আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপায় পর্ব:- ১৩
তুলনা করা বন্ধ করুন
(১৩৩) আপনার কি নেই সেটা ভাবার আগে ভাবুন আপনার কি আছে। অন্যের জীবনের সাথে নিজের জীবনকে তুলনা করবেন না। অন্যের কি আছে, আপনার কি নেই- এটা নিয়ে ভাবা বন্ধ করাই আত্মসন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ভালো উপায়। প্রথমেই এই অভ্যাস রপ্ত করতে না পারলে নিয়মিত প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।
বর্তমান কে উপভোগ করুন
(১৩৪) বেশিরভাগ মানুষই অতীতে কি হয়েছে কিংবা ভবিষ্যতে কি হতে পারে এটা নিয়ে ভেবে ভেবে সুন্দর বর্তমানটাকে ভুলে যায়। আমরা চাইলেই আমাদের অতীত বদলাতে পারবো না। আবার ভবিষ্যতে কি হবে তাও আমরা জানিনা। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো বর্তমানকে মন থেকে উপভোগ করা। প্রতিদিন একবার করে নিজেকে সুখী ভাবুন। ধীরে ধীরে মন থেকেই নিজেকে সুখী ও পরিপূর্ন একজন মানুষ মনে হবে।
আনন্দ খুঁজে বের করুন
(১৩৫) প্রতিদিনই ছোট ছোট বিষয়ে আনন্দ নেয়ার চেষ্টা করুন। নিজের পরিবারের কাছ থেকে, বন্ধুদের কাছ থেকে এমন কি বাগানে ফোটা ছোট্ট একটি গোলাপ ফুল থেকে আনন্দ খুঁজে নিন। নিজের যা আছে তাতেই আনন্দ খুঁজে নিতে পারলে অন্যের কি আছে সেটা নিয়ে ভাবার সময়ই পাবেন না। ফলে মানসিক সন্তুষ্টি অর্জন হবে এবং আপনি নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ন ভাবা শুরু করবেন মনের অজান্তেই।
আত্মবিশ্বাস বাড়ান
(১৩৬) আত্মসন্তুষ্টি অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো আত্মবিশ্বাস। আপনার যদি নিজের উপর এবং নিজের জীবনের উপর আত্মবিশ্বাস না থাকে তাহলে অন্যের সুখ বা সম্পদ দেখে আপনার মনে হিংসা জন্মাতে পারে। কারো তুচ্ছ-তাছিল্যেও মন খারাপ হয়ে যেতে পারে যে কোনো সময়ে। আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকলে নিজের না পাওয়ার গ্লানি পেয়ে বসতে পারে আপনাকে। তাই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলুন। নিজের মনকে নিজেই বোঝান যে আপনার যা আছে তাই নিয়ে আপনি অনেক সুখী।
মনোযোগী হওয়ার চর্চা করা :
(১৩৭) আমরা সাধারণত প্রতিদিনকার কাজ করি নিয়ম বাধা ছকে ,কি পরবো ,কি খাব। কি যাব সব কাজ গুলোই আমাদের মনে আগে ঠিক করে রাখা এবং আমরা সে ভাবে করে যাই আর কিছু ভাবি না। কিন্তু একটু ভেবে দেখেনতো এতে কি আপনে একঘেয়ে একটা জীবন যাপন করছেন না? আপনার কি মনে হয় যে আপনি নাস্তার টেবিলে কেন ভাত খাচ্ছেন কেন রুটি ডিম খাচ্ছেন না? আসলে আমি বলতে চাই আমাদের জীবনটা যদি একটু বৈচিত্রময় না হয় সবকিছু একটা পর্যায় বিরক্তিকর হয়ে যাবে তাই নিজের দিকে একটু মন দিন, এ মন দিয়ার চর্চাটা করুন দেখবেন জীবনটা এত সাদা মাঠা নয় যতটা আপনি ভাবছেন।
নিজের সাথে কথা বলা:
(১৩৮) বেশিভাগ মানুষ নিজেকে যখন আয়নায় দেখে তো কি দেখে ভাবুনতো? সে দেখে যে তার নাকটা আরো সরু হলে তাকে চমৎকার দেখাত ,ইশ আর একটু যদি লম্বা হতাম ! আমার যদি লম্বা চুল হত ! আমার যদি তার মতো মাসেল থাকত ! আরো কত কি। কিন্তু আমরা কি এ ভাবে ভাবি একবারো যে আর কারো থেকে আমি নিজে কতটা সুন্দর অথবা লম্বা অথবা ভালো আছি !
নাহ এ গুলো কিন্তু আমরা সাধারণত ভাবি না , এ না ভাবাটাই আমাদের সম্যসা। এ না ভাবাটাই আমাদের আত্ম তৃপ্তি দেয় না। তাহলে আজ থেকে আয়নার সামনে দাঁড়ান নিজের ক্ষুত বের করতে না বরং আপনার কি কি গুন আছে সেটা বের করতে , নিজেকে বলুন আপনি আর দশ জনের থেকে কত ভালো আছেন। এ বলাটা কিন্তু আপনার ইচ্ছা শক্তিকে আরো বাড়িয়ে দিবে ,নিজের প্রতি আত্ম বিশ্বাস আরো প্রবল হবে ,জীবনের প্রতি একটি স্পষ্ট ধারণা দিবে।
অনুপ্ররেণা খোঁজা:
(১৩৯) জীবনে চলার পথে কিছু বা কেউ আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায় থাকে এর মুল্য দিয়া কঠিন কিন্তু এ প্রেরণা টুকু না পেলে অনেক সময় আমাদের চলার পথে থমকে যেতে হয়। এ প্রেরণাটি যে কারো জন্য তার ইচ্ছা শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। আপনার উচিত হবে এমন কিছু করা বা এমন কারো কথা শুনা বা এমন কারো সাথে মেলা মেশা করা যে আপনাকে প্রেরণা জোগায়।
লক্ষ্য অর্জনের পথকে ভাগ করে নেয়া :
(১৪০) ছোটবেলায় অনেকেরই বিভিন্ন কিছু হবার শখ থাকে কিন্তু আমরা সবাই কি সেটাকে অর্জন করতে পারি? অনেকেই কিন্তু পারে। তার কারণ একটাই সে তার লক্ষ্যকে স্থির রাখে এবং তাকে অর্জন করার জন্য যা করতে হবে সেই কাজটিকে ভাগ করে নেয়। আপনি নিজে শুধু পারেন নিজেকে পরিবর্তন করতে। কেউ চলার পথে আপনার অনুপ্রেরণা হতে পারে কিন্তু আগবাড়িয়ে কাজটি করতে আপনাকে হবে। আর যখন দেখবেন কাজটি করতে পেরেছেন আপনার আত্মবিশ্বাস, ইচ্ছা শক্তি অনেক গুন বেড়ে যাবে। হতাশ হবেন না, যে কোনো কাজ অনেক কঠিন হতেই পারে কিন্তু অসম্ভব নয়।
স্বপ্নকে সত্যি করার প্রচেষ্টা
(১৪১) নিজের স্বপ্নকে সবসময় সত্যি মনে করতে হবে। কোন কাজের ফলে আমি কি পাব তা সব সময় আপনার চোখের সামনে কল্পনা করতে হবে। এতে করে আপনার স্বপ্নই আপনাকে প্রেরণা যোগাবে কাজটি করতে। তখন যে কোন কাজ করে আপনি শান্তি পাবেন। কাজে করার সময় কোন চাপ মনে হবে না। একজন সুখী মানুষ হতে হলে চাপ ছাড়া কাজে নিমগ্ন থাকতে হবে যা আপনাকে এনে দেবে সাফল্য।
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করুন
(১৪২) ‘সমস্যা’ শব্দটিকে ‘চ্যালেঞ্জ’-এ পরিবর্তন করুন। তখন দেখেবেন আপনার সামনে অসংখ্য সুযোগের দরজা খুলে গেছে। এই ছোট একটি বিবর্তনের ফলে আপনি আপনার মেধা ও দক্ষতা প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। সেই কাজের বাধা না হয়ে সমাধানের একটি অংশ হয়ে উঠবেন আপনি। সত্যিকারের সুখী মানুষ বিপদের সময় অষ্ট্রিচ পাখির মত বালিতে নিজের মাথা গুঁজে রাখে না। তারা জয়ের জন্য যুদ্ধ করতে সদা প্রস্তুত থাকে।
নিজের পর্যালোচনা করুন
(১৪৩) সবকিছুরই ভালো ও মন্দ উভয় দিক রয়েছে। মানুষেরও খারাপ ও ভালো দিক রয়েছে। সুখী মানুষ তার নিজের ইতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন থাকেনে। একজন মানুষ জানেন কোন কাজে তিনি দক্ষ আর কিসে অদক্ষ। তাই সবসময় নিজের সোয়াট (SWOT)করা উচিত। এতে আপনার সামর্থ্য(স্ট্রেন্থ),দুর্বলতা(উইকনেস),সুযোগ(অপরচুনিটি),হুমকি (থ্রেটস)ইত্যাদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারনা হবে, ফলে আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে।