড়া বাধায়। তাই এই পরীক্ষার ভয় দূর করার জন্য রয়েছে বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের ৯টি দারুণ পরামর্শ। এসব দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে নিয়মিত পড়াশুনা করলে পরীক্ষায় ভাল ফল আসবেই, সেই সাথে সমস্ত দুশ্চিন্তা মাথা থেকে পালাবে।

  ১. বিশেষ অংশ এবং পরিকল্পনায় রঙিন কোড করুনঃ

 লেখা-পড়ার অন্যতম কার্যকর ১ টি উপায় এটি। পড়ার কাজটি কীভাবে চালিয়ে যাবেন তার ১ টি পরিকল্পনা নিশ্চয়ই থাকে। এই অংশটিসহ নোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো রঙিন মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করে রাখুন। ভিন্ন ধরনের অংশের জন্য বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন- কুইজের অংশ গোলাপি, বিভিন্ন টেস্ট হালকা সবুজ, আন্ডার লাইনে অংশ হালকা নীল ইত্যাদি। এই কালার কোড সিস্টেম গুছিয়ে লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়ার কার্যকর একটি উপায়।

  ২. সময় বের করুনঃ

 সেমিস্টারের আগের রাতে সব পড়ে শেষ করা অসম্ভব ব্যাপার। তাই বেশ কিছু দিন সময় বের করে রাখুন। অল্প সময়ের মধ্যে পড়ে পরীক্ষার ঝামেলা মেটানো যায়। কিন্তু সে পড়ায় শেখা হয় না। ফলে ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে হবে। তাই বেশ কিছু দিন হাতে নিয়ে হালকা মেজাজে পড়লেও শিখতে পারবেন। এতে পরীক্ষা হয়ে আসবে আরো সহজ, এবং অনেক ভাল।

  ৩. শিক্ষকদের সাথে দেখা করুনঃ

 আপনার শিক্ষক কখনোই আপনাকে ফিরিয়ে দেবেন না। তাদের কয়েকজন ভীতিকর হতে পারেন। কিন্তু সবকিছুর শেষে তিনিই আপনার শিক্ষক। শেখা বা পরামর্শ নিতে তার কাছে গেলে তিনি তার শিক্ষার্থীকে বহু যত্নে শিখিয়ে দেবেন। আপনার সমস্যা মেটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন যেকোনো শিক্ষক। কাজেই পরীক্ষা বিষয়ে পরামর্শ পেতে শিক্ষকদের দ্বারস্থ হন। তাহলেই ভাল রেজাল্ট করা সম্ভম।

  ৪. বইয়ে কি-পয়েন্ট হাইলাইট করুনঃ

 অনেক ধরনের পরীক্ষা রয়েছে সেখানে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে বইয়ের কি-পয়েন্টগুলো হাইলাইট করে নিন। আর বই দেখার সুযোগ না থাকলেও পড়াশোনার সুবিধার জন্য নিজের বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মার্কার দিয়ে হাইলাইট করে রাখুন। সেগুলো বারবার দেখে নিতে সুবিধা হবে।

  ৫. স্লাইড শো বানিয়ে পড়াশুনা করুনঃ

 ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করুন। বিশেষ নোটগুলোকে কম্পিউটারে স্লাইড শো বানিয়ে পড়ুন। এতে মনে ভালোমতো ঢুকে যাবে সবকিছু।

  ৬. নিজের পরিকল্পনা বানিয়ে পড়াশুনা করুনঃ

 পড়াশোনাকে দারুণ কার্যকর করতে হলে পরিকল্পনা দরকার। পড়াশোনার, বিষয় আর পড়ার পদ্ধতি সবকিছু নিয়ে সময়সূচি করে নিন। তারপর সেই সময় অনুযায়ী পড়াশোনা চালিয়ে যান।

  ৭. নিজের পরীক্ষা নিজেই দিনঃ

 প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার মতো করে বন্ধুরা একসাতে বা আপনি একাই পরীক্ষা দিতে পারেন। এতে মূল পরীক্ষা নিয়ে যতো অজানা আশঙ্কা কেটে যাবে আপনার। অধিকাংশ যে ক্ষেত্রে দেখা গেছে এসব পরীক্ষামূলক পরীক্ষা মূল পরীক্ষার কাছাকাছি হয়ে থাকে।

  ৮. একই পড়া কয়েকবার পড়ুনঃ

 কয়েকবার করে দেখে নিন। এতে মাথায় বসে যাবে সবকিছু। নোটের বিশেষ পয়েন্টগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিন। বারবার মুখস্থ করতে হবে না। হাইলাট করা অংশগুলোতেও চোখ দিন। একবার মুখস্থ করে কয়েকবার শুধু দেখলেই তা ঠোঁটস্থ হয়ে যাবে।

  ৯. গড়িমসি করবেন নাঃ

 যা পড়তে হবেই তা পড়ছি পড়বো বলে ফেলে রাখবেন না। অন্তত পরীক্ষা এগিয়ে এলে এমনটি করার সুযোগ নেই। এ কাজটির জন্যই পরীক্ষার আগের রাতে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কাজেই অল্প-বেশি পড়ার কাজ চালিয়ে যান। দেখবেন, পরীক্ষা আগ দিয়ে প্রায় সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছেন আপনি।

Learning tips 4

পড়াশুনা জ্ঞানার্জন খুবই গুরুত্বপূর্ন বিষয়, তাই ভাবলাম ছোট ভাই বোনদের এ ব্যাপারে কিছু টিপস দেই। কিভাবে পরীক্ষায় অল্প পরিশ্রমেও পার পেয়ে যাওয়া যায় তা জানা সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ন। পরীক্ষার গোল্লা পেয়ে হাবু ফেরে বাড়ি অভিজ্ঞতা যেন কারো না হয়। বলাই বাহুল্য যে নকলবাজির মত উপকারী বিদ্যা আর কিছু হতে পারে না। নাক বোঁচা জাপানীরা নাকি এত উন্নতি করতে পেরেছে কেবল নকলবাজি করে জ্ঞানী লোকেরা বলেন। ছেলেমেয়েরা যত পরিশ্রম করে গরু ছাগলের মত পড়াশুনা করে তার সামান্য কিছু নকলবাজির কাজে লাগালে কত সহজে ভাল করতে পারে এই সোজা কথাটা অনেকে কেন বুঝতে পারে না ভাবলেই দূঃখ লাগে। সেই দূঃখবোধ থেকেই এ লেখার অবতারনা। আমার এই লেখা একজনেরও পরীক্ষা নামক পুলসেরাত পার হতে সাহায্য করলে এই শ্রম স্বার্থক বলে মনে করব।

 নকল নাম শুনলেই অনেকে নাক কুঁচকাতে পারেন। কাজেই কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড তথ্য দেওয়া উচিত। নৈতিকতা ফতা এসব নিয়ে মাথা ঘামাবেন না। পাশ করার পর সব যে কে সেই। আর নৈতিকতা হল আপেক্ষিক। সকলে মিলিয়া কাজ...সবাই মিলে মিশে শুরু করলে আর নৈতিকতা নামক বেরসিক কোন ব্যক্তি এসে চোখ রাংগাবে না, দেশে ব্যাপক প্রকাশ্য দূর্নীতির ক্ষেত্রে যেই সাইকোলজি কাজ করে তেমন আর কি। নকল প্রবনতা আজকাল অনেক কমেছে, তবে আমাদের আমলে গণ নকল যে কি ব্যাপক মাত্রায় ছিল এখন অনেকেই বললে বিশ্বাস করবেন না। নানান পর্যায়ে কাজটি সূচারুভাবে সমাধা করা হত, কিছু আধা অনৈতিক, কিছু পুরোই বিশুদ্ধ চুরি। আধা অনৈতিকের মধ্যে ধরেন কোন শিক্ষক বোর্ডের প্রশ্ন করেন, খাতা দেখেন তাদের কাছে প্রাইভেট পড়া। আর বিশুদ্ধ চুরি বিদ্যার মধ্যে এরপর বোর্ড অফিসের সক্রিয় সহায়তায় প্রশ্ন ফাঁস করা, পরীক্ষার হলে গণ নকলের মহড়া। পরীক্ষার পরও কার্যক্রম থেমে নেই, আরো ব্যাস্ত সময়। বোর্ড অফিস থেকে বের করা হত কোন পরীক্ষকের কাছে খাতা যাচ্ছে, সে অনুযায়ী পিতা/পুত্র মিলে খাতার পিছু ধাওয়া করে পরীক্ষকের বাসায় মিষ্টির হাঁড়ি এবং মোটা খাম হাতে হাজির হওয়া। আমার এক মামার ৫ সন্তান ছিল পিঠাপিঠি। মামা বেচারাকে প্রতি বছরই অফিস ছুটি নিয়ে এ মিশনে মফস্বল ধাওয়া করতে হত। এতে কোনভাবে ব্যার্থ হলেও চিন্তা নেই। এরপর বোর্ড অফিসে রেজাল্ট আসলে সেখানেও টেবুলেশনে নানান তেলেসমাতি খাটানো; সব মিলিয়ে আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থার এক স্বর্ণযুগ গেছে তখন। মনে করার কারন নেই যে এই কাজ অল্প দুয়েকজনে করত। আমার নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজন অনেককেই দেখেছি এসবে যোগ দিতে। খালু সাহেব আদু কন্যাকে পাশ করাতে পাঞ্জাবীর হাতার ভেতর করে নকল নিয়ে সাপ্লাই দিচ্ছেন একটি উদাহরন। বিশেষ করে মফস্বলের দিকে গণ নকলবাজি চলত মোটামুটি উতসব মুখর পরিবেশে। বলাই বাহুল্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষকদের সক্রিয় সহযোগিতায়। আমার এক আত্মীয়কে একবার এক পরীক্ষার গার্ড নকল না আনার অপরাধে বেজায় ধমকে দেন। খুব বিরক্ত কন্ঠে বলেন যে তোদের দোষে তোরা ফেল করবি আর তোদের বাপ মা আমাদের গালি দিবে, আমরা কিছু পড়াই না, অকর্মণ্য এসব বলবে। কি নিদারুন অন্যায়!

  পরীক্ষা কেন্দের ভেতর থেকে বাইরে প্রশ্ন চালান যেত, সেই প্রশ্ন অনুযায়ী বাজার থেকে উত্তরপত্র সাইক্লোষ্টাইল হয়ে আসত, আবার কোন সহৃদয় পরোপকারি হয়ত রীতিমত মাইক ভাড়া করে গাছের ওপর বসে উত্তর পড়ে যাচ্ছেন এমন নজিরও আছে। কেন্দ্রগুলি থেকে প্রতিদিনই বস্তা কে বস্তা নকল উদ্ধার হত। ম্যাজিষ্টেট এলে কিঞ্চিত সমস্যা হত। কেন্দ্রের গার্ড শিক্ষকেরা দ্রুত সবাইকে ইংগিত দিতেন, সাবধান, এসেছে, এসেছে। মাঝে মাঝে বেরসিক কিছু ম্যাজিষ্ট্রেট এসে ঝামেলা করতেন, তবে তারও পালটা ব্যাবস্থা ছিল। ছাত্রদের পাশাপাশি বেশ কিছু পরীক্ষকও বহিষ্কার হত। বাংলার মানুষ চিরকালই আন্দোলন মুখর প্রতিবাদী জাতি। যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আমাদের মজ্জাগত। নকলের মত মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপই বা কিভাবে মেনে নেওয়া হবে? তাই অনেক যায়গায় প্রকাশ্যেই নকল করতে দেওয়ার দাবীতে মিছিল বের হত। বিরাট রক্তক্ষয়ী সংঘর্য বেধে যেত নকল সরবরাহকারী বনাম থানা পুলিশদের। যাক, সেসব স্বর্নালী দিনের কথা ভাবে হা হুতাশ করে আর কি হবে? এবার আপনাদের এ বিষয়ে আমার কিছু প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বলি যা থেকে আশা করি সবাই শিক্ষা গ্রহন করতে পারবেন।

  নিজের ছোটবেলা থেকেই শুরু করি। একদম ছোটবেলায় যাকে বলে লেদু টাইপের ছিলাম। পড়াশুনায় রীতিমত ডাব্বা। বাবা সাংসারিক ব্যাপারে চরম উদাসীন, মা বাড়ির কাজের লোক ড্রাইভার এদের দেখিয়ে আমার ভবিষ্যত ইংগিত করেন, তাতে তেমন লাভ হয় না। কোনমতে পাশ করি, তাও এই বিদ্যা অবলম্বন ছাড়া মনে হয় হত না। তবে তখনো ছোট তো, বুদ্ধি বেশী খেলেনি। পরীক্ষার আগের রাতে পুরো বাসার লোক মিলে হারিকেন হাতে আমার বই খুঁজছে এটা মোটামুটি রুটিন ছিল । অবধারিতভাবে সে বই ফিল্মী কায়দায় খাটের তল থেকে ছিন্নভিন্ন অবস্থায় উদ্ধার হত। (এই অভ্যাস আজো আছে, আমার খাটের তলে আশে পাশে সর্বদাই গোটা দশেক বই থাকে যা প্রতি নিয়ত গৃহ অশান্তির কারন হয়)। পরীক্ষার হলে কাঁপতে কাঁপতে যেতাম। প্রশ্ন দেখলে চোখের পানি বেরিয়ে আসত। কিছুই তো পারি না। বেকুবের মত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রই যত্নের সাথে হুবহু কপি পেষ্ট মেরে আসতাম। এতেই পাশ মিলে যেত। সেসব শিক্ষিকাদের জন্য প্রান খুলে দোয়া করি।

  এরপর আরেকটু বুদ্ধি খোলার পর নানান রকমের বিচিত্র সব কায়দা পর্যবেক্ষন শুরু করি। তবে আমি জড়ভরত ছিলাম দেখে টেবিলের উপর পেন্সিলে লেখা ও ৩০ ডিগ্রী আড়চোখে পাশের জনেরটা মারা ছাড়া আর কোনটাই পারতাম না। অন্য ছেলেরা কি সুন্দর হাঁটুর উপর বই খুলে বা জ্যামিতি বক্সের ভেতর আনা চোথা মেরে লিখত, কেউ আবার অসীম উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখে স্প্রীং বানাতো। এতে নকল ছোট ছোট কাগজে লিখে সেই কাগজ কেটে কেটে স্প্রীং এর মত পাকানো হত। হাতের তালুতে রেখে তুড়ি মারার মত করে করে পৃষ্ঠা পালটানো হত। এতে হাতের কাজ এবং প্র্যাক্টিস খুব বড় ব্যাপার ছিল, তবে ফল পাওয়া যেত খুবই ভাল। ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা অতি ক্ষীন। মোটা মাথার লোকেরা যদিও বলত যে যে সময় ও শ্রম দিয়ে এটা বানাতে হয় সে সময় পড়াশুনা করলে নাকি এমনিই ভাল করা যায়। এদের কথা আর কি বলব, গাধা কিসিমের লোক সবসময়ই থাকে।

  তবে সতর্কতার কথা সবসময় ফার্ষ্ট প্রায়োরিটি দিতে হবে, এটা ভুলে গেলে কিন্তু মহাবিপদ; তীরে এসে তরী ডুবতে পারে। আমাদের সাথে স্কুলে ফারাবি নামের এক বন্ধু ছিল। তুখোড় ছেলে, বাবা এয়ারফোর্সের গ্রুপ ক্যাপ্টেন, পুরো বাসা কঠোর ধার্মিক, ফারাবি ক্লাস থ্রীতে কোরান খতম দিয়েছে, নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। ধর্ম ও আরব দেশের মহাত্ম্য সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দেয় (সে আমলে আমাদের নানান কারনে আরব দেশ সম্পর্কে অত্যন্ত উচ্চ ধারনা ছিল)। তবে ধার্মিক হলে হবে কি, বদমায়েশিতেও সে কম যায় না। চোখ দুটি সাক্ষাত শয়তানের মত সারাক্ষন জুলজুল করছে। নকলবাজিতেও তার সফলতা খুবই ভাল। তবে মানুষ মাত্রেই ভুল করে। ক্লাস টেনের প্রি-টেষ্ট পরীক্ষায় অবশেষে ঘটনা ঘটে গেল। জানা গেল ভুগোল পরীক্ষায় ফারাবি ধরে খেয়েছে। ধরা খাবার কারন বিচিত্র। পরীক্ষায় অতিরিক্ত উত্তরপত্র লাগলে তা ষ্টেপল করে মূল কাগজের সাথে লাগাতে হত। সে বেচারা তাড়াহুড়ায় খেয়াল করেনি, অতিরিক্ত কাগজ লাগাবার সাথে সাথে ভুগোল বই এর ছেঁড়া পৃষ্ঠাও ষ্টেপল করে দিয়েছিল। তারপর বিশাল তোলপাড়। নেহায়েত বাবার পরিচয়ে তাকে খুব বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয়নি। মেট্রিক পাশ করার পর সে পুরোপুরি তবলিগী হয়ে যায়।

 আমার নিজের নকল জীবন তেমন উজ্জ্বল নয়। তবে একেবারে ফেলনাও নয়। ইন্টারমেডিয়েটে বায়োলজির বিভিন্ন ফুল/প্রানীর শ্রেনী বিন্যাস ছিল রীতিমত আতংকের মত। বর্গ, গোত্র, গণ এসব যতই মুখস্ত করি ততই একটার সাথে আরেকটা গুলিয়ে যেত। তাই পরীক্ষার দিন বাথরুম পদ্ধুতির আশ্রয় নিতে হল। পরীক্ষার মাঝামাঝি বাথরুম গিয়ে একটু জ্ঞানচর্চা আর কি। হায়, সেখানে কি নয়নাভিরাম দৃশ্য। আমার মত জ্ঞান পিপাষুর ভিড়ে রীতিমত বাথরুম প্রকম্পিত। অনেকের এক হাতে সিগারেট, আরে হাতে খোলা বই; গম্ভীর মুখে পায়চারি করে করে রিডিং পড়ছে। আমিও ঝটপট আমার সমস্যা সমাধান করে চলে গেলাম।

 আর ২৫ নম্বরের ব্যাবহারিক পরীক্ষাগুলি ছিল রীতিমত মজাদার। আমার কেমিষ্ট্রী ব্যাবহারিকে সাদা একটি লবন দেওয়া হল পরীক্ষা করে সনাক্ত করতে। কাজটা তেমন সহজ নয়। তবে কোন চিন্তা নেই। কলেজের লতিফ মামু দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। টেষ্ট টিউব হাতে নিয়েই....জিংক সালফেট...বিশ টাকা বিশ টাকা। ব্যাস, কিসের আর পরীক্ষা কিসের কি। ২০ টাকা দিয়ে খুশীমনে রিপোর্ট লিখতে বসে গেলাম। এ জাতীয় আরো কত তেলেসমাতি যে ব্যাবহারিকে করা হত বলতে গেলে বিশাল রচনা হবে।

 আগে ধারনা ছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং এসবে ঢুকলে মনে হয় নকলবাজির দিন শেষ। মেডিকেলে ভর্তি হবার পর আবারো আশা ফিরে পেলাম। সিনিয়র ভাইয়েরা আশার আলো দেখান। মেডিকেলের আপারা আমার দেখা সবচেয়ে স্মার্ট মহিলা। ওনারাও অভয় দেন, হাত ব্যাগ খুলে কি আরামে টুকেন সেসব গল্প করেন। এক ল্যাবরেটরির বুড়ো মামুর সাথে আমাদের ভাল ভাব হয়। উনি নানান গল্প করেন আমাদের সাথে। একদিন একজন প্রফেসরের কথা কি কারনে যেন ওঠায় উনি বলে উঠলেন, ওনারে তো ঐ সাবজেক্টে আমিই পাশ করাইছি। বলেন কি! নাতো কি, ৭২ সালে আমি দড়িতে বাইন্ধা নকল সাপ্লাই দিছি, উনি দোতলায় গ্যালারীতে পরীক্ষা দিছেন।

 এরপর বুয়েট আসার পর সে আনন্দ একেবারেই উবে গেল। কি সব পাষান্ডের মত শিক্ষকদের দল। আর কি সতর্কতা। প্রথম ক্লাস টেষ্টের সময় লেকচারার স্যার আমাদের হতচকিত করে ৫ জন সহকারি পাহারাদার নিয়ে আসলেন। বললে কেউ বিশ্বাস করবেন না তাদের হাবভাব পুরোপুরি ইংরেজী ছবিতে দেখানো ট্রেইন্ড কমান্ডোর মত, একেবারে পাথরের মত থমথমে চেহারা। রুমে এসেই মনে হয় পূর্ব পরিকল্পনা মতই কোন কথাবার্তা ছাড়াই এক একজনে এক এক কোনায় চলে গেলেন। দলে একজন মহিলা কমান্ডোও ছিলেন, তবে খুশী হবার কিছু নাই। ওনার চেহারাই ছিল সবচেয়ে কঠোর। ওনাকে ঠিক দেখাচ্ছিল সে সময়কার হিন্দী ছবি গুমরাহ এর এক ভ্যাম্প চরিত্রের মত। মুখের দিকে তাকালেই মুখ আরো শক্ত করে থুতনি ওপরে তুলে করে ভস্ম করে ফেলা চোখে তাকান। ভয়ে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়। পরীক্ষকদের চেহারা সূরত হাবভাব দেখে ভয়েই অনেকের পরীক্ষা খারাপ হয়ে গেল।

 তবে দৈত্যকূলে প্রহলাদের মত এদের মাঝেও দুয়েকজন ভাল মানুষ পাওয়া যায়। মডার্ন ফিজিক্স পড়াতেন গিয়াসউদ্দিন স্যার। অতি চমতকার ব্যাবহার, মাটির মানুষ। খুব মজা করে যত্নের সাথে টাইম স্পেস ডায়াগ্রাম, আনিষ্টাইনের তত্ত্ব এসব পড়ান। কিছুই বুঝি না। উনি ২০ নম্বরের ক্লাস টেষ্ট নেবেন। মেধাবী অনেকে খাস নিয়তে উপরে আল্লাহ নীচে বই বলে পেছনের বেঞ্চে গিয়ে বসল। প্রশ্নপত্র এবং উত্তর একই সাথে। সবাইকে বিলি করার পর দেখা গেল যে পেছনের দিকের কয়েকজন প্রশ্নপত্র পায়নি। স্যার এবার সারা জীবন মনে রাখার মত কাজ করলেন। জীভ কেটে বললেন, ভুল হয়ে গেছে, কিছু দেখি শর্ট পড়ল। তবে চিন্তার কোন কারন নেই, তোমরা অপেক্ষা কর। আমি আরো প্রশ্নপত্র নিয়ে আসছি। উনি মনে হয় ভেবেছিলেন উনি আমেরিকা ইংল্যান্ড এমন কোন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে আছেন। আমাদের পুরো অরক্ষিত রেখে উনি প্রশ্নপত্র আনতে ডিপার্টমেন্টে চলে গেলেন। আর আমাদের পায় কে? পুরো ক্লাস বলতে গেলে ৭২ সাল। সারা ক্লাসে শুধু খস খস খস খস কাগজ উল্টানোর আওয়াজ। অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম নিরীহ কিসিমের দেখতে মেয়েগুলাও কম যায় না। দাঁত কেলিয়ে আরামে টুকে যাচ্ছে। শুধু যারা নকল করবে বলে পেছনের বেঞ্চে বসেছিল ধরা খেয়েছে তারাই। কিছুই করার নেই, চুপ করে দেখছে আমরা কিভাবে ছক্কা পেটাই।

 বুয়েটের পরীক্ষা অত্যন্ত কঠোর হলেও ক্লাস টেষ্টে এ জাতীয় কিছু কিছু কার্যক্রম চালানো যেত। বেঞ্চের উপর বা ফাইলের পিঠে পেন্সিল দিয়ে লেখা মোটামুটি নিরাপদ ছিল। ক্লাস টেষ্টে ধরা পড়লে পরীক্ষায় গোল্লা দেওয়া হত, তবে সাধারনত কোন একাডেমিক ব্যাবস্থা নেওয়া হত না। তাই এইটুকু ঝুকি খুশী মনেও নেওয়া যেত। মাঝে মাঝে ছোট থেকে বড় ধরনের বিপত্তি ঘটে যেত। নুরুদ্দিন নামের একজন খুব ভাল স্যার ছিলেন, সবাইকে আপনি আপনি করে ডাকতেন। যদিও মানুষ খুব ভাল হলেও পড়াতে পারতেন না ভাল। ওনার ক্লাস টেষ্টে কাগজের শিট নিয়ে চুরি করা যেত। ধরা পড়লে তেমন কিছুই করতেন না, কেবল শিটটা নিয়ে নিতেন, এমনকি তারপরেও পরীক্ষা দিতে দিতেন। প্রথম দুয়েকবার ঠেকে শেখার পর ছেলেপিলে একই জিনিস কয়েক কপি করে নিয়ে আসা শুরু করল। স্যার এক কপি নিয়ে যান, আবারো আরেক কপি পকেট থেকে বেরিয়ে যায়। একবার এক ছেলে টেবিলে লিখেছিল। টেবিলে লেখার সমস্যা হল আলো ঠিকমত না পড়লে পড়া যায় না, মাথা একটু ঘুরিয়ে ভিন্ন এংগেল থেকে পড়তে হয়। সে মাথা নানান কায়দায় বেকিয়ে চুরিয়ে টেবিলের লেখা পড়ার চেষ্টা করছিল। স্যারও দেখে ফেললেন। দেখি দেখি, আপনে এমনে এমনে কইরা কি দেখেন! তারপর দেখার পর স্যার পড়ে গেলেন সমস্যায়। কারন ওনার নিয়ম মত সেই বেঞ্চ সিজ করতে হবে। অবশেষে অপরাধীকে অন্য বেঞ্চে সরিয়ে সমস্যার সমাধা হল।

 পাশের জনেরটা কপি করা সবচেয়ে নিরাপদ। তবে স্যারেরা এটা খুব ভাল জানেন দেখে সাধারনত দুই সেট প্রশ্ন বানিয়ে আনতেন যেন পাশাপাশি টুকলিফাই না করা যায়। আবার কেউ কেউ ছিলেন উদা, সাম্যবাদে বিশ্বাসী। এই রকম উদার ছিলেন সোহরাব স্যার। ঘটনার নায়ক মোস্তাফিজ, তার রোল ৯৩। সে টুকবে মনিজ নামের এক গুডি বয়ের খাতা, যার রোল ৭৬। এই মোস্তাফিজ যাকে বলে ফাঁকিবাজের রাজা, চোরের বাসা। সে নিজেও বিশাল দেশী (তাকে এখনো মোটাফিউজ বস্তাফিজ রোলিং বল এইসব স্নেহ করে ডাকা হয়)। বিরাট একটা ডাক্তারি ব্যাগের মত হাত ব্যাগ নিয়ে আসত যা টেবিলের উপর দাঁড় করিয়ে রেখে তার আড়ালে টুকত। এবারও তাই শুরু করল। তবে স্যার একটু পর আঁচ করতে পেলে তাকে বললেন ব্যাগ নামিয়ে রাখতে। সেও ভাল মানুষের মত নামিয়ে রাখল। যদিও তার মত পাকা চোরের কাছে সোহরাব স্যারের মত সিনিয়র স্যারকে গোল দেওয়া বাম হাতের খেল। সে নির্বিঘ্নেই হাসি মুখে কাজ সমাধা করে ফেলল। ঘটনা ঘটল পরে। স্যার পরীক্ষার খাতা জমা গোনার পর থ। অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, রোল ৭৬ কে? মনিজ দাঁড়ালো। স্যার বলেন তুমি দুইটা পরীক্ষা দিলে কেমন করে? ঘটনা হল মাছি মারা কেরানির মতই মোস্তাফিজ উতসাহের চোটে নকল মারতে মারতে নিজের রোলের যায়গায় মনিজের রোল পর্যন্ত মেরে দিয়েছে। আসল অপরাধী দাড়ানোর পর স্যার জিজ্ঞাসা করলেন ব্যাপার কি? মোস্তাফিজ আমতা আমতা করে মাথা চুলকাতে চুককাতে বলে, স্যার, আপনি আমাকে ব্যাগটা নামাইতে বলছিলেন যে তখনই আসলে ভুলটা হয়ে গেছে। স্যারও এবার হেসে দিলেন, আমি তোমাকে ব্যাগ নামাতে বললাম আর তাতে তুমি নিজের রোল ভুলে গেলে?

 ক্লাস টেষ্টে একটু ছাড় দিলেও টার্ম ফাইনাল পরীক্ষায় এ জাতীয় কান্ড কীর্তন করে পার পাওয়া মোটামুটি অভাবনীয়। ধরা পড়লে নো মার্সি, এক্কেবারে দেন এন্ড দেয়ার ব্যাক টু দ্যা প্যাভিলিয়ন। ব্যাবস্থা কি রকম কঠোর তার একটি উদাহরন দেই। একবার এক ছেলে বাথরুমে গেল। এক স্যার সন্দেহ হওয়াতে সেই ছেলের পেছু পেছু চুপিসারে বাথরুমে ঢোকেন, সেই গরু টেরও পায়নি। বাথরুমের ভেতর ঢুকলে ভেতরে ছোট ছোট খোপ, যেগুলি পুরো ছাদ পর্যন্ত ছিল না, মাথা হাইট পর্যন্ত। সে এক খোপে ঢুকে দরজা আটকে পকেট থেকে নিশ্চিন্ত মনে চোথা বের করেছে। পঞ্চাশোর্ধ সেই স্যার অসীম বীরত্ব দেখিয়ে দুই হাত সেই খোপের দেওয়ালে কমান্ডো কায়দায় ভর দিয়ে লাফিয়ে উঁচু হয়ে তাকে ধরে ফেলেন। এরপর সেই ছেলেকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

  

Learning tips 3

  ফেসবুকের পরিসংখ্যান অনুসারে, ১০০% ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৬৪% ব্যবহারকারী ছাত্র-ছাত্রী। সারাদিন নেটে থাকার কারনে অনেকে পড়াশোনার জন্য কম সময় ব্যয় করে। কিন্তু প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর মনেই একটা আকাঙ্খা থাকে ভালো রেজাল্ট করার। তাই মুক্তমঞ্চ.কম গবেষনা করে বের করলো অল্প পড়াশোনা করে পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার টিপস । আশাকরি এতে সকল ধরনের ছাত্র-ছাত্রীরা লাভবান হবেঃ

  (১) পরিকল্পনা করুনঃ

 পরিকল্পনা ছাড়া এই পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত যত কাজ হয়েছে তারশতকরা ৯৮% কাজই সফলতা অর্জন করতে পারেনি। তাই আজ থেকে সুষ্ঠুপরিকল্পনা করে ফেলুন। যেমন-আপনি প্রতিদিন প্রতিটা বইয়ের ১টি করে প্রশ্নপড়বেন।

  (২) শুধু পড়ুন, মুখস্থ করবেন নাঃ

 সবার মুখস্থ বিদ্যা ভালো না। তাই যেটা পড়বেনসেটা শুধু পড়ুন কিন্তু মুখস্থ করতে চেষ্টা করবেন না। বুঝে বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন।অনেক সময় এমন হয় শুধু পড়ার কারনে আপনার পুরো বিষয়টা পরীক্ষার হলে মনেড়ে যায়। জোর করে যদি মুখস্থ করতে যান তাহলে ভুলে যেতে পারেন। যেটা খুবই স্বাভাবিক। দেখবেন খবরের কাগজ কিন্তু আমরা মুখস্থকরি না, কিন্তু খবরগুলো ঠিকই আমাদের মনে থাকে। তাই প্রতিদিন অল্প পড়াশোনা করার অভ্যাস করুন।

  (৩) পড়ার সময় লিখে পড়ার চেষ্টা করুনঃ

 যে প্রশ্নটি পড়বেন সেটার উত্তরগুলো খাতা কলমের সাহায্যে লিখে লিখে পড়ার চেষ্টা করুন। তাহলে পড়াও মনে থাকবে, চোখের সাহায্যে অন্তরেও গেঁথে যাবে। বেশী লেখার দরকার নেই। মেইন পয়েন্টগুলো দুচার লাইন করে লিখুন।

  (৪) সময়ের কাজ সময়ে করুনঃ

 পড়ালেখায় সফলতা পেতে হলে সময়ের কাজ আপনাকে সময়ে করতেই হবে। বেশীক্ষন পড়তে ভালো লাগেনা? ঠিক আছে। তাহলে প্রতিদিন ২ ঘন্টা ফিক্সড করে নিন। ওই ২ ঘন্টাই পড়বেন। ওই সময়ে অন্য কোন কাজ করবেন না। তাই প্রতিদিন অল্প পড়াশোনা করার অভ্যাস করুন।

  (৫) প্রতিযোগী ঠিক করে নিনঃ

 রেসের মাঠে একা দৌড়ালে যেমন কোন লাভ নেই, ঠিক তেমনি পড়াশোনায়ও ভালো রেজাল্ট করতে প্রতিযোগী সেট করার কোন বিকল্প নেই। আপনার থেকে দুই ধাপ ভালো কোন ছাত্র-ছাত্রীকে টার্গেট করুন। মনে মনে বলুন নেক্সট পরীক্ষায় আমি ওর থেকে কমপক্ষে ২০ মার্কস বেশী ওঠাবো বা ২ পয়েন্ট বেশী অর্জন করবো। তাই প্রতিদিন অল্প পড়াশোনা করার অভ্যাস করুন।

  (৬) আড্ডা কমিয়ে দিনঃ

 আমি কিন্তু বলিনি একদম আড্ডা দিবেন না! কিন্তু আড্ডা দেয়ার সময় কমিয়ে দিন। এখন পর্যন্ত আড্ডায় কোন উৎপাদনমুখী কিংবা ভালো টপিকস নিয়ে আলোচনা হয় না। কি নিয়ে আলোচনা হয় তা আমি আপনি আমরা সবাই

 জানি। প্রতিদিন যদি ২ ঘন্টা আ্ড্ডা দেয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে সেটা আধা ঘন্টা কমিয়ে দিন। এভাবে আড্ডা দেয়া আস্তে আস্তে কমিয়ে দিন। তাই প্রতিদিন অল্প পড়াশোনা করার অভ্যাস করুন।

   (৭) ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মিশুনঃ

 কথায় আছে সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। আপনি যদি এভারেজ কিংবা খারাপ ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মেশেন তাহলে আপনার উপরে কিন্তু খারাপ প্রভাবই পরবে। ভালো প্রভাবের জন্য ভালো ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মিশুন, কথা বলুন, প্রয়োজনে তাদের সাথে আড্ডা দিন।

  (৮) ধর্মকর্মে মন দিনঃ

 শুধু পরীক্ষার আগে স্রষ্টার নাম জপে কোন ফায়দা হয় না। প্রতিদিন অল্প অল্প করে ধর্ম কর্মে মন দিন। আস্তে আস্তে বাড়িয়ে ফেলুন। তাহলে স্রষ্টাও আপনার উপরে খুশি হবেন। শুধুমাত্র্র বাবা-মা কিংবা টিচারের মন জয়ের জন্য কাজ করলে হবে না। তাই প্রতিদিন অল্প পড়াশোনা করার অভ্যাস করুন।

  (৯) নির্দিষ্ট সময়ে পড়ার অভ্যাস করুনঃ

 নির্দিষ্ট সময়ে ক্ষুধা লাগলে আপনার কেমন লাগে?? ঠিক তেমনি প্রতিদিন অল্প পড়ুন বা বেশী পড়ুন একটা নির্দিষ্ট সময়ে পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন। এলোপাতারি সময়ে না পড়ে, নিদির্ষ্ট সময়ে যেমন রাত ৮ থেকে ১২টা বা রাত ১০টা পর্যন্ত এই সময়টা শুদুই পড়ুন। অন্যকোন কাজ করবেন না।

   (১০) টিভি দেখা কমিয়ে দিনঃ



 ছাত্র-ছাত্রীর অন্যতম কাজ হচ্ছে টিভি দেখা। সচরাচর সবাই টিভি দেখে নিজেকে নায়ক নায়িকা বা গায়ক গায়িকা ভাবতে পছন্দ করে। কিন্তু মনে রাখবেন টিভিতে যা কিছু দেখি সবই কিন্তু প্রফেশনাল লোকজন করে। তাদের পেশাই হচ্ছে ওইটা করা। তাই আপনি যদি তাদের মতো কল্পনা করেন কিন্তু পড়ালেখা না করেন তাহলে কিন্তু কোন কাজ হবে না।

  

Learning tips 2

   শিক্ষা জীবনের আসল ভয় পরীক্ষা। কথায় আছে শিক্ষা জীবন বড় সুখের জীবন যদিনা থাকত  পরীক্ষা। আর বাকিটুকু অনেক মজার সময়। বন্ধু-বান্ধব, লেখাপড়া, আর  ঘুরে বেড়ানো, আড্ডা সবইকে  অনেক ভালো লাগে। কিন্তু রাজ্যের যতো টেনশন চলে আসে পরীক্ষার সময় এগিয়ে আসলে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষজ্ঞ শিক্ষকদের ৯টি দারুণ পরামর্শ। বিশেষ পদ্ধতিতে পড়াশোনার কাজটি চালিয়ে গেলে পরীক্ষার সময় কাঁধে দুশ্চিন্তা ভর করবে না।

  ১. বিশেষ অংশ এবং পরিকল্পনায় রঙিন কোড করুন

 লেখা-পড়ার অন্যতম কার্যকর ১ টি উপায় এটি। পড়ার কাজটি কিভাবে চালিয়ে যাবেন তার ১ টি  পরিকল্পনা  নিশ্চয়ই থাকে। এই অংশটিসহ নোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো রঙিন মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করে রাখুন। ভিন্ন ধরনের অংশের জন্য বিভিন্ন রঙ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। যেমন- কুইজের অংশ গোলাপি, বিভিন্ন টেস্ট হালকা সবুজ, আন্ডার লাইনে  অংশ হালকা নীল ইত্যাদি। এই কালার কোড সিস্টেম গুছিয়ে লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়ার কার্যকর একটি উপায়।

  ২. সময় বের করুন

 সেমিস্টারের আগের রাতে সব পড়ে শেষ করা অসম্ভব ব্যাপার। তাই বেশ কিছু দিন সময় বের করে রাখুন। অল্প সময়ের মধ্যে পড়ে পরীক্ষার ঝামেলা মেটানো যায়। কিন্তু সে পড়ায় শেখা হয় না। ফলে ভবিষ্যতে বিপদে পড়তে হবে। তাই বেশ কিছু দিন হাতে নিয়ে হালকা মেজাজে পড়লেও শিখতে পারবেন। এতে পরীক্ষা হয়ে আসবে আরো সহজ, এবং অনেক ভাল।

  ৩. শিক্ষকদের সাথে দেখা করুন

 আপনার শিক্ষক কখনোই আপনাকে ফিরিয়ে দেবেন না। তাদের কয়েকজন ভীতিকর হতে পারেন। কিন্তু সবকিছুর শেষে তিনিই আপনার শিক্ষক। শেখা বা পরামর্শ নিতে তার কাছে গেলে তিনি তার শিক্ষার্থীকে বহু যত্নে শিখিয়ে দেবেন। আপনার সমস্যা মেটাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন যেকোনো শিক্ষক। কাজেই পরীক্ষা বিষয়ে পরামর্শ পেতে শিক্ষকদের দ্বারস্থ হন। তাহলেই ভাল রেজাল্ট করা সম্ভব।

  ৪. বইয়ে কি-পয়েন্ট হাইলাইট করুন?

 অনেক ধরনের পরীক্ষা রয়েছে সেখানে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে বইয়ের কি-পয়েন্টগুলো হাইলাইট করে নিন। আর বই দেখার সুযোগ না থাকলেও পড়াশোনার সুবিধার জন্য নিজের বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মার্কার দিয়ে হাইলাইট করে রাখুন। সেগুলো বারবার দেখে নিতে সুবিধা হবে।

  ৫. স্লাইড শো বানিয়ে পড়া শুনা করুন

 ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করুন। বিশেষ নোটগুলোকে কম্পিউটারে স্লাইড শো বানিয়ে পড়ুন। এতে মনে ভালোমতো ঢুকে যাবে সবকিছু।

  ৬. নিজের পরিকল্পনা বানিয়ে পড়া শুনা করুন

 পড়াশোনাকে দারুণ কার্যকর করতে হলে পরিকল্পনা দরকার। পড়াশোনার, বিষয় আর পড়ার পদ্ধতি সবকিছু নিয়ে সময়সূচি করে নিন। তারপর সেই সময় অনুযায়ী পড়াশোনা চালিয়ে যান।

  ৭. নিজের পরীক্ষা নিজেই  দিন

 প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার মতো করে বন্ধুরা একসাথে বা আপনি একাই পরীক্ষা দিতে পারেন। এতে মূল পরীক্ষা নিয়ে যতো অজানা আশঙ্কা কেটে যাবে আপনার। অধিকাংশ  যে ক্ষেত্রে দেখা গেছে এসব পরীক্ষামূলক পরীক্ষা মূল পরীক্ষার কাছাকাছি হয়ে থাকে।

  ৮. একই পড়া কয়েকবার পড়ুন

 কয়েকবার করে দেখে নিন। এতে মাথায় বসে যাবে সবকিছু। নোটের বিশেষ পয়েন্টগুলোতে চোখ বুলিয়ে নিন। বারবার মুখস্থ করতে হবে না। হাইলাট করা অংশগুলোতেও চোখ দিন। একবার মুখস্থ করে কয়েকবার শুধু দেখলেই তা ঠোঁটস্থ হয়ে যাবে।

  ৯. গড়িমসি করবেন না

 যা পড়তে হবেই তা পড়ছি পড়বো বলে ফেলে রাখবেন না। অন্তত পরীক্ষা এগিয়ে এলে এমনটি করার সুযোগ নেই। এ কাজটির জন্যই পরীক্ষার আগের রাতে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কাজেই অল্প-বেশি পড়ার কাজ চালিয়ে যান। দেখবেন, পরীক্ষা আগ দিয়ে প্রায় সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছেন আপনি।

Learning tips 1

  রীক্ষা  নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ বা চিন্তা থাকাটাই স্বাভাবিক। এই চিন্তা বা উদ্বেগই পরীক্ষায় ভালো করার মূল চালিকাশক্তি। পরীক্ষা নিয়ে যার কোনো ভাবনাই নেই তার প্রস্তুতিতে যথেষ্ট ঘাটতি থেকে যায়। পড়ালেখা থাকলেই পরীক্ষা থাকবে। এর থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই। আর তাই পরীক্ষায় ভাল ফলাফল সবারই কাম্য। তবে শুধু পড়ালেখা করে পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। এর জন্য কিছু কৌশল বা ‘‘strategy” অনুসরণ করতে হয়। তেমন ৮টি কৌশল নিয়েই আজকের এই লেখা-

       ১. খাতায় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা:

 কথায় আছে, প্রথমে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী। পরীক্ষার খাতায় সুন্দর হাতের লেখা এবং গোছানো উপস্থাপন শিক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা অধিক নম্বর পেতে সহায়ক। প্রস্তুতি অনেক ভালো হবার পরও যদি তা খাতায় ঠিকমত উপস্থাপন করা না হয় তবে সেই প্রস্তুতির কোন মূল্য নেই। পরীক্ষার হলে টাইম ম্যানেজমেন্ট করাও এজন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

  ২. মেমরি টেকনিক ব্যবহার করা:

 কিছু কিছু বিষয় থাকে যা মুখস্ত করতেই হয়। সেক্ষেত্রে মেমরি টেকনিক ব্যবহার করা যেতে পারে। ছড়া দিয়ে অথবা বাস্তব জীবনের উদাহরণ দিয়ে পড়া মনে রাখা যায়। যেমন পর্যায় ‍সারণীর 4A গ্রুপের মৌল গুলো হল: C, Si, Ge, Sn, Pb। এগুলোকে এভাবে মনে রাখা যায়: “কাঁদলে (C) সাইকেল (Si) গেন্জি (Ge) স্যান্ডেল (Sn) পাবে (Pb)”। এক্ষেত্রে ছবি এবং ছকও অনেক কার্যকরী।

  ৩. নোট তৈরী করা:

 নোট করে পড়া ভাল ফলাফলের জন্য বেশ কার্যকর। ভাল নোট পাঠে মনোযোগ বাড়ায় এবং পাঠকে আকর্ষণীয় করে তুলে। তাছাড়া নোট করলে পরীক্ষার আগেই একবার বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। এতে প্রস্তুতি নিতে বেশ সুবিধা হয়।

  ৪. ক্লাস লেকচার ফলো করা:

 ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিত হতে হবে ও মনোযোগ দিয়ে লেকচার শুনতে হবে। কেননা পরীক্ষায় কি আসবে বা কি আসতে পারে তা নিয়ে শিক্ষকরা ক্লাসেই কিছু না কিছু ধারণা দিয়ে থাকেন। এছাড়া কঠিন বিষয়গুলো ক্লাসেই শিক্ষকের কাছ থেকে বুঝে নিলে তা অনেকদিন পর্যন্ত মনে থাকে। তাই নিয়মিত ক্লাস লেকচার ফলো করলে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেয়া সহজ হয়।

  ৫. গ্রুপ স্টাডি করা:

 ভাল ফলাফল করার জন্য গ্রুপ স্টাডি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোন বিষয় একসাথে গ্রুপ করে পড়লে সেই বিষয়ের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হয়। এতে করে পড়াগুলো আয়ত্ত করা যেমন সহজ হয়, তেমনি আলোচনার মাধ্যমে জটিল বিষয়গুলো সম্পর্কে বিশদ ধারণা লাভ করা যায়। গ্রুপ স্টাডি করার ফলে শেখার প্রতি আগ্রহও বাড়ে।

  ৬. ভুল থেকে শেখা:

 ভুল করে শেখা জিনিস অনেকদিন মনে থাকে। তাই ‘কোথায় ভুল হচ্ছে? কেন ভুল হচ্ছে? কী বুঝতে পারছিনা?’ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করতে হবে। এগুলো সমাধান করলেই পরীক্ষায় ভালো করার হার অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

  ৭. পড়ে না দেখে লেখার অভ্যাস করা:

 আমরা যা পড়ি তা কখনোই পুরোপুরি মনে থাকে না। পরীক্ষার খাতায় হুবহু নির্ভুল লেখা তাই অনেক সময়ই সম্ভব হয়ে উঠে না। কিন্তু পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার অন্যতম ‍শর্ত হচ্ছে নির্ভুল লেখা। পরীক্ষায় নির্ভুল লেখার জন্য পড়ার পরে না দেখে লেখার অভ্যাস করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। কোন কিছু পড়ার পর তা না দেখে লিখলে ভুল গুলো সহজেই ধরা যায় এবং পরবর্তীতে সেই ভুল হবার সম্ভাবনা কমে যায়।

  ৮. পড়াগুলোকে সুবিন্যস্ত করে সাজিয়ে পড়া শুরু করা:

 পড়া শুরু করতে হবে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে। শুরুতেই মন থেকে পরীক্ষাভীতি ঝেড়ে ফেলতে হবে। পড়াগুলোকে নিজের মতো করে সাজাতে হবে। পরীক্ষার ‍রুটিন অনুযায়ী কোনদিন কি পড়ব তা আগে থেকে ঠিক করে নিতে হবে। এতে পড়তে সুবিধা হয়, পড়া মনে থাকেও বেশি।